বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৯, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতিয়া ইউনিয়ন অর্নাস এসোসিয়েশন আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ভেলাগুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন সরকারের পাশাপাশি যুব সমাজকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে- কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু এমপি ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ্যাডভোকেট আঞ্জুমানআরা শাপলা ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওসি মোস্তাফিজার রহমান ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সাঈদ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাজী শরিফুল ইউএনও রবিউল হাসানের ঈদ শুভেচ্ছা ময়মনসিংহের ভালুকায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুেন্নছা মজিব এর ৮৯ তম জন্মবাষিকী উপলক্ষে উঠান বৈঠক ঢাকায় যুবরাজ, দাম ৩০ লাখ!
ময়মনসিংহের ভালুকায় সংরক্ষিত বন ভূমি দখলে হড়িলোট নির্মিত হচ্ছে শতাধীক বহুতল ভবন ও পাকা বাড়ী

ময়মনসিংহের ভালুকায় সংরক্ষিত বন ভূমি দখলে হড়িলোট নির্মিত হচ্ছে শতাধীক বহুতল ভবন ও পাকা বাড়ী

আশিকুর রহমান শ্রাবণ বিশেষ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ী বিটের অধিনে অবৈধ ভূমি দখলকারীরা অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নির্মান করছে শতাধিক বহুতল ভবন ও পাকা বাড়ী ফলে উজার হয়ে যাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সরজমিনে দেখা যায়, ভালুকা রেঞ্জ অফিসের পাশেই ওই গ্রামের হিরা মিয়া, জসিম উদ্দিন, হিরণ খা নির্মান করছে ১৮৫নং দাগে বহুতলা বিশিষ্ট পাকাবাড়ী। এছাড়াও একই দাগে আর সিসি পিলার দিয়ে সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন শহিদ মিয়া। একই মৌজায় লবন কোঠা গ্রামে ৮৭ দাগে সংরক্ষিত বন ভূমিতে পাকাবাড়ী নির্মান করছে ঐ গ্রামের হাজী মোসলেম উদ্দিন, সোহাগ মাষ্টার, বাবুল মিয়া, সিরাজ উদ্দিন, আজিজুল ইসলাম সহ অনেকেই ৮৫ দাগে পোল্ট্রি ফার্ম নির্মান করছে তোফাজ্জল হোসেন। ৯দাগে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে মোস্তফা, মোক্তার হোসেন, খোরশেদ আলম, মোবারক তালুকদার, তাজ উদ্দিন, রেহানা আক্তার। একই মৌজায় হবিরবাড়ী গ্রামের ২০৩ দাগে শাহিন মিয়া ও ইব্রাহীম হোসেন সহ একাধিক পাকাবাড়ী নির্মান করছে। এ অবৈধ দখলদার বহুতল ভবন ও পাকাবাড়ী নির্মানকারীদের কাছ থেকে স্থানীয় বন কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে ২০ হাজার থেকে লক্ষাদিক টাকা পর্যন্ত । এই টাকার ভাগিদার হন জেলা পর্যায়ের বন কর্মকর্তারাও, ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার ভূমি রাজস্ব। এই ভাবে স্থানীয় বন কর্মচারীরা হবিরবাড়ী বিটের সংরক্ষিত বন ভূমি নাম মাত্র মূল্যে তুলে দিচ্ছে অবৈধ দখলদারদের হাতে। ভালুকা উপজেলায় ভালুকা ও উথুরা রেঞ্জের অধিনে ৫ টি বিটে প্রায় ২৪ হাজার একর সংরক্ষিত গেজেট ভূক্ত বনভূমি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে বন বিভাগের হিসাবনুযায়ী তা ৮ হাজার একরে দাড়িয়েছে। বাকী ১৬ হাজার একর বনভূমি চলে গেছে অবৈধ দখলদারদের হাতে। এ সব বহুতল ভবন ও পাকাবাড়ী নির্মান প্রসঙ্গে হবিরবাড়ী বিট কর্মকর্তা আব্দুর রফিক জানান, হবিরবাড়ী বন ভূমি আমি এখানে আসার অনেক আগেই বেহাত হয়েছে, নতুন করে কেউ জবরদখল করতে চাইলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব । তাছাড়া আমাদের জনবল কম থাকায় জঙ্গল তদারকি করতে করতে এসব দেখার সময় হয়ে উঠেনা। ভালুকা রেঞ্জ অফিসার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এই সংরক্ষিত বনভূমি পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যাচ্ছে। তবে তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সংরক্ষিত বন ভূমিতে বহুতল ভবন ও পাকাবাড়ী নির্মান করছে তাদের বিরোদ্ধে বন আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হবিরবাড়ী মৌজার ১৮৫, ১১৯ ও ৯ দাগে সংরক্ষিত বনভূমিতে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত শহর। সচেতন মহলের ধারনা এ বিষয়টি দেখার মত বন বিভাগের কোন দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তা নেই। বহুতল ভবন ও পাকাবাড়ী নির্মানকারীরা জানান, বন কর্মচারীদের চাহিদানুযায়ী উৎকুচ দিয়ে তারা এ সব স্থায়ী বহুতল ভবন ও পাকাবাড়ী নির্মান করছেন। এলাকাবাসীর মতে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক দূনীর্তির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বনের রাজা খ্যাত ওসমান গনির উত্তরসূরীরা এখনো বন বিভাগে কর্মরত রয়েছে। এদের কারনে ভালুকার গেজেট ভূক্ত সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ ভাবে শিল্পপতি ও ভূমি দস্যুদের হাতে চলে যাচ্ছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্তক ভাবে বিগ্নিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে সরেজমিনে তদন্ত করে এসব সংরক্ষিত বনভূমি উদ্বার ও অবৈধ দখলদারদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এব্যপারে ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপসহকারী বন সংরক্ষক তাবিবুর রহমান জানান, নতুন করে বন ভূমি জবরদখল হচ্ছে না, যারা স্থাপনা নির্মাণ করছেন তাদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com