রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

জোটের প্রশ্নে বিএনপির দিকে তাকিয়ে এরশাদ

জোটের প্রশ্নে বিএনপির দিকে তাকিয়ে এরশাদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে জাতীয় পার্টি। তবে নির্বাচনী কোনো জোটে জাতীয় পার্টির যাওয়া না যাওয়া নির্ভর করছে বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার সিদ্ধান্তের ওপর।এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন খোদ চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের যে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়, তাতেই এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, আমরা কারো কাছে সিট চাইবো না, মন্ত্রী সংখ্যাই বা আমরা কেন চাইবো। আমরা বিরোধী দল বা সরকারের অংশীদার হওয়ার জন্য তো রাজনীতি করছি না। রাজনীতি করছি ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

তিনি বলেন, এবার আমরা সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করবো। নির্বাচনী রাজনীতিতে জোট করা যায়। কিন্তু এবার আমরা কারো সাথে আগ বাড়িয়ে জোটে যাওয়ার কথা কেন বলবো? কেউ যদি ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়, তাহলে তারাই আমাদের সঙ্গে জোটে আসবে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদ বলেন, রওশনের বক্তব্যে আমি খুশি হয়েছি, উৎসাহিত হয়েছি। আমরা এবার নিজেরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো। প্রয়োজন হলে আরও বৃহৎ জোট করবো। তবে এটা নিশ্চিত, এবার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেই জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে সভায়। ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে সভা থেকে। যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তাহলে জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের চেয়ারম্যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সংসদ সদস্য জানান, সভায় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। যদি কারও আগ্রহ থাকে আমাদের সঙ্গে জোট করার সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির স্বার্থ রক্ষা করেই সে জোটে যেতে হবে। ওই সংসদ সদস্য আরও জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি শুনীল শুভ রায় স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথসভার সিদ্ধান্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, এখন থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে ৩০০ আসনেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করুক বা না করুক সেদিকে জাতীয় পার্টি ফিরে তাকাবে না। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

সভায় বলা হয়, জাতীয় পার্টি অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে আর ব্যবহৃত হবে না। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি নিজেরাই ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। তার জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় যেসব জেলায় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেখানে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্মেলন সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় আরও বলা হয়, নির্বাচনের জন্য উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন বাদেও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটিও গঠন করতে হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভায় পার্টির কর্মসূচি অবহিত করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের এই যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য- ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নু, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা প্রমুখ।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com