শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১০:২৫ অপরাহ্ন

সংকট বিএনপির নয়, জাতির – ড.আসিফ নজরুল

সংকট বিএনপির নয়, জাতির – ড.আসিফ নজরুল

ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘মহাজালিয়াতি, মহাধাপ্পাবাজি ও মহাপ্রহসনের যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে কেউ যদি অংশ না নেয় তাহলে তাদের দোষ না দিয়ে যারা এই নির্বাচনের আয়োজন করল- তাদেরকে দোষ দেওয়া উচিত। তাই কেন বিএনপি পারল না, বা বিএনপি এখন কী করবে সে সব আলোচনা না করে উচিত জালিয়াত বা ধাপ্পাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলা। কিন্তু শুধু বিএনপি নয়, বাম দল থেকে শুরু করে গণমাধ্যম কেউই এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না। শুধু বিএনপির একলা দোষ দিলে চলবে না।
সংকট বিএনপির নয়, জাতির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলো তখন আওয়ামী লীগের কোনো মানুষ প্রতিবাদ করেনি কেন? কেউ কোনো মিছিল করেনি কেন? কেউ নামে নাই কেন রাস্তায়? ওয়ান-ইলেভেনে যখন দুই নেত্রীকেই গ্রেফতার করা হলো তখন সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় নাই কেন? নির্বাচিত সরকারকে যখন বন্দুক দিয়ে সড়িয়ে ক্ষমতায় আসে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারে নাই কেন? আসলে বাংলাদেশের জাতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে- যখন এমন ভীতি, এমন আতঙ্ক মানুষকে গ্রাস করে, তখন মানুষ সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করতে পারে না। নিশ্চয়ই তেমন কোনো পরিস্থিতিই আবার এসেছিল। এখন রেডিও-টেলিভিশনে একটাই প্রশ্ন করা হয় যে, বিএনপি কেন সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করতে পারল না। আসলে ভয়াল আতঙ্ক বা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে যার কারণে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। সেই রকমই একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলেই এত বড় একটা জালিয়াতির নির্বাচনের পরও মানুষ চুপ থাকছে। এটা শুধু বিএনপির সংকট নয়, এই সংকট বাংলাদেশের মানুষের, পুরো জাতির। কিন্তু সর্বত্রই এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আওয়ামী লীগ ভার্সেস বিএনপি।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে এখানে একটি পক্ষথ- তা সবাই ভুলেই যাচ্ছে। ’ আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার ছাত্রদের মধ্যে এমনও আছে যে তারা নৌকায় ভোট দিতে চেয়েও পারে নাই। সুলতানা কামাল পত্রিকায় ইন্টারভিউ দিয়ে বলেছে তার বাসার গৃহকর্মী নৌকায় ভোট দিতে চেয়েও পারেনি। এটা বাংলাদেশের মানুষকে চিট করা হয়েছে। এটা মানুষের বেদনা, মানুষের আর্তনাদকে মূল্য দিতে হবে। বিএনপি প্রতিবাদ করতে পারল না, সিপিবি পেরেছে? তারা তো সরাসরিই বলেছে ভুয়া নির্বাচন। আর গণমাধ্যম তো সব সময়ই নির্বাচনের সময় নানান ধরনের রিপোর্ট করে, তাহলে এবার কেন হলো না? যে আসনে আওয়ামী লীগ ৮ হাজারের বেশি ভোট পায় না সেখানে কীভাবে আড়াই লাখের বেশি ভোট পড়ল? যেখানে ইভিএমে ভোট পড়ল ৫৩ শতাংশ তাহলে অন্য খানে কেন ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ল? যেখানে সবসময় মার্জিনাল ব্যবধান হয় সেখানে কেন এবার অস্বাভাবিক বেশি ব্যবধান হলো? কেন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের রাখা হলো না? কেন মোবাইলের গতি স্লো করে রাখা হলো? এসব প্রশ্ন গণমাধ্যম করতে পারে না, এসব কারণেই বিএনপি প্রতিবাদ করতে পারছে না, বিএনপি নির্বাচনে যেতে পারছে না বা তথাকথিত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না, বা এখন তেমন কিছুই করতে পারছে না। ’

সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com