রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

হাটহাজারীতে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে যুবতীর গলিত লাশ উদ্ধার : আটক ১

হাটহাজারীতে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে যুবতীর গলিত লাশ উদ্ধার : আটক ১

হাটহাজারী(চট্টগ্রাম)সংবাদদাতাঃ
হাটহাজারীতে কলি আক্তার (১৭) নামে এক নিখোঁজ যুবতীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ । বুধবার ১৭ অক্টোরব রাত প্রায় দশটার দিকে উপজেলার মির্জাপুরের ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চারিয়া গ্রামের দানু মিয়া কোম্পানীর ফাইভ টু ফাইভ ব্রীক ফিল্ডের অস্থায়ী টয়লেটের রিং দিয়ে তৈরি ট্যাংকি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নাম্বার ২৫/১৮/১০/১৮ ইং। উদ্ধার করা লাশটি উক্ত ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের খিল্লা পাড়া তুফানের বাড়ির চুট্টু মিয়ার কন্যার বলে জানা গেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনতা উলে­খিত এলাকার টয়লেটের ট্যাংকে একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর এবং ওসি (তদন্ত) মো. শামীম শেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিশোরীর গলিত লাশটির সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক)হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করার পর অভিযুক্ত তিন সন্তানের জনক নজরুল ইসলাম প্রকাশ মিঠুকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত মিঠু মির্জাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া স›দ্বীপ কলোনীর মো.ইউছুপ মিয়ার পুত্র।
নিহত কিশোরীর মামা মো.শহিদ সাংবাদিকদের জানান, প্রায় এক বছর ধরে মির্জাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া স›দ্বীপ কলোনীর মো.ইফনুচ মিয়ার ছেলে তিন সন্তানের জনক নজরুল মিঠু নামে এক বখাটে কিশোরী কলি আক্তারকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এমনকি বিয়ের প্রস্তাবও করেছিল। কিন্তু ওই বখাটে বিবাহিত হওয়ার কারণে নিহতের পরিবার ও কলি আক্তার তিন সন্তানের পিতা মিঠুর প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। এলাকায় জানাজানি হলে মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে কাউকে কিছু জানাইনি। আশা ছিল ওই বখাটে কলিকে বাসায় পৌঁছে দেবে।
মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৈনিক ইত্তেফাক কে জানান,এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি ।
প্রসঙ্গত, নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার শাহাজালাল পাড়ার একটি ভবন থেকে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নেয়ামত আলী সারাং বাড়ির আবু তৈয়বের মেয়ে এবং হাটহাজারী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম সুলতানা তুহিনের (১৩) গলিত লাশ একই ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুমের সোফার নিচ থেকে বস্তা বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছিল থানা পুলিশ। তুহিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ওই ভবনের ভাড়াটিয়া পৌর এলাকার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মো.শাহাজাহান সিরাজের ছেলে শাহানেওয়াজ মুন্না বর্তমানে আটক করে কারাগারে প্রেরন করা হলেও প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আটক করা যায়নি এ হত্যা মামলার ২ ও ৩ নং আসামীকে। গত মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর মুন্না তুহিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিল।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com