রবিবার, ১৪ Jul ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহের ভালুকায় কৈয়াদী সোনাউল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী সাইফুল ডাকাত পুলিশের সাথে বন্দুুক যুদ্ধে নিহত আহত ৪ পুলিশ

ময়মনসিংহের ভালুকায় কৈয়াদী সোনাউল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী সাইফুল ডাকাত পুলিশের সাথে বন্দুুক যুদ্ধে নিহত আহত ৪ পুলিশ

আশিকুর রহমান শ্রাবণ বিশেষ প্রতিনিধি-
ময়মনসিংহের ভালুকার কৈয়াদী সোনাউল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামী সাইফুল ডাকাত পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
গেলো রাত ১ টার দিকে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতিবেড় এলাকায় এ বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল উপজেলার কৈয়াদী গ্রামের মৃত জাবেদ আলীর ছেলে। ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ জানান, গেলো রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ডিবি এবং ভালুকা থানা পুলিশ গণধর্ষণ মামলার আসামীদেরকে ধরতে ভালুকার হাতিবেড় এলাকায় অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে, পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়লে আসামীরা পালিয়ে যায়।
পরে এলাকা তল্লাশীকালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাইফুলকে উদ্ধার করে ময়মননসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও তিনটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সাইফুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে ।

উল্লেখ্য- ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয় অষ্টম শ্রেণীতে পড়ূয়া এক স্কুল ছাত্রী (১৪)। এ ঘটনায় নির্যাতণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে রোববার সকালে ভালুকা মডেল থানায় নারী নির্যাতণ দমন আইনে মামলা রুজু হয়।ভালুকা উপজেলার কৈয়াদী সোনা উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের কিশোরী মেয়ে গত ১৬ জুন সকালে বাড়ি থেকে জগঙ্গলের ভেতর দিয়ে স্থানীয় কায়ানাড়া রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় একই গ্রামের মৃত জাবেদ আলী ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০) ও ইয়ার মাহমুদের ছেলে রমজান আলী (৩০), পিছন থেকে তাকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক জঙ্গলে নিয়ে যায় । এ সময় তারা কিশোরীর গলায় চাকু ধরে ও এসিড নিক্ষেপের ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। ভয়ে ওই কিশোরী ঘটনাটি বাড়ির কাউকে জানায়নি। গত ২৪ জুন ওই ছাত্রী পরীক্ষা দিতে একই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে উক্ত স্থানে সাইফুল ও রমজান আবারো ধর্ষণের উদ্দেশ্যে জোড়াজোড়ি শুরু করলে কৌশলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে কিশোরীটি বাড়িতে গিয়ে তার বাবা মার কাছে ঘটনাটি জানালে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখি অভিযোগ দায়ের করা হয়।নির্যাতণের শিকার কিশোরী জানায়, সাইফুল ও রমজান ১৬ জুনের ঘটনাটির ভিডিও ফেসবুকে ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী দিয়ে ২৪ জুন আবারো নির্যাতণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু পরে কৌশলে তাদের হাত থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাই।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন জানান, জেলা পুলিশ সুপারের ১৮৭ নম্বর বার্তামূলে রোববার সকালে এ ঘটনায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নম্বর-৬২) দায়ের করে ।

অন্যদিকে স্থানীয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকাবাসী ধর্ষক সাইফুল ও রমজানের গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবীতে দফায়-দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে অসছে।

গত রোববার ধর্ষিতা ছাত্রীর বিদ্যাপীঠ কৈয়াদী সানাউল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে।ওই সময় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি স্থানীয় সাংসদের সহর্ধমিনী ব্যারিষ্টার জেসমিন কাজিম এরশাদ পুতুল ২ধর্ষককে ধরিয়ে দিতে ১লক্ষ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেন ।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com