বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতিয়া ইউনিয়ন অর্নাস এসোসিয়েশন আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ভেলাগুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন সরকারের পাশাপাশি যুব সমাজকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে- কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু এমপি ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ্যাডভোকেট আঞ্জুমানআরা শাপলা ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওসি মোস্তাফিজার রহমান ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সাঈদ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাজী শরিফুল ইউএনও রবিউল হাসানের ঈদ শুভেচ্ছা ময়মনসিংহের ভালুকায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুেন্নছা মজিব এর ৮৯ তম জন্মবাষিকী উপলক্ষে উঠান বৈঠক ঢাকায় যুবরাজ, দাম ৩০ লাখ!
চীন উইঘুরদের দমন, মুসলিম বিশ্ব কেন চুপ?

চীন উইঘুরদের দমন, মুসলিম বিশ্ব কেন চুপ?

চীনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নির্যাতন বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে থেকে চাপ আসলেও, কোনো মুসলিম দেশের সরকারই এখনও বেইজিংয়ের গুরুতর সমালোচনা করেনি।

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে জাতিসংঘ জানায়, তারা ‘বিশ্বস্ত খবরে’ জানতে পেরেছেন চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে ‘পুনরায়  শিক্ষিত করার শিবির (রি-এডুকেশন ক্যাম্প)’ বা বন্দীশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো এই বিষয়ে এখনও কোনো লক্ষণীয় বিবৃতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সাংসদরা এই সপ্তাহে চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আবেদন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানানোর পর, মুসলিম বিশ্বের নেতাদের এই নিরবতা আরও দৃষ্টিকটু হয়ে উঠেছে।

সিনেটর মার্কো রুবিও এবং ক্রিস স্মিথ বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, তারা আশা করছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলিতভাবে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরাম বিভিন্ন সংস্থায় বিষয়টি উত্থাপন করবে।

কিন্তু এর বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ও পাকিস্তান কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সৌদি আরবও দেয়নি। এমনকি তুরস্কও, যারা কিনা আগে তুর্কি ভাষাভাষী উইঘুরদের অনুকূল নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সেখানে অল্প সংখ্যক উইঘুর সম্প্রদায়ের লোক থাকলেও, রজব তৈয়ব এরদোয়ান এবিষয়ে নীরব রয়েছেন।

বহু মুসলিম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যের অংশীদার এবং সহায়তা প্রদানকারী দেশ হিসেবে চীনের কিভাবে লাভবান হচ্ছে তা এই বিভাজনে ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে অন্যদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য প্রদান না করার যে কৌশল চীন গ্রহণ করেছে সেটিও এখন তাদের কাজে লাগছে।

উইঘুরদের নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটছেও চীনের প্রত্যন্ত এলাকা জিনজিয়াংয়ে, যেটা  ব্যাপকভাবে পুলিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একারণে সেখান থেকে এমন কোনও ছবি বা ভিডিও জোগাড় করা যাচ্ছে না যা দিয়ে মুসলিম বিশ্বের মতামতকে প্রভাবিত করা যায়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাহরির ইন্সিটিউটের সিনিওর ফেলো হাসান হাসান বলেন, ‘সাধারণভাবে চীনের সঙ্গে বেশিরভাগ মুসলিম দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। জিনজিয়াংয়ে কী ঘটছে তা মুসলিম বিশ্বের লোকেরা প্রায় জানেই না। আরবীয় গনমাধ্যমগুলোতে এটা নিয়ে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে না। এমনকি জিহাদিরাও অন্যান্য সংঘাতের বিষয়ে সচেতন থাকলেও এটা নিয়ে তারা তেমন কথা বলেন না।’

চীন জিনজিয়াংয় প্রদেশে সমস্যার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে অবস্থিত প্রদেশটিতে প্রায় এক কোটি উইঘুর বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার বেইজিং মার্কিন আইন প্রণেতাদের চীনের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে সতর্ক করে দিয়েছেন।

বর্ণবৈষম্য নির্মূলে কাজ করে যাওয়া জাতিসংঘের একটি কমিটি বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, জিনজয়াংয়ে বন্দীশিবিরে আটকদের সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে দশ লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। যাদের আটকে রাখা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানায় ওই কমিটি । একইসঙ্গে তারা বন্দীদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ এবং ধর্ম-বর্ণ ও জাতির ভিত্তিতে বৈষম্যের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানায়।

ওই অঞ্চলে উইঘুরদের সম্পৃক্ততায় মারাত্মক কয়েকটি হামলার পর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মুসলিম চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে ‘প্রথমে আক্রমণ (স্ট্রাইক ফার্স্ট)’ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয় মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টির কিছু সদস্য সিরিয়ায় সন্ত্রাসী দলের হয়ে লড়াই করছে।

কমিউনিস্ট পার্টির একটি পত্রিকায় উইঘুরদের বিরুদ্ধে ওই অভিযানের সমালোচনার জবাবে বলা হয়, এর ফলে জিনজিয়াং আরেকটি সিরিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।

উইঘুরদের বিষয়ে নীরবতার চিত্রটি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের দমন অভিযানের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের চিত্রের ঠিক বিপরীত।  গত বছর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান শুরু করলে রাখাইন রাজ্য থেকে সাত লক্ষ রোহিঙ্গা প্রাণ পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ এই দমন অভিযানকে ‘গণহত্যার’ সামিল বলে মন্তব্য করেছে। এই দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, মিয়ানমারের অর্থনীতি চীনের অর্থনীতির ১৮০ ভাগের এক ভাগ মাত্র। অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) ৫৭ সদস্য দেশের মধ্যে ২০ টির সঙ্গেই চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে।

সৌদি আরবের থেকে রপ্তানিকৃত তেলের দশ ভাগের এক ভাগ এবং ইরানের তেলের তিন ভাগের একভাগ চীনে যায় বলে জানিয়েছে মার্কিন পত্রিকা ব্লুমবার্গ। মালয়েশিয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রধান উৎস চীন। একই সঙ্গে দেশটি চীনা-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর প্রজেক্ট অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ছয় হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ঋণ দিয়েছে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com