শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

বিষ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় রশি পেচিয়ে প্রেমিককে হত্যা

বিষ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় রশি পেচিয়ে প্রেমিককে হত্যা

সিলেটের মদন মোহন কলেজের শিক্ষক সাইফুর রহমান হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই আসামি। সোমবার দুপুরে সিলেট মেট্টোপলিটন তৃতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের সামনে তারা এ স্বীকারোক্তি দেয়। আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতকের আলমপুর গ্রামের মোজাম্মিল হোসেন (২৪) ও নগরীর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনীম রূপা (২০)।

সিলেটের এমসি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাম্মেলের বাড়ি ছাতক উপজেলায়। আর শাহপরান এলাকার শফিকুর রহমানের মেয়ে রূপা একই কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা দু’জনেই এমসি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্য। অন্যদিকে নিহত সাইফুর ওই কলেজের রোভার স্কাউট গ্রুপের সাবেক সিনিয়র রোভারমেট ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গত শনিবার রাতে সাইফুর রহমানকে নিয়ে নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার হোটেল মেহেরপুরে ওঠেন রূপা। হোটেলে ওঠার পর রাতেই সাইফুরকে বিষ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন রূপা। এরপর গলায় রশি পেচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

মৃত্যু নিশ্চিতের পর রূপা হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষে (রিসিপশন) এসে জানান, তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, হাসপাতালে নিতে হবে। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক রূপার প্রেমিক মোজাম্মিল হোসেন একটি অটোরিকশা নিয়ে হোটেলের সামনে আসেন। পরে ওই অটোরিকশায় করে রূপা, মোজাম্মিল এবং চালক মিলে সাইফুরের লাশ দক্ষিণ সুরমায় সড়কের পাশে ফেলে আসেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই এলাকার সড়কের পাশ থেকে প্রভাষক সাইফুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোজাম্মিল ও রূপাকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার নিহতের মা রনিফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া দু’জনকে দুপুরে আদালতে হাজির করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দু’জনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাসায় লজিং থেকে রূপাকে পড়াতেন সাইফুর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি মোজাম্মিলের সাথে প্রেমে জড়ান রূপা। এতে বাধা দেন সাইফুর। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোজাম্মিল ও রূপা পরিকল্পনা করে সাইফুরকে হত্যা করেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, সাইফুরের লাশ উদ্ধারের পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এতে প্রেম ঘটিত বিষয়টি উঠে আসে। আসামিদের আদালতে হাজির করলে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন জানিয়ে তিনি বলেন, পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com