শুক্রবার, ১৪ Jun ২০১৯, ১১:১৮ অপরাহ্ন

খোলা আকাশের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া!

খোলা আকাশের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া!

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, স্কুলে নেই টয়লেট, নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১০৪নং বারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবেই দিনের পর দিন পাঠদান চলছে। ভবন মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সরেজমিন বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বেশ কিছু শিক্ষার্থী স্কুল ভবনের সামনে খোলা মাঠে বেঞ্চে বসে স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ইয়াসমিন খাতুনের কাছে পড়ছে।

স্কুল ভবনের পেছনে আশরাফ আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির পুকুর। সেই পুকুরপাড় ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। ১৯৭২ সালে স্থাপিত দীর্ঘ পুরনো এই স্কুলটি ২০১৩ সালে সরকারীকরণ করা হয়। ১৯৯৪ সালে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে সেখানে একটি পাকা ভবন নির্মাণ হয়। বর্তমানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ওই স্কুল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করছে।

এ ছাড়া স্কুলে নেই টয়লেট, নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এখানেই শেষ নয়, চাটমোহর-পার্শ্বডাঙ্গা প্রধান সড়কের পাশে বিদ্যালয়ের সামনে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় প্রায়শই ঘটে থাকে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তবে যে কোনো মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পুকুরে পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রাস্তা থেকে ভবনটি অনেক নিচু হওয়ার কারণে স্কুলের চারদিকে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। বর্ষকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানান বেশ কয়েকজন অভিভবক।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, পুকুরপাড় ভেঙে গিয়ে স্কুল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে বাইরে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া টয়লেট না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তিনি বলেন, গত বছর ভবন মেরামতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন দেয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নানা সমস্যা নিরুপণ করেছি। তবে বড় সমস্যা পুকুরপাড় ধসে যাওয়ার কারণে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সবাইকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগির এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com