রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকরা মোটেই সাংঘাতিক নয়: নওশাবা

সাংবাদিকরা মোটেই সাংঘাতিক নয়: নওশাবা

কাজী নওশাবা আহমেদ। ছোটপর্দার এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজ করেন বড়পর্দাতেও। গত বছর মুক্তি পায় নওশাবা আহমেদ অভিনীত ‘স্বপ্নের ঘর’ ছবি। নওশাবা নিজেও শখের বশে হাত দিয়েছেন পরিচালনায়। নানা প্রসঙ্গে নওশাবা কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে।

‘শুনতে হাস্যকর হলেও সত্য’

শুনতে হাস্যকর হলেও সত্য যে, আমি এর আগে জীবনে কখনো ভয়ের ছবি দেখিনি। আমার জীবনের প্রথম ভূতের ছবি দেখা এবং প্রথম অভিনয় করা ছবি হচ্ছে স্বপ্নের ঘর।’

‘আমার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে শুটিং স্পট থেকেই’

শুটিং শুরুর কয়েক দিন পরে আমাকে কাস্ট করা হয়। মূলত শুটিং শুরু করার পর এই চরিত্রে আর্টিস্ট পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শিমুল খান আমাকে অফারটা করে। পরে ওরা ফোন দেয়। আমি রাজি হই। এই চরিত্রটা একবার সাদা, একবার কালো হয়। আমি পরিচালককে বলেছি আমি কাজ শেখার জন্য রাজি আছি।পরিচালক বললেন আপনি আসুন এবং আমাকে প্রশ্ন করেন আমি আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেব। আমি শুটিং স্পটেই পরিচালককে প্রশ্ন করে করে নিজের চরিত্রটা বুঝে নিয়েছি। আসলে আমার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে শুটিং স্পট থেকেই। আর আমি আসলে ভূতে ভয়ও পাই না। অনেকেই আছে না যে ভূতে ভয় পায়। আমি সেরকম না। আমি ওখানে যাওয়ার পর একদমই জিরো থেকে শুরু করি। আমার তৈরি হওয়ার শুরুই হয়েছে শুটিংয়ের মাঝপথে। যেহেতু মেয়েটি ব্ল্যাক ম্যাজিক করে তাই আমি সব সময় কালো পোশাক পরে থাকি। আর মেয়েটি যেহেতু কম কথা বলে তাই আমিও অনেক কম কথা বলতাম। এমনকি শুটিং স্পটের কারও সঙ্গেও যেন কথা না বলতে হয় সে জন্য তখন গল্পের বই পড়েছি। কিন্তু ভূতের বই পড়িনি। কারণ আমি যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হই। আমি কাদামাটি হিসেবে ছিলাম। অংশু আমাকে যেভাবে গড়ে তুলেছে সেভাবেই গড়ে উঠেছি।

‘আমি কখনোই সন্তুষ্ট না’

আমি কখনোই সন্তুষ্ট না। আমার মনে হয় যে আমি যদি আরও দিতে পারতাম। আমার ভালো লাগছে যে, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ মুক্তির পর তিন বছর চলে গেছে। তিন বছর পর আমি আমার দর্শকদের জন্য নতুন একটা কিছু দিতে পেরেছি।

‘গ্রাফিকসের পুরো কাজটাই দেশের লোকেরাই করেছে’

দর্শক হিসেবে ছবিটি দেখে আমি নিজেই ভয় পেয়েছি। এই ছবিটা শুধু ভয় দেখায়নি, যে গল্পটা বলেছে সেটাও উল্লেখ করার মতো। লোভ বা নিজের জন্য যখন আপনি অন্যকে বিসর্জন দেন, অন্ধকারে ফেলে দেন তার পরিণতি কি হবে। এই মেসেজটাই হরর দিয়ে গ্রাফিকস দিয়ে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা এই ছবিতে আপনারা যা যা দেখতে পেয়েছেন তার কোনো কিছুই দেশের বাইরে হয়নি। সবকিছুই বাংলাদেশে হয়েছে। কিন্তু যেই দেখেছে সেই বলেছে এটা কি ইন্ডিয়া থেকে করা হয়েছে? কালার গ্রেডিং, মিউজিক কি বাইরের? না। এটার পুরো কাজটাই দেশের লোকেরাই করেছে। ফলে দর্শকদের বাহবা’র পুরোটাই দেশের মানুষদের জন্য।

‘আমি নিজেকে না বলতে পারি’

একটা বিষয় আমি, নিজেকে লাকি মনে করি। আমি কম লোভী। আমি নিজেকে না বলতে পারি। আমার মন না বললে আমি কখনোই কোনো ছবিকে হ্যাঁ বলিনি। আমি অনেক সময় বাসায় বসে থেকেছি। দুই তিন বছর কাজ না করেও বসে থেকেছি। কিন্তু যেনতেন ছবিতে কাজ করিনি। আমি চেয়েছি আমার ‘ঢাকা অ্যাটাকে’র চেয়ে ভিন্ন কিছু হতে হবে। আর ‘আলগা নোঙর’ কিন্তু আমার প্রথম রিলিজ ছবি হওয়ার কথা ছিল। কারণ ওটা কিন্তু আমার প্রথম ফিল্ম। কোনো সন্তানের সঙ্গে যেমন আরেক সন্তানের তুলনা করা যায় না, তেমনি আমার একটা ছবির সঙ্গে আরেকটা ছবির তুলনা করব না। আলগা নোঙরে যখন কাজ করি তখন ছবি সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমি তখন শিখছিলাম। আস্তে আস্তে সিনেমাকে ভালোবেসে ফেলি। একটা ক্যারেক্টারের ভেতর বুঁদ হয়ে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলি। আলগা নোঙরে আমি শিশু ছিলাম। এখন আমি হামাগুড়ি দিচ্ছি। আমি দৌড়াব আরও অনেক পরে। তো আমার কথা হচ্ছে আমি যেহেতু কচ্ছপ গতিতে এগোচ্ছি, কচ্ছপ গতিতেই থাকতে চাই। আমি বলব আমার সিনেমায় জন্ম হয়েছে আলগা নোঙর দিয়ে। আমি সিনেমাকে ভালোভাবে শিখেছি আলগা নোঙর থেকে।

‘নিশ্চয় পরিচালকের কোনো একটা অঙ্ক আছে’

আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে আলগা নোঙর কবে মুক্তি পাবে। আমি যতটুকু জানি এই ছবির সবকিছুই রেডি। আমার একটা বিষয় যে আমার কাছে যে ছবিগুলো আসে সবগুলোই নতুন পরিচালকের ছবি। যেমন ওয়াহেদ তারেকের প্রথম ছবি ‘আলগা নোঙর’, তানিম রহমান অংশুর প্রথম ছবি ‘স্বপ্নের ঘর’, দীপঙ্কর দীপনের প্রথম ছবি ছিল ‘ঢাকা অ্যাটাক’। সবারই কিন্তু প্রথম ছবি। আর আলগা নোঙর ঠিক কবে মুক্তি পাবে সেটা আমি বলতে পারব না। আমার মনে হয় নিশ্চয় পরিচালকের কোনো একটা অঙ্ক আছে ছবিটি রিলিজ দেওয়ার ব্যাপারে। তিনি সেভাবেই দেবেন। তবে যতটুকু শুনেছি এই বছরে ছবিটি আসতে পারে।

‘আমি নাচ আর রং ঢং-ও করতে পারি’

আমি মনের সায়ে চলি। আমি কিন্তু কমার্শিয়াল ছবিও পেয়েছি। কিন্তু আমার মন সায় না দিলে কাজ করি না। আমি সব ধরনের চরিত্রে কাজ করতে পারি। আমি রাস্তার ফকিরও হতে পারি, প্রেগন্যান্ট মহিলাও হতে পারি, আবার ভূতও হতে পারি। আর আমি যেহেতু নাচ বা রং ঢংও পারি ফলে কমার্শিয়াল ছবিও করে ফেলতে পারি। সে ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ছবির জন্য যেটা দরকার সেটাও আমি করে ফেলব।

‘মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কোথাও না কোথাও নিজেকে সমর্পণ করতে হয়’

এর মধ্যে আমি একটা ধৃষ্টতা করেছি। আমি একটা পরিচালনা করেছি। আমি একটা শর্টফিল্ম বানিয়েছি। ৫০ পারসেন্ট শুট হয়েছে। ডিরেকশন এবং কনসেপ্ট আমারই। সত্যি কথা বলতে মানুষ যখন কষ্ট পায় বা শিক্ষা পায় সেটা যাই হোক না কেন। মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কোথাও না কোথাও নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। তো আমি সমর্পণ করেছি শিল্পের কাছে। এবং ওই কাজটা করতে গিয়ে যাদের কাছে আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ বিশেষ করে আমার বাবা এবং বন্ধুরা। এই মানুষগুলোর কাছে আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ। এদের নিয়ে একটা প্ল্যাটফর্ম করেছি ‘টুগেদার উই কেন’। এখানের সদস্য আমার বাবাসহ সাতজন বন্ধু। ওই ঘটনার পর আমি যখন ভেঙে পড়ছিলাম তখন এই মানুষগুলো মিলে বলল যে, তুই তো শিল্পী মানুষ, তুই শিল্পের কাছে যা। আমি জাস্ট এটার মাধ্যমে নিজেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

নওশাবা পরিচালক হতে যাচ্ছে সেটা না। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য এই কাজটা করেছি। আমার মনে হয়েছে আমি কিছু সৃষ্টি করতে চাই। সৃষ্টির আনন্দ পেতে চাই। আমার এই ‘স্বপ্নের ঘর’ সিনেমা আমার কাছে দোয়ার মতো। এই ছবির জন্যই আপনাদের সঙ্গে আবারও কথা হচ্ছে। মানুষজন আমাকে আমার শিল্পের কারণে আমাকে আবারও আলিঙ্গন করছে।

আর আমি যে শর্টফিল্মটা বানাচ্ছি সেটাও হচ্ছে আলোর খোঁজে। এতেও আসলে নিজেকে খুঁজছিলাম। কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই এটা করেছি। আমার মানে হয়েছে এটা ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। ওইখানে আমি কিন্তু অভিনয়ও করেছি। তো ওইটা করার পর আমার মনে হয়েছে এইটা ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। আমার শিল্পী সত্তা বাঁচানোর জন্যই এটা করেছি।

‘সাংবাদিকরা মোটেই সাংঘাতিক নয়’

বিপদে মানুষ চেনা যায়, বন্ধু চেনা যায়। আমি আমার সাম্প্রতিক বিপদে সেটা হাড়ে হাড়ে চিনেছি। আমি একটা জিনিস শুধু আপনাকে বলতে চাই। আমি আপনাদের জার্নালিস্টদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কারণ আমাকে যে সাপোর্ট জার্নালিস্টরা দিয়েছে। সত্যি বলতে কি এটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি কি বলব আমি এত সাপোর্ট পেয়েছি আপনাদের কাছ থেকে। এবং সাইলেন্ট সাপোর্টও। যেই আমাকে দেখেছে সেই বলেছে আরে আপনি তো ব্যাপক ভালো মেয়ে। আপনাকে জার্নালিস্টরা খুবই পছন্দ করে। এটা আমার জন্য আসলে কত বড় পাওয়া এটা বলে বোঝাতে পারব না। সত্যিই আমি যেখানেই গেছি সেখানেই শুনেছি জার্নালিস্টরা সবাই পছন্দ করে। এটা আমার জন্য কত বড় পাওয়া এটা বলে বোঝাতে পারব না। আমার আব্বু সেদিন বলতেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে, শুধু প্রিন্ট মিডিয়া নয়, অনলাইন ইলেকট্রিক মিডিয়া সবাই আমাকে সাপোর্ট করেছে। এটা একটা বিশাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা বলি না যে সাংবাদিকরা আর শিল্পীরা কখনো বন্ধু হতে পারে না। বা বলে না যে সাংবাদিকরা হচ্ছে সাংঘাতিক। এ রকম না। সাংবাদিকরা মোটেই সাংঘাতিক নয়। আমার ক্ষেত্রে এটা টোটালই ডিফরেন্ট হয়েছে। যে সাংবাদিকের সঙ্গেই দেখা হবে তাকেই বলবেন নওশাবা আপনাদের ধন্যবাদ দিয়েছে।’

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com