সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

৭১ এর গণহত্যার স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ, আশ্বাস জাতিসংঘের

৭১ এর গণহত্যার স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ, আশ্বাস জাতিসংঘের

ঢাকা: একাত্তরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে এ বিষয়টি আলোচনায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েং।

রোববার (২৪ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অ্যাডামা ডিয়েং এ আশ্বাস দেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত নেমে আসে। বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই রাতে অপারেশন সার্চলাইট চালায়। আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা।

২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকাণ্ডই ছিল না, এটি ছিল বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলঙ্কজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র। এরপর ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে এসেছিল বাংলাদেশের বিজয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সেই থেকে দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

প্রেস সচিব জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কীভাবে এ দেশে গণহত্যা শুরু হয়েছিল, এদেশের সাধারণ মানুষকে কীভাবে নির্বিচারে হত্যা করেছিল পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ও এদেশে তাদের দোসরেরা, সে বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তুলে ধরেন।

মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখের বেশি নারী নির্যাতিত হয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন, সে বিষয়গুলোও শেখ হাসিনা জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারিকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের জেনোসাইডের বিষয়টা রেইজ করবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাডামা ডিয়েং। তিনি (অ্যাডামা ডিয়েং) বলেছেন, তখন হয়ত কিছু দেশ এর বিরোধিতা করতে পারে।’

ইহসানুল করিম জানান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়েছে। আমাদের সরকার নারীর ক্ষমতায়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।’

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ‘নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরেন জানিয়ে ইহসানুল করিম বলেন, “তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আপনি বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক।”

বৈঠকে নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেও সরকার সেগুলো ‘কঠোরভাবে দমন করেছে’ বলেও জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারিকে জানান শেখ হাসিনা।

প্রেস সচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেভাবে সহায়তা দিয়েছে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে অ্যাডামা ডিয়েং রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করার কথা বলেন।’

তিনি (অ্যাডামা ডিয়েং) বলেন, ‘বাংলাদেশ একা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। সে প্রচেষ্টা আমরা নিয়েছি। আমরা চাই ওই ঘটনায় (মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়ন) যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। রোহিঙ্গারা ফিরে যাক। সেখানে একটা শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠুক।’

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com