মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৪১ অপরাহ্ন

পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত

পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত

টেলিভিশনে যে সব অনুষ্ঠান মালা দেখে দর্শকরা আনন্দে মেতে উঠেন সে সকল ক্যামেরার পিছনের কারিগরদের অফুরন্ত ধৈর্য আর গবেষণায় নান্দনিকতার রূপে দৃষ্টিনন্দন করে তোলায় “ভিডিও সম্পাদক” এর কাজ। মিডিয়া পাড়ায় খুব পরিচিত ব্যতিক্রম একজন ভিডিও সম্পাদক এম এ রশিদ যিনি বহু বছর ধরে রাজত্ব করে আছেন মিডিয়ায়। সমসাময়িক মিডিয়া সম্পর্কের অবস্থা নিয়ে কথা বলছেন মোঃ সাইদুল ইসলাম

প্রশ্ন : কেমন আছেন ?
এম এ রশিদ : আলহামদুল্লিাহ ভালো আছি।
প্রশ্ন : ফ্রিল্যান্সে এই পেশাদারিত্বের কি রকম চ্যালেঞ্জিং করতে হয় ?
এম এ রশিদ : কথা হলো কেউ কারো জায়গায় আসেনা। বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। নানা ধরনের সমস্যার সমাধান বের করতে হয়। ফ্রিল্যান্স এর কাজ একটু চ্যালেঞ্জের। এটা নির্ভর কর আপনার উপর কতটুকু কন্ট্রোলিং করার ক্ষমতা আপনি রাখেন। তবে আমি মনে করি চ্যালেঞ্জিং শব্দটি কঠিন হলেও সমাধানযোগ্য ও ভবিষ্যতের সুফল চাবীকাঠি। দুটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ দেয়া উচিৎ (১) প্রযুক্তির পরিবর্তন হলেই নিজেকে পরিবর্তন করতে হয় (২) ক্লায়েন্ট হারানোর চ্যালেঞ্জ। তবে জীবনে সুনাম অর্জন করতে হলে কিছু জিনিস সবার থেকে একটু আলাদা ভাবে ভাবতে প্রয়োজন হয়। কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকতে হবে। লুকায়িত শক্তি সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত করে প্রতিটি বিষেয়ে চেষ্টা করতে হবে, হতে হবে অধ্যবসায়ী।

প্রশ্ন : একজন ভিডিও সম্পাদক এর কী কী গুন থাকা উচিৎ?
এম এ রশিদ : গুনের কথা গুলো হলো-একজন সম্পাদকের অফুরন্ত ধৈর্য থাকতে হবে। হাজারো ভুল সংশোধনের উদ্যম থাকতে হবে। অসাধারণ পর্যবেক্ষন ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে এবং উপভোগ করতে হবে দেশি-বিদেশী সিনেমা, নাটক এবং বিভিন্ন টেলিভিশন দেখতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে থাকতে হবে।
প্রশ্ন : নতুন ভিডিও সম্পাদকদের কাজের প্রতিবন্ধকতা কী ?
এম এ রশিদ : সবার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা আছে; আর এটা থাকবেই । যে জিনিস সহজে পাওয়া যায় কোনো বাধা থাকে না, ওই পাওয়ায়তৃপ্তি পাওয়া যায় না। তাই জীবনে কিছু করতে হলে বাধা আসবেই। সেই বাধা ডিঙিয়ে সামনে যেতেহবে। যারা বাধা ডিঙিয়ে সামনে এসেছে তারাই সফল হয়েছে।
প্রশ্ন : কোন দুঃখ কি তাড়িয়ে বেড়ায় ?
এম এ রশিদ : সেটাতো তাড়া করে। মিডিয়া একটি মাত্র পেশা যেটি জীবনের স্বর্বশো দিয়ে নিজের যৌবন বিষর্জন দিয়ে অন্যের ভালো লাগাটা ও অন্যের দৃষ্টিনন্দন করে তুলে জুগ জুগ কাজ করে যাচ্ছে “ভিডিও সম্পাদক”রা কিন্তু কোন পত্র-পত্রিকা বা মিডিয়া তাদের কাজের প্রতিফল ও ভালোমন্দ নিয়ে লেখার কেউ নেই। অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও কাজ যা ঘিরেই দর্শনার্থীদের আনন্দ ও বিনোদন বিবেচনা করা হয়। এই কষ্ট টুকু মাঝে মাঝে তাড়িয়ে বেড়ায়।

প্রশ্ন : আপনার সম্পাদনায় কাজ গুলো কি নিজে দেখেন বা দেখা হয় ?
এম এ রশিদ : হুম আমার প্রতিটি কাজ দর্শনার্থীদের চেয়ে বেশি উপভোগ করার চেষ্টা করি। কারণ যত বেশি দৃষ্টিতে পড়বে নিজের কাজ তত বেশি ভুলগুলো ভেষে উঠবে। তাই বেশি বেশি দেখার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন : এফডিসি তে যেতে মন চায়না ?
এম এ রশিদ : অনেক সময় আমার খুব খারাপ লাগে। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের অনেকেই এখন আর নেই বিভিন্ন পেশাদারিত্ব ও এই পেশা ছেড়ে চলে গেছে গ্রামে। আর টিভি চ্যানেল এ চাকুরি নিয়ে সেরকম সময় হয়ে উঠে না।
প্রশ্ন : আপনার সম্পাদনা শেষ কাজটি কোনটি ছিল ?
এম এ রশিদ : সিনেমা বলতে গেলে শাকিব খান ও অপু বিশ^াস অভিনিত ও পরিচালনায় শাফি উদ্দিন শাফি “ভালোবাসা এক্সপ্রেস” সম্পাদনায় তৌহিদ হোসেন চৌধুরী ও অনলাইন সম্পাদনা আমি ছিলাম এবং নাটক আদিবাসি মিজান এর পরিচালনায় ও মোশারফ করিম ও চিত্রনায়ক আমিন খান অভিনিত- হাতবদল, আসিতেছে তারাখান ও চোখ।

প্রশ্ন : বর্তমানে কোন টিভিতে কাজ করছেন ?
এম এ রশিদ : দুরন্ত টিভিতে আছি।

প্রশ্ন : দুরন্ত টিভিতে কাজের মান কেমন ?
এম এ রশিদ : দুরন্ত টিভিতে কাজের মান বললে কি বলবো- বাংলাদেশে একটি মাত্র টিভি চ্যানেল ১-২ মাসের মধ্যে টিআরপি ১ নম্বরে এসেছে। এখানে প্রতিটি কাজ প্রচুর গবেষনা করতে হয় । শিশুদের জন্য অনুষ্ঠানমালা সাজালেও পরিবারের সকলের জন্যই চিন্তা চেতনায় এক একটি অনুষ্ঠান মালা তৈরি হয়।

প্রশ্ন : জীবনের সেরা অর্জন কোনটা মনে হয় ?
এম এ রশিদ : আমার মনে হয় এখনো অনেক কিছু করার বাকি । ভিডিও সম্পাদকদের নিয়ে একটি সংগঠন তৈরি করেছি “ ভিডিও সম্পাদক কল্যান সমিতি” ভিডিও সম্পাদনা এটি এমন একটি পেশা একসময় এসে শারিরিক ও মানসিক সব কিছু প্রতিবন্ধকতা ও অক্ষম হয়ে পরে থাকতে হয়। তাই এই ভিডিও সম্পাদক কল্যান সমিতি সবার পাশে থাকবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে এটাই আশাবাদী। আমার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হয়না। অনেক পুরস্কার পেয়েছি বহু সংগঠন থেকে সঙ্গে লাখো মানুষের ভালোবাসা তো আছেই।
প্রশ্ন : এত ব্যস্ততার মাঝে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এম এ রশিদ : আপনাকে ধন্যবাদ।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com