শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

হাটহাজারীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে নকল ঘি ও ভেজাল দুধ তৈরীর কারখানার সন্ধান !

হাটহাজারীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে নকল ঘি ও ভেজাল দুধ তৈরীর কারখানার সন্ধান !

মো.আলাউদ্দীন,হাটহাজারীঃ
হাটহাজারীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে নকল বাঘা বাড়ী ঘি তৈরীর কারখানা থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের নকল ঘি,কৌটা এবং নকল ঘি তৈরীর বিভিন্ন উপাদান জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মাদ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

সূত্রে জানা যায়, পৌরসদরস্থ ১১ মাইল এলাকার কবির চেয়ারম্যানের ভাড়া বাড়ীর এ নকল ঘি তৈরীর কারখানায় পামওয়েল, রঙ, ফ্লেভার, সুজি এবং গাম দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরী করা হচ্ছিল বাঘাবাড়ী স্পেশাল খাটি গাওয়া ঘি, গোল্ডেন এস.পি,গোল্ডেন পি. এম,গোল্ডেন স্পেশাল, আর এস রাজেশ ঘোষ সুপার বাঘাবাড়ি নামক নকল ঘি। তৈরী করা এসব নকল ঘি স্থানীয় বাজার ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাটবাজার ও দোকানে বাজারজাতকরণ করে আসছিলো কারখানাটির মালিক। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে কারখানাটির সন্ধান পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কারখানা থেকে পাঁচটি ব্রান্ডের প্রায় ৩ শত লিটার ভেজাল ঘি, ১ হাজার টি খালি কৌটা এবং নকল ঘি তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত।হাটহাজারীতে বাঘা বাড়ি নামক ঘি এর ভালো চাহিদা থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে
অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব নকল ঘি তৈরী করে যাচ্ছে। ডালডা, ঘি’ও ফ্লেভার(মাছের খাবার), হলুদ রঙ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছিলো এসব নকল ঘি। এসব ঘি এর সাথে বাবুর্চির টোকেনও আছে, যার পেছনে লেখা আছে ২০০ টাকা।

স্থানীয়রা জানান,বাবুর্চিদের কমিশন সিস্টেম চালু করায় তারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের রান্নার কাজে বাজারের লিস্টে এসব নকল ঘি কেনার জন্য
উৎসাহিত করেন। তাদের দাবী, শুধুমাত্র জরিমানা আদায় করে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেয়ার কারনেই তাদের এসব ২ নাম্বারী ব্যবসা বন্ধ
হচ্ছেনা। যার কারনে তারা পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। যদি তাদের অর্থদন্ডের সাথে কারাদন্ডেও দন্ডিত করা যেতো তবে হয়তো পুনরায় তারা এসব অপরাধে জড়ানোর সাহস পেতোনা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.নিয়াজ মোর্শেদ সহ হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালানোর সময় সাথে থেকে ভ্রাম্যমান আদালতকে সহযোগীতা করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার আমান বাজার এলাকার জয়নব ক্লাবের পশ্চিম পাশে মোতালেব ভবনের ২য় তলার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরীর একটি কারখানার সন্ধান পায় ভ্রাম্যমান আদালত। পরে অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় কারখানার মালিক আরিফ হোসেন ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জানা যায়, ঐ বাসায় প্রতি রাতে পাউডার দুধ গুলে ১৫০ থেকে ১৮০ লিটার তরল দুধ তৈরি করতো কারখানাটির মালিক আরিফ। পরে সকালে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ৮০ লিটার গরুর দুধের সাথে রাতে গুঁড়ো দুধ দিয়ে তৈরী করা তরল দুধগুলো মিশিয়ে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে,বাসায় এবং প্যাকেটজাত করে দীর্ঘদিন ধরে খুচরা বিক্রি করে আসছিল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন,
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com