রবিবার, ১৬ Jun ২০১৯, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

এতিম সন্তানের জন্য সংগৃহীত যাকাত-ফিতরার টাকাও চুরি !

এতিম সন্তানের জন্য সংগৃহীত যাকাত-ফিতরার টাকাও চুরি !

মো.আলাউদ্দীন,হাটহাজারীঃ
হাটহাজারীতে মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে এক অসহায় বিধবার সংগ্রহ করা যাকাত ফিতরার টাকা চুরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলার ৮নং মেখল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ আলী মোল্লা কাজী বাড়ীতে (প্রকাশ খলিফা পাড়া) ঘটনাটি ঘটেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়।
সূত্রে জানা গেছে, ঐ এলাকার মৃত মো. ইলিয়াছের স্ত্রী পারভিন মাস কয়েক আগে স্বামী কে হারিয়ে বিধবা হয়েছেন। বিধবা পারভিনের পরিবারের অবস্থা এতটাই করুন যে তাদের বসত ঘরের অবস্থা দেখলে চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না যে কেউ। জরাজীর্ণ ঐ বসত ঘরে পিতৃহারা ৪ সন্তানকে নিয়ে বৃষ্টির মৌসুমে না ঘুমিয়ে জেগে বসেই কোনোরকমে পার করতে হয় রাতগুলো। ঘরের চালা বেয়ে বাইরে পড়ার কথা যে বৃষ্টির পানি তা পড়ে সোজা বসত ঘরেই।
দরিদ্র স্বামীর রেখে যাওয়া পিতৃহীন চার এতিম সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই বিধবা পারভিনের। এদিকে ৪ সন্তানের ভরণ-পোষণ, খাবার-দাবার ও ঈদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করেছেন যাকাত-ফিতরা এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহযোগিতায় হাতে প্রায় হাজার বিশেক টাকা যোগাড় হয় তার। সংগ্রহ করা টাকা দিয়ে ৪ সন্তানের জন্য ঈদের জামা-কাপড় ও কিছু সেমাই-চিনি ক্রয় করেন বিধবা পারভিন। অবশিষ্ট থাকে প্রায় ৯ হাজার টাকা। তারমধ্যে ৪ সন্তান চার হাজার টাকার মতো সালামি পেয়েছে ঈদে। এসব টাকা খুব যত্ন করেই সামলে রেখেছিলেন আলমারিতে। কিন্তু এতিম অসহায় সন্তানদের জন্য রাখা সেই টাকার দিকেই চোঁখ পড়ে চোরের। অবশেষে রোববার (৯ জুন) গভীর রাতে তাদের ঘরে চোর প্রবেশ করলে পারভিন আক্তারের বড় মেয়ে ইফা মণি চোরের উপস্থিতি টের পায় । এদিক চোর তা বুঝতে পেরেই আলমিরাতে রক্ষিত টাকা
নিয়ে বসতঘরের মালামাল তছনছ করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরিদর্শনে যাওয়া হাটহাজারী অনলাইন প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্টাতা সভাপতি মো.আতাউর রহমান মিয়া (দৈনিক ইত্তেফাক) জানান, ঐ দৃশ্য দেখে আর সব শুনে কবির সেই কবিতাটাই মনে পড়ছিলো বারংবার – ” আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে। পেটটা ভরে পায় না খেতে, বুকের ক-খান হাড়, সাক্ষী দিছে আনাহারে কদিন গেছে তার।” ভাবতেই পারছিনা মানুষ যে এতটা নিচে নামতে পারে! এমন একটা পরিবারের টাকা কোনো মানুষ চুরি করতে পারেনা। যেই কাজটি করেছে সে পশুর চেয়েও অধম।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কান্না জড়িত কন্ঠে পারভিন আক্তার সাংবাদিকদের জানান, আমার এতিম সন্তানদের জন্য মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা টাকা যে চুরি করে নিয়ে গেছে তার বিচার আল্লাহ করবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com