মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে জাবি ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বললেন ওবায়দুল কাদের কাশ্মীরে সেনাক্যাম্প থেকে মধ্যরাতে ভেসে আসে বুকফাটা আর্তনাদ ময়মনসিংহের ভালুকায় নারী ছিনতাইকারী চক্রের ৮ সদস্য আটক ময়মনসিংহের ভালুকায় নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীর মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান হাটহাজারীতে ভূমি অফিসের ফাইল বিক্রি হচ্ছে দোকানে ! ময়মনসিংহের ভালুকায় নারী সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার আফগানিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ জাতিসংঘের কাছে কাশ্মীরি শিশুদের নিরাপত্তা চাইলেন মালালা সারদা পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ঢামেকে নবজাতককে রেখে পালালেন মা-বাবা
আবাবিলদের ইতিহাস

আবাবিলদের ইতিহাস

এক.

সময়টা ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ। মক্কার পার্শ্ববর্তী ইয়েমেনের শাসক আবরাহা। আল্লাহ তাকে দিয়েছিলেন একচ্ছত্র ক্ষমতা ও শক্তি। ক্ষমতার দাপটে আবরাহার ইচ্ছা হলো ইয়েমেনের রাজধানী সানাতে সে কাবার অনুরূপ কিছু একটা তৈরি করবে। অতঃপর সারা পৃথিবী থেকে মানুষ হজ পালন করতে মক্কার পরিবর্তে সানায় যাবে। নাগরিকদের জুলুমের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ এবং উন্নয়ন কর্মীর কোনো অভাব না থাকায় তা যথাসময়ে তৈরিও হয়ে গেল।
কিন্তু বাদ সাধল, সারা পৃথিবীর মানুষ। হজ পালনের জন্য তাদের ধর্মীয় পিতা ইব্রাহীম আ:-এর তৈরি ঘর কাবা থেকে কোনোক্রমেই সানার কাবায় যাচ্ছিল না। এতেই একসময় ক্ষেপে যায় দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আবরাহা! সিদ্ধান্ত নেয় ইব্রাহীম আ:-এর কাবা ভেঙে ফেলতে হবে! সিদ্ধান্ত মোতাবেক সৈন্য-সামন্ত নিয়ে কাবা অভিমুখে রওয়ানা হয় সে। সাথে ৯-১৩টি শক্তিশালী হাতি। পথিমধ্যে প্রভাবশালী কুরাইশ বংশের নেতা আবদুল মোত্তালিব [রাসূল সা:-এর পিতামহ] আবরাহার পথরোধ করে দাঁড়ালেন। সতর্ক করলেন আবরাহাকে। তাকে বললেন, এমন বিপজ্জনক কাজ থেকে বিরত থাকতে। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে উন্মত্ত আবরাহাকে থামানো গেল না। তবে যাত্রাপথে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাল হাতিগুলো। হাতিগুলোর দৃষ্টি সীমানার মধ্যে পবিত্র কাবা শরিফ আসার পর তারা আর অগ্রসর হতে চাইছিল না। তাই তারা হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। চতুর আবরাহা হাতিগুলোর অভিপ্রায় বুঝতে পেরে ওগুলোর মুখ ঘুরিয়ে অন্যমুখী করল। তারপর তাদের খাওয়াল ভালো ভালো খাবার। উপরন্তু কিছু খাবার কাবামুখী পথে ও কাবা প্রাঙ্গণেও জমা করে রাখল।

আল্লাহ তার প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য শিক্ষণীয় কিছু একটা দেখানোর জন্যই বোধকরি হাতিগুলোকে সেই রক্ষিত খাবারগুলোর প্রতি অনুরক্ত হওয়ার পথে আর বাদ সাধলেন না। তাই খাদ্যলোভী হাতিগুলো এবার জোর কদমেই এগোতে থাকল কাবার দিকে। মক্কার বিশ্বাসী কিন্তু দুর্বল মানুষগুলো দু-হাত তুলে ফরিয়াদ জানালেন আসমান ও জমিনের মালিক আল্লাহর কাছে। বললেন, ‘ইয়া রাব্বুল আল-আমীন! একমাত্র তুমিই পার এই দানবের হাত থেকে আমাদের প্রাণপ্রিয় কাবা ঘরটিকে রক্ষা করতে।’ ধৈর্যশীল আল্লাহ তাঁর ধৈর্যকে আর প্রলম্বিত করলেন না। তাঁরই সৃষ্ট সর্ববৃহৎ স্থলপ্রাণী হাতির সমন্বয়ে গঠিত ও বিবিধ সমরাস্ত্র সজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি পাঠালেন তাঁর অতি ক্ষুদ্র প্রাণী ‘আবাবিল’ পাখিকে। অস্ত্র হিসেবে তাদের সাথে দিলেন প্রতি পাখির হাতে-পায়ে বহনযোগ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোড়ামাটির তৈরি শক্ত ঢিল। ঝাঁকে ঝাঁকে তারা উড়ে এলো বৃহদাকার হাতি ও সুসজ্জিত সেই বাহিনীর হামলা প্রতিরোধে, দু’হাতে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র দু’টি ঢিল নিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গবাদি পশুর খাদ্য, গমের ভুসি তুল্য বস্তুতে পরিণত হলো শক্তিশালী সেই বাহিনী ও হাতিগুলো। অতঃপর বাতাসে উড়তে লাগল সেই ভুসি! রক্ষা পেল পবিত্র কাবা ঘর। আর তার কিছু দিন পরই এই পৃথিবীতে সুখ ও শান্তির প্রতীক হিসেবে আগমন ঘটল আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ-সা: এর। পৃথিবীর মানুষগুলোর জন্য শেষ নবী হিসেবে। এটি কোনো মানুষ্য রচিত গল্প-কাহিনী নয়। নয় কোনো মতলববাজ ঐতিহাসিকের বর্ণনা। এ বর্ণনা স্বয়ং আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর। যিনি তা করেছেন পবিত্র সুরা-১০৫; আল-ফিলের মাধ্যমে। যেখানে কোনো এক ইস্যুতে নিরাশ রাসূল-সা:কে তিনি সান্ত্বনা-সাহস দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক কাবাঘর ধ্বংস করতে আসা হাতিওয়ালাদের সাথে কী আচরণ করেছিলেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল-পাখি। যারা সেই হাতিওয়ালাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর তিনি সেই হাতিওয়ালাদের পরিণত করেছিলেন ভক্ষিত ভুসির ন্যায়।’

দুই.
আচ্ছা! আমরা কি আমাদের বর্তমান দুনিয়ার অনেক দেশের অবস্থার সাথে সেই দিনের ঘটনাটা একটু মিলিয়ে বা তুলনা করে দেখতে পারি? যেমন ০১. ইয়েমেনের সেদিনের শাসক এবং অনেক দেশের স্বৈরশাসকের সাথে? ০২. সমগ্র মুসলিম জাতির প্রাণপ্রিয় পবিত্র কাবাঘরের অস্তিত্বের মতো অনেক দেশের প্রাণপ্রিয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বেব অস্তিত্বের সাথে? ০৩. সেদিনের আবদুল মুত্তালিবের সতর্কীকরণের সাথে বর্তমান দুনিয়ার অনেক বোদ্ধাজনের ও মানবাধিকার সংস্থার নিষেধ ও সতর্কীকরণকে? ০৪. ওই ৯-১৩টি হাতির সাথে স্বৈরশাসকদের অপরিসীম রাষ্ট্রীয় শক্তিতে বলিয়ান হওয়া কুমতলবি শাসক কর্মকর্তার সাথে? প্রশ্ন হচ্ছে ওসব দেশের দেশপ্রেমিক তরুণেরা কি হতে পারবেন না সেই আবাবিল পাখি? ঝাঁকে ঝাঁকে এসে যারা ভক্ষিত ভুসির মতো করে দেবেন কুচক্রী সেই সব চক্রান্তকারীদের? অতঃপর এর মাধ্যমে তাদের দেশটিতে আবারো বইয়ে আনতে পারবেন সুখ ও শান্তির সেই সুবাতাস? অবশ্যই পারবেন ইনশাআল্লাহ! সেই প্রত্যাশাতেই স্বৈরশাসিত দেশগুলোর সাধারণ মানুষ অপেক্ষমাণ। যেমন করে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল সেদিনের সেই মক্কাবাসী। সেই প্রত্যাশা কী আজকের এ দিনে আমরা করতে পারি না?

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com