শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর গতি বাড়াতে বিস্তৃত হচ্ছে উন্নয়ন

রাজধানীর গতি বাড়াতে বিস্তৃত হচ্ছে উন্নয়ন

মেট্রোরেল ছাড়া চলমান রয়েছে ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ
ঢাকার বাইরে যাতায়াত সহজে বেশ কয়েকটি চারলেন প্রকল্প
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে ঢাকার সার্বিক চিত্র

ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, প্রবেশ ও নির্গমন, মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে সরকার। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প (এমআরটি), দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প (বিআরটি), তিনস্তর বিশিষ্ট লিংক রোড, আটটি রেডিয়াল সড়ক, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে এবং ২১টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব নির্মাণ। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে বর্তমান সরকারের নেয়া এসব প্রকল্পের ওপর জাগো নিউজ’র ধারাবাহিক তিন পর্বের প্রতিবেদনের প্রথমটি থাকছে আজ।

দিন যত যাচ্ছে রাজধানীর গতি তত কমছে। ঢাকা মহানগরীর অচলাবস্থায় জনজীবনও স্থবির হয়ে পড়ছে। মানুষ আর যানবাহনে ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। উন্নয়নের স্পন্দন যেখানে সচল থাকার কথা, সেই রাজধানীই দিনদিন থমকে যাচ্ছে। অচল এ রাজধানীকে সচল করতে এবার নেয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। উন্নয়নের শাখা প্রসারিত করে আধুনিক রাজধানী গড়ার প্রত্যয়ে কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

এরই অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন হয়েছে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প। স্বপ্নের পদ্মা সেতুও রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় মাইলফলক হবে। এর বাইরে পরিকল্পনায় রয়েছে বড় বরাদ্দের একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শুধু কথায় নয়, বাস্তবেই বদলে যাবে রাজধানীর চিত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত ও গতিশীল করতে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, নবীনগর ডিইপিজেড-চন্দ্রা-যাত্রাবাড়ি-কাচঁপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, মিরপুর ফ্লাইওভার, হাতিরঝিল, হানিফ ফ্লাইওভার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার, বনানী ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে।

চলমান এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সড়ক পথে চাপ কমবে। এর মাধ্যমে যেমন যানজট কমবে, তেমনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণে জ্বালানি ও সময়- উভয়ই সাশ্রয় হবে। কম সময়ে পণ্য পৌঁছানোয় অর্থনৈতিকভাবেও দেশ লাভবান হবে। উন্নত সড়কে উন্নত যানবাহনের প্রচলন বাড়বে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার হারও অনেকাংশে লাঘব হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকায় যানজটের কারণে গত ১০ বছরে গাড়ির গড় গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে কমে সাত কিলোমিটারে নেমে এসেছে। যেখানে হেঁটে চলার গড় গতি প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার। শুধু যানজটের কারণেই ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

এই স্থবিরতা থেকে উদ্ধারে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বেশকিছু মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার সরকার করেছে, সেটার পথে এগিয়ে যেতেই আমাদের এসব প্রয়াস।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী ঢাকা হবে সিঙ্গাপুর নগরীর মতো উন্নত। এ নিয়ে যথেষ্ট পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসলে এসব পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন সহজ হবে।’

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com