বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:১২ অপরাহ্ন

অভাবে পড়ে সন্তান বিক্রি

অভাবে পড়ে সন্তান বিক্রি

ভোলায় অভাবের তাড়নায় নিজ গর্ভে ধারণ করা সন্তান বিক্রি করে দিলেন মা। ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে।

ভিক্ষুকের মত মহিলা কাঁদছে আর হাঁটছে। এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে এই প্রতিবেদকের। কাঁদছেন কেন জানতে চাইলে উত্তরটি এমন হৃদয় বিদারক হবে তা কেইবা জানত।

তিনি বলেন, আমি এক হতভাগি মা তাই কাঁদছি। কি কারণ জানতেই উত্তর দিল ভিক্ষা, কান্নার কারণটা বলবেন? হয় আমার ৪ টি সন্তান ছিল। ছোট্টটির বয়স ছিল ৭ মাস। নাম রেখেছিলাম ইমা। অভাবে পড়ে তাকে আমি বিক্রি করে দিয়েছি।

যিনি সন্তান বিক্রি করেছেন তার নাম মরিয়ম। মরিয়ম আনন্দ বাজার সংলগ্ন আ. রবের কন্যা। পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর তুলাতলি এলাকার বাসিন্দা ছিদ্দিক চাপরাসির পুত্র কামালের স্ত্রী।

মরিয়ম জানান, বিগত নয় মাস পূর্বে ইমার জন্মের আগেই ৩ টি সন্তানসহ তাকে কিস্তির টাকার ঋণ করে ফেলে চলে যায় তার স্বামী কামাল। কিস্তির দায় ও শারীরিক অসুস্থতা ক্রমেই ঘিরে ফেলে তাকে। এরই মধ্যে তার কোল ঝুড়ে আসে আরো এক কন্যা সন্তান ইমা।

কষ্টের অমানিশায় আরো ঘিরতে থাকে তাকে। এমন সময় পালক দিয়ে দেয় ২য় সন্তান মীমকে। কান্না ভারি হতে থাকে ক্ষুধার জ্বালা। অবশেষে শুরু করি ভিক্ষাবৃত্তি। কিন্তু সন্তান কোলে নিয়ে হাটতে পারি না, সন্তানটি দুধ পায় না, রোগা অইয়্যা যায়। তাই বিক্রি করার ইচ্ছা পোষণ করি।

সন্তান বিক্রির টাকা কি করেছেন জানতে চাইলে মরিয়ম বলেন, ঋণের টাকা পরিশোধ করেছি এবং চিকিৎসা করাইছি। এখন ভিক্ষা করি, আর দুই সন্তান নিয়া গুচ্ছ গ্রামে থাকি।

আমার এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ার বাসিন্দা আবুু তাহের আমার মেয়েকে ক্রয় করতে সম্মতি প্রকাশ করেন। অভাবি মা মরিয়মের সাথে কথা বলে ১৭ অক্টোবর ২০ হাজার টাকায় তার মেয়েটিকে ক্রয় করেন। আবু তাহের বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটে চাকরি করেন বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘ ৭ বছর আগে বিয়ে করেন। তার কোন সন্তান-সন্ততি নেই। তাই তিনি মরিয়মের মেয়েকে ২০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার কোন সন্তান-সন্ততি নেই। তাই একটি সন্তানের আকাঙ্খা ছিল দীর্ঘদিনের। আমি এবং আমার স্ত্রী বাবা-মা’র ডাক শোনা ছিল আকাঙ্খিত। ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতুলি এলাকার বাসিন্দা কামালের স্ত্রী একটি সন্তান বিক্রি করবেন শুনে সেখানে যাই। সন্তানে মা মরিয়ম এর সাথে কথা বলে ২০ হাজার টাকার মাধ্যমে তার সন্তান ইমাকে ক্রয় করি। আমাদের দীর্ঘদিনের বাবা-মা ডাক শোনার শুন্যতা লাঘব হলো। আমরা এই সন্তানকে নিজেদের সন্তানের মতই লালন-পালন করবো।

তবুও মা বলে কথা! নাড়ি ছেড়া ধন বলে কথা। যত দুরেই থাক, যত ভালো এবং সুখেই থাক মা কিন্তু তা মানতে পারেন না। তাই হতভাগী ওই মা সন্তানের কথা মনে হলেই একা একা কাঁদতে থাকেন নিজের অজান্তেই।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com