শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে এবং জনসেবায় নিবেদিত প্রাণ এএসআই তরিকুল

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে এবং জনসেবায় নিবেদিত প্রাণ এএসআই তরিকুল

 

মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুলঃ
মগবাজার এলাকার দিলু রোডের বাসিন্দা মিসেস মালেকা পারভিন। তাঁর ব্যবহৃত ইনফিনিক্স এক্স-৫৭৩ মডেল মোবাইলটি হারিয়ে গেলে তিনি জিডি করেন হাতিরঝিল থানায়।

গত রবিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯) হাতিরঝিল থানা থেকে ফোন করা হয় মিসেস মালেকা পারভিনকে। তাঁকে জানানো হয় তাঁর হারিয়ে যাওয়া ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

মিসেস মালেকা পারভিন বিশ্বাসই করতে পারেননি যে তাঁর ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। আনন্দ মাখা বিস্ময় নিয়ে তিনি বলেন, “হারিয়ে যাওয়া ফোন পাওয়া যায়! আজবতো!”

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন হাতিরঝিল থানার চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই তরিকুল ইসলাম।

গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ তে মধুবাগ ব্রিজ থেকে হারিয়ে যাওয়া স্যামসাং জে-২ মডেলের একটি মোবাইলের বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় জিডি করেন মোবাইল মালিক রাজিব। জিডির সূত্র ধরে, গত বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯) মোবাইলটি উদ্ধার করে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোঃ ফজলুল করিমের উপস্থিতিতে মোবাইলটির মালিক রাজিবের হাতে তুলে দেন এএসআই তরিকুল।

শুধু মিসেস মালেকা পারভিন কিংবা রাজিবের মোবাইল নয়, বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে এএসআই তরিকুল মোবাইল ফোন হারানোর জিডির সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এপর্যন্ত শতাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সেগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

এএসআই তরিকুল বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। জনসেবামূলক যেকোনো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে আমি আনন্দ পাই।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যতদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখবেন জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব আবু মোঃ ফজলুল করিমের নির্দেশনা এবং সার্বক্ষণিক প্রত্যক্ষ তদারকীতে জনগণের জানমাল রক্ষায় যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনিসহ হাতিরঝিল থানা পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান এএসআই তরিকুল।

শুধু হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার নয়, এএসআই তরিকুল দায়িত্ব পালনকালে সর্বদা সচেতন থাকেন। সম্প্রতি বাড়ির ঠিকানা ভুলে গিয়ে হাতিরঝিল এলাকায় দিগবিদিক ঘুরতে থাকা জুঁই নামের এক শিশুকে উদ্ধার করে নিজ দায়িত্বে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

শুধু জুঁই নয়, গত বছরের ০৭ সেপ্টেম্বর হারিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধা নারীকে উদ্ধার করে ওই নারীর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন এএসআই তরিকুল।

এর আগে ০৮ জুন ২০১৮ তে সুজন নামের হারিয়ে যাওয়া এক ছেলেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন তিনি।

একই বছরের ২৮ মার্চ এক ছোট ছেলেকে রাস্তায় কাঁদতে দেখে মোহাম্মদপুর থানায় নিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। এএসআই তরিকুল তখন মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। ছোট ছেলেটি তার বাবার নাম ছাড়া কিছুই জানতোনা। দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর ছেলেটি জানায় তার বাসার পাশে ময়লা পানিতে নৌকা চলে। এরপর এএসআই তরিকুল তাঁর বাইকে করে ওই ছেলেকে নিয়ে ছেলেটির বাসা খুঁজতে থাকতে থাকে। অবশেষে ছয় ঘণ্টা খোঁজার পর ছেলেটির বাসা খুঁজে পায় এবং তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।

গত ১২ জুন ২০১৮ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের ইসলামী ব্যাংক থেকে নাসিমা নামের এক নারী দুই লাখ টাকা তুলে বের হচ্ছিলেন। বের হওয়ার সাথে সাথেই দুই ছিনতাইকারী তার ওপর হামলে পড়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।

এই দৃশ্য চোখে পড়ে তৎকালীন মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত এএসআই তরিকুল ইসলামের। তৎক্ষনাৎ তিনি ছিনতাকারী দুইজনকে প্রতিহত করেন। এরপর ওই নারীকে টাকাসহ উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেন তিনি। এএসআই তরিকুলের এই সাহসী পদক্ষেপের ঘটনা সেসময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং তিনি সকল মহলে প্রশংসিত হন।

জনগণের জানমালের সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এএসআই তরিকুল ইসলাম বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ডের সঙ্গেও জড়িত। বেশকিছু অসহায়-দুস্থ ছেলেমেয়ের যাবতীয় সকল ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন পুলিশের মানবিক এই সহকারী উপ-পরিদর্শক।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com