শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে বাল্য বিয়ের দায়ে জরিমানা ময়মনসিংহের ভালুকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জাতীয় শোক দিবস ভালুকায় যুবলীগ নেতার বাসাবাড়িতে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতিয়া ইউনিয়ন অর্নাস এসোসিয়েশন আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ভেলাগুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন সরকারের পাশাপাশি যুব সমাজকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে- কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু এমপি ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ্যাডভোকেট আঞ্জুমানআরা শাপলা ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওসি মোস্তাফিজার রহমান ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সাঈদ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাজী শরিফুল
কাকিনা আওয়ামীলীগের অচেনা রুপ বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকি পালন না হওয়ায় তৃর্ণমুলে ক্ষোভ

কাকিনা আওয়ামীলীগের অচেনা রুপ বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকি পালন না হওয়ায় তৃর্ণমুলে ক্ষোভ

কালীগঞ্জ(লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ

বিনম্র শ্রদ্ধায় সারাদেশে পালিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পতাকা উত্তোলন ও শোক র‌্যালীসহ নানা কর্মসূচী পালন হয়েছে দেশজুড়ে এমনকি বিভিন্ন স্থানে এখনো বিভিন্ন কর্মসূচী পালন হচ্ছে । যেহেতু আগষ্ট মাসকে শোকের মাস হিসাবে সরকার কর্তৃক ঘোষণা করা হয়েছে।

সারা দেশ ব্যাপি জাতির জনকের শাহাদৎ বার্ষিকি উদ্ যাপন হলেও একমাত্র জাতীয় শোক দিবসে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো কোন কর্মসূচী পালন করেনি। শুধু বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকি নয় গত কয়েক বছর যাবৎ জাতীয় কোন দিবস কিংবা দলীয় কোন কর্মসূচী তারা পালন করেন না।

কাকিনা ইউনিয়নে দলীয় কোন কর্মসূচী পালন না হওয়ায় সাধারণ জনগণ এবং তৃর্ণমুল কর্মীগণ মনে করেন দল ক্ষমতায় থাকায়  এবং দলীয় দ্বায়িত্বে যারা আছেন তারা মন্ত্রীর সঙ্গে সু-সম্পর্ক তৈরী করে নিজ স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকার কারণে দলের আজ দুরবস্থা। যারা দলীয় গুরুত্বপুর্ণ পদ আখড়ে ধরে আছেন তারা এখন শুধুমাত্র সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে মুখের কথায় খুশি রাখতে ব্যস্ত। গত ১৫ আগষ্ঠ কাকিনা দলীয় কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলীয় অফিসে তালা ঝুলছে। কার্যালয়টির সামনে ময়লা স্তুপে ঢেকে গেছে। বর্তমানে কার্যলয়টিকে গণসৌচাগার বললেও ভুল হবে না। এ যেন নতুন রুপে এক অচেনা আওয়ামীলীগ।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী’র সঙ্গে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমান সভাপতি তাহির তাহু এবং সাধারন সম্পাদক শহিদুল হক সহিদ অযোগ্য। এরা যত দ্রুত দলীয় পদ ছেড়ে দিবে ঠিক তত দ্রুত দলের জন্য মঙ্গল হবে।

প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মতিন খসরু বলেন, বর্তমান সভাপতি / সম্পাদক ব্যর্থ। তারা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার পরেও যদি চেয়ার ছেড়ে না দেন তাহলে তো টেনে হিচড়ে নামানো সম্ভব না!  দেখি তারা কি করেন।

ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান সভাপতি সম্পাদক সম্পর্কে কিছু বলে লাভ নেই। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি এসব দেখেও দেখেন না। সভাপতি /সাধারন সম্পাদক এখন আত্বীয় ও রক্তিয়করণে ব্যস্ত আছেন। এর প্রভাব পরবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের কয়েকজন নেতা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর এবং নুরুজ্জামান আহমেদ প্রতিমন্ত্রী’র দায়িত্ব পাওয়ার পর বর্তমান সভাপতি /সাধারন সম্পাদক নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত। প্রতিমন্ত্রী’র কাছে ভুল ভাল বলে তারা নিজ স্বার্থে আত্বীয় ও রক্তিয়করণে মহা ব্যস্ত। তারা দু:খের সহিত ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন,বর্তমান সভাপতি / সাধারন সম্পাদকের তৃর্ণমুল কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক নাই বললেই চলে। বর্তমান সভাপতি / সম্পাদক ব্যথিত আমরা প্রতিমন্ত্রীর নিকট পৌছিতে পারি না। যদিও বা শতকষ্টের পর কোন নেতা কর্মী প্রতিমন্ত্রীর নিকট পৌছে তাতে কোন কাজ হয়না। তৃর্ণমুল কর্মীরা মনে করেন আসন্ন জাতিয় সংসদ নির্বাচনে ফসল ঘরে তুলতে হলে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে বিলম্ব না করে দলের মধ্যে আগাছা পরিস্কার করে ত্যাগী নেতা কর্মীদের সঠিক মুল্যায়ন করতে হবে। তারা প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি মহোদয়ের এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, সব জায়গায় সব কথা বলতে নেই। তারা ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করছেন। সভাপতি / সাধারণ সম্পাদকের মোটেও দোষ নেই। বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি তাহির তাহু। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের অত্যান্ত কাছের মানুষ তিনি। আমরা তৃর্ণমুল কর্মীরা যতই সত্য কথা বলি না কেন কোন কিছু লাভ্ হবে না। সভাপতি মহোদয় যাই বলবেন তাই হবে এবং হচ্ছে। আর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সহিদ সম্পর্কে বলতে গেলে আমি নিজেও একটু বিব্রত হয়ে পরি। কারণ আজকে শহিদুল হক সহিদ দু- দুবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের পরিচয়ে। তিনি যখন চেয়ারম্যান ছিলেন না তখন কর্মীদের সঙ্গে কিছুটা সম্পর্ক ছিলো। আজ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তৃর্ণমুল কর্মীদের সঙ্গে তার মোটেও সম্পর্ক নেই। তাছাড়া নেতা কর্মীদের দেখলে তিনি এমন ভাবখানা দেখান মনে হয় তার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেয়েছে।এতেই বুঝতে হবে তৃর্ণমুল কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না মন্দ।

কাকিনা আওয়ামীলীগ ছিলো এক সময় উপজেলার মধ্যে শক্তিশালী সংগঠন। আজ এতটাই দুর্বল যে জাতির জনকের শাহাদত বার্ষিকি পর্যন্ত পালন হয় না। অথচ সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের বক্তব্য শুনলে মনে হয় শুধুমাত্র ওনারাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বাকি গুলো সব স্বার্থের কারণে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন করেন ।

ফারুক হোসেন বলেন , আওয়ামীলীগ সর্বশেষ ক্ষমতায় আসার পর কাকিনা আওয়ামীলীগে একটা উন্নতি হয়েছে আর তা হচ্ছে কিছু ভুইফোর নেতা গজিয়েছে এবং মুজিব কোর্ট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ মহোদয়’র কাছে যে, সমস্ত নেতা কান কথা বলে তাঁকে সন্তোষ্ট করছেন সেই সমস্ত  নেতার কথায় কিন্তু তৃর্ণমুলকর্মীরা ইতিমধ্যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া অনেকেই মনে করেন কিছু নেতার আত্বীয়করণ, রক্তিয়করণ, গাছাড়া মনোভাব এবং ব্যক্তি স্বার্থ’র কারণে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন আজ মৃত।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন পালক পোলা ও ঘর জামাইদের দখলে চলে গেছে, ত্যাগী নেতা কর্মীরা আজ দলের সুবিধা থেকে বাহিরে আর ঘর জামাইরা ভাব দেখায়, নীতিনৈতিকতা’র কোন বালাই নেই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কোন নমুনা নেই অার ভাবের কোনো অভাব নেই অথচ এরাই হলো আজকের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র ধর্তাকর্তা।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com