শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

‘বারবার বলতেছে আবহাওয়া সুন্দর, আমি ঘুমায় গেছি’

‘বারবার বলতেছে আবহাওয়া সুন্দর, আমি ঘুমায় গেছি’

ঈদের ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার সময় চালকের অসাবধানতায় এই যাত্রীর মাথা ফেটে যায়। ছয়টি সেলাই দিতে হয় তাঁর মাথায়।

‘এতটুকু পরিমাণ তার গিলটি ফিলিংস (অপরাধবোধ) নাই যে তাঁর কারণে একজনের মাথা ফেটে গেছে। সে কনটিনিউয়াসলি বলতেছে যে বৃষ্টি হচ্ছে, আবহাওয়া সুন্দর, আমি ঘুমায় গেছি। আমি কী করব?’

আজ রোববার অভিযোগ করে কথাগুলো বলছিলেন শ্যামলী বাসের এক নারী যাত্রী। ঈদ শেষে ঢাকা ফিরছিলেন তাঁরা। এ সময় চালকের অসাবধানতায় এক যাত্রীর মাথা ফেটে যায়। ছয়টি সেলাই দিতে হয় তাঁর মাথায়। এ সময় বাসের চালক এ কথা বলেছেন বলে এই নারী অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি বলেন, ‘এত বাজেভাবে ড্রাইভ করছে। আমি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাথার মধ্যে ছয়টা স্টিচ (সেলাই) দেওয়া লাগছে।’

তবে গাড়িচালক বললেন, ‘একটা গর্তের ভেতরে গাড়িটার একটু সমস্যা তো। ব্রেকে পা দিছি, গাড়ি বন্ধ হইয়া গেছে। তো হাইড্রলিক গাড়ি তো, বন্ধ হইয়া গেলে হার্ড হইয়া যায়। আমি ডাইনে নিছি, আমি আরো বাঁচাইছি, যাত্রী তো আর বুঝে না।’

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। গত শুক্রবার থেকে ফেরা শুরু হলেও অফিস খোলা থাকায় সড়কপথে মানুষের মূল স্রোত শুরু হয়েছে আজ থেকে।

শুধু দেশের ভেতরেই নয়, অনেকে ঈদের ছুটি কাটাতে দেশের বাইরেও গিয়েছিলেন। সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি বেশ ভালোই কেটেছে তাঁদের। তবে ঢাকায় আসার পথে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি আর চালকের নিয়ন্ত্রণহীন চালনায় বেশ কষ্ট পেতে হয়েছে যাত্রীদের।

আরেক নারী যাত্রী বললেন, ‘শ্যামলী গাড়িটা খুবই খারাপ। এটা আমাদের যাওয়ার সময়েও ভোগাইছে। আসার সময়েও ভোগাইছে। কিন্তু ওইখানে আমরা খুবই এনজয় করছি। দার্জিলিং, ভুটান সব জায়গা খুব ভাল্লাগছে।’

এক যাত্রী জানালেন রাস্তায় যানজটের কথা। তিনি বলেন, ‘রাস্তার ওই দিকে প্রচুর জ্যাম ভাই, ঘাটের ওইপাশে। আমাদের ফরিদপুর থেকে, গোয়ালন্দ থেকে ঘাট পর্যন্ত জ্যাম।’

কয়েকটা দিন আনন্দে কাটানোর পর স্বজনদের ছেড়ে ঢাকায় ফিরতে মন না চাইলেও জীবিকার প্রয়োজনে ফিরতে হচ্ছে ঢাকাবাসীকে। কাউকে আবার ফিরতে হচ্ছে পড়াশোনার তাগিদেও। এক শিক্ষার্থী বললেন, ‘চলে আসছি। আজকে থেকেই ক্লাস শুরু। ১২টার সময় গিয়ে ক্লাস করা লাগবে।’

আরেক শিশু বলল, ‘সাঁতার কেটেছি, গোসল করেছি, সবার সাথে মজা করেছি। এখন একটু একা একা লাগবে। কিন্তু পড়ার মাঝে থাকলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে।’

এদিকে, কমলাপুর রেলস্টেশনে গত দুই দিনের তুলনায় আজ ঢাকাফেরত যাত্রীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। মূলত ট্রেনে ভ্রমণ তুলনামূলক আরামদায়ক হওয়ায় এ পথকেই বেছে নিয়েছেন অনেকে।

এ ছাড়া কর্মব্যস্ততার কারণে যেসব শ্রমজীবী মানুষ ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি, তাঁদেরও আজ  ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com