শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে বাল্য বিয়ের দায়ে জরিমানা ময়মনসিংহের ভালুকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জাতীয় শোক দিবস ভালুকায় যুবলীগ নেতার বাসাবাড়িতে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতিয়া ইউনিয়ন অর্নাস এসোসিয়েশন আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ভেলাগুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন সরকারের পাশাপাশি যুব সমাজকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে- কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু এমপি ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ্যাডভোকেট আঞ্জুমানআরা শাপলা ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওসি মোস্তাফিজার রহমান ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সাঈদ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাজী শরিফুল
মাগুরায় সেই পলিথিন ডাক্তার মাসুদুল হক তার স্ত্রী জাহানারা ও ম্যানেজার সাগরসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মাগুরায় সেই পলিথিন ডাক্তার মাসুদুল হক তার স্ত্রী জাহানারা ও ম্যানেজার সাগরসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শাহারুল ইসলাম, মাগুরা প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিন ধরে এই ভূয়া ডাক্তার নামের কসাই মাসুদুল হক সহ তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও ম্যানেজার সাগর মাগুরা জেলাসহ প্রতিবেশি বিভিন্ন জেলার রুগীদের এই ভুল ও অপচিকিৎসা প্রদান করে নিয়মিত হত্যাকান্ডের মত জঘন্য অপরাধ করে মাগুরা শহরে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

ডাঃ মাসুদুল হকের ভুল ও অপচিকিৎসা প্রদানের কারণে এরকম অনেক রুগী মারা গেছে ও অনেক রুগী বেঁচে থেকেও মৃত্যুর দিন গুনছে,তা বাংলাদেশের জাতীয় প্রত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় টিভি চ্যানেল বা গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি মানুষের রক্ত চূষে খেয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের পূর্ব পাশে সুবিশাল এক বিলাস বহুল ১০ তলা বিল্ডিং এর মালিক যা জাহান প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোষ্টিক নামে পরিচিত।

গত ১৪ই জুন শুক্রবারে বহুল পরিচিত ইন্ডিপেনডেন্ট চ্যানেলে তালাস টিমের একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এই ভূয়া ডাক্তারের মুখোস ফাঁস হয়ে যায় দেশের মানুষের কাছে। তিনি মানবিক বিভাগের ছাত্র হয়েও কিভাবে বিএমডিসি হতে এমবিবিএস ডিগ্রী নিয়ে ডাক্তারের খেতাব পান এটিই এখন দেশের মানুষের প্রশ্ন। তাহলে কি টাকা দিয়ে এই মহান পেশা ডাক্তারি সার্টিফিকেট কেনা যায়?

গত ১৭ জুন মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি কলেজের সামনে এই পলিথিন ডাক্তার মাসুদুল হকের বিরুদ্ধে মাগুরার সাধারণ মানুষ,ভূক্তভুগীরা ও ভূক্তভুগীদের পরিবার বিশাল এক মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করে। তারপর মাগুরার জেলা প্রশাসক জনাব আকবর আলীর কাছে ডাঃ মাসুদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের
স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

গতকাল ১৯ শে জুন আনুমানিক ১০.৩০ মিনিটের সময় মাগুরা সদর থানায় এসে ডাঃ মাসুদুল হকের হাতে খুন হওয়া মৃত সালমার স্বামী মনজুর হোসেন বাদী হয়ে, প্রতারণা মুলক নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অপারেশনে মৃত্যু ঘটানোসহ ভয়ভীতি প্রদানের অপরাধে ১। সাগর(ম্যানেজার জাহান ক্লিনিক) ২। জাহানারা বেগম ( স্বামী ডাঃ মাসুদুল হক) ৩। ডাঃ মাসুদুল হক( জাহান ক্লিনিকের মালিক) দ্বয় সহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়।

ভূক্তভূগী মনজুরের সাথে কথা বলে জানা যায় মনজুর রহমানের স্ত্রী যখন
১০ মাসের অন্তস্বত্তা প্রসব ব্যাথা কাতরবস্থায় গত ২২/০৩/১৮ তারিখে তার নলখোলা গ্রামের দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের,শ্রীপুর উপজেলা হতে ইজিবাইকযোগে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনার পথে, উক্ত আসামীরাসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জন মাগুরা পৌরসভা সংলগ্ন আল-আমিন স্কুলের সামনে থেকে রাত আনুমানিক ৯.৩০ মিনিটের সময় আমাদেরকে ঠেকিয়ে বলে কি হয়েছে, তখন আমি সব খুলে বললে আমাকে ২ ও ৩নং আসামী বলে যে আমরা জাহান ক্লিনিকের মালিক। আমি ডাঃ মাসুদুল হক, আমি রাশিয়া হতে এমবিবিএস করে আসছি এবং বিদেশের অনেক ডিগ্রী আছে বলিয়া বিভিন্ন লালসার কথা বলে আমাদেরকে জাহান ক্লিনিকে নিয়ে যায়।

এবং পরবর্তীতে ২২/৩/১৮ তারিখে আনুমানিক রাত ১২টার দিকে মাগুরা পিটিআই এর সামনে আলেয়া প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোষ্টিকে আমার স্ত্রী সালমাকে ভর্তি করে এবং আসামীরা আমাকে বলে যে ১৫০০০/= টাকা লাগবে অপারেশন করতে। তখন উক্ত টাকা প্রদান করলে ১,২ ও ৩ নং আসামীরা রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে আমার স্ত্রীকে অপারেশন করেন এবং আমার একটি পূত্র সন্তান হয়েছে বলে জানান।

আমার স্ত্রীর ১ঘন্টা কোন জ্ঞান ছিল না এবং অপারেশনে অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানা যায়। ৩ নং আমামী আমাকে বলে যে দ্রুত আপনার স্ত্রীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান,আপনার স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তখন আমি আর দেরি না করে ২৩/০৩/১৮ তারিখ শুক্রবার আনুমানিক ১১ টার দিকে আমি আমার স্ত্রীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে দুদিন চিকিৎসা চলার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ডাক্তারা আমাকে আমার স্ত্রীর অবস্থা বেশি খারাপ বলে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলে।

আমি গত ২৬/০৩/১৮ তারিখে আমার স্ত্রীকে মেডিকেল কলেজের তিনতলা থেকে নামিয়ে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এ্যাম্বুলেন্সে উঠাতে গিয়ে আমার স্ত্রী মারা যায়। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি যে ডাঃ মাসুদুল হক আমার স্ত্রীর ভুল অপারেশন করে জরায়ুর নাড়ি কেটে ফেলে সালমার অকাল মৃত্যুবরণ করায়। এবিষয় নিয়ে তাকে জানাতে গেলে আমাকে জীবন নাশের হুকমি দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও তার হাতে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে মাগুরা নিজনান্দুয়ালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম,পলাশসহ শ্রীপুর বরইচারা গ্রামের আরাফাত।

ভূক্তভূগীরা এবং মাগুরার মানুষ এই ভূয়া ডাক্তার মাসুদুল হক সহ তার টিমের সকলের বিচার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে চিকিৎসাখাতে এত নজরদারী বাড়াচ্ছে সেখানে এরকম ভূয়া ডাক্তার মাসুদুল হকের ভুল ও অপচিকিৎসার কারণে নেত্রীর এ উন্নয়নের কর্মকান্ড আরো একধাপ পিছিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com