বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০১৯, ০৯:১০ অপরাহ্ন

কুমিল্লার পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড়, ক্ষোভেরও শেষ নেই

কুমিল্লার পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড়, ক্ষোভেরও শেষ নেই

ঈদ-উল ফিতরের ছুটিতে কুমিল্লার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য গেছে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আসা হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমে কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলোতে। আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবারও সরকারি ছুটি থাকায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেশ দর্শীদের সমাগম ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দর্শকদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে নগরীর ধর্মসাগর পাড়ের নগর উদ্যান ও কোটিবাড়ি শালবন ও বৌদ্ধ বিহারসহ আশপাশের এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র। এসব পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পর্যটকদের চলাচলের রাস্তা ও জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন নিয়ে দর্শনার্থীদের রয়েছে চরম ক্ষোভ।

ঈদ উপলক্ষে কুমিল্লার কোটবাড়ি, শালবন বৌদ্ধ বিহার, কোটবাড়ি-সালমানপুর এবং এর আশপাশের এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা ৪টি আধুনিক মানের বিনোধন কেন্দ্র ময়নামতি যাদুঘর, আনন্দ বিহার, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, কুটিলামুড়া, রূপবান মুড়া, ইটাখোলামুড়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, চন্ডিমুড়া মন্দির, চারণপত্র মুড়া, ময়নামতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধিস্থল ময়নামতি ওয়্যার সিমেট্রি, রাণী ময়নামতিতে প্রাচীণ প্রাসাদ, লালমাই পাহাড়, গোমতী তীর, ধর্মসাগর, বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, নগর উদ্যান, নজরুল একাডেমী, নগরীর ঢুলিপাড়ায় ফান টাউন, সুয়াগাজি ড্রিমল্যান্ড পার্ক, লালমাই পাহাড়ে ব্লুওয়াটার পার্ক, লালমাই লেকল্যান্ড, কেটিসিসি পার্ক, জগন্নাথপুর মন্দির, রাজেশপুর ইকোপার্ক এলাকায় ছিল পর্যটকের ভিড়। সালমানপুর এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের বৃহৎ ম্যাজিক পার্ক, ডাইনোসর পার্ক ও ওয়াটার পার্কে।

ডাইনোসর পার্কে আছে ৫টি ডাইনোসর। কৃত্রিম ঝর্ণা বেষ্টিত প্রাগৈতিহাসিক যুগের দানবীয় চেহারার প্রাণীগুলোকে দেখানোই প্রধান কাজ। সুইচ টিপলেই ডাইনোসর গর্জন করে, লেজ নাড়ে আর চোখ ঘুরায়। মূলত দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতেই ডাইনোসর পার্ক প্রতিষ্ঠা করেন কুমিল্লার এইচএম আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া নামের এক ব্যবসায়ী। এখানে শিশু ও বড়দের নানা আকর্ষণীয় রাইডের পাশাপাশি পাহাড়, অক্টোপাস, ড্রাগন কোস্টার, জঙ্গল ক্যারাউজালসহ অসংখ্য দুঃসাহসিক আকর্ষণ রয়েছে। মাশফিকা হোল্ডিংস লিমিটেডের উদ্যোগে ১২ একর জায়গা নিয়ে এ পার্ক অবস্থিত। ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনোদন কেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে।

এছাড়াও জেলার দেবিদ্বারের এলাহাবাদে ত্রিশ আওলিয়ার মাজার, নগরীতে ভাষা সেনাপতি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সঙ্গীত সাধক শচীন দেব বর্মন, মহাত্মাগান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত অভয় আশ্রম, জেলার লাকসামের পশ্চিমগাঁও এলাকায় নারী জাগরণের পথিকৃৎ নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর বাড়ি, উপমহাদেশের সমবায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী ড. আকতার হামিদ খান প্রতিষ্ঠিত কোটবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) ও অভয় আশ্রম এলাকায় কেটিসিসি এলাকায়ও পর্যটকরা ভিড় জমান।

বার্ডের ভেতরে রয়েছে নীলাচল পাহাড়। যেখানে প্রকৃতির একদম কাছে বসে হৃদয়াঙ্গম করা যায় সুন্দরকে। কুমিল্লার অভয় আশ্রমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কেটিসিসি ক্যাম্পাসে রয়েছে শিশুপার্ক এবং নেউরায় ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা নুরজাহান ইকোপার্ক এলাকায়ও ছিল পর্যটকদের ভিড়। পর্যটকদের ভিড় ছিল কবি নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত মুরাদনগরের দৌলতপুর এবং সম্প্রতি চালু করা দ্বিতীয় গোমতী-মেঘনা সেতু ও গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর হোমনা-বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মোহনায় চালু করা দেশের একমাত্র ওয়াই সেতু এলাকায়।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com