বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
৩৪ মাস কারাবাস শেষে জামিনে মুক্ত সাবেক এমপি রানা

৩৪ মাস কারাবাস শেষে জামিনে মুক্ত সাবেক এমপি রানা

টাঙ্গাইলের আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ ও দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৩৪ মাস কারাবাসের পর উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানা।

আজ মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান এমপি রানা। এরপরই তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এর আগে গতকাল সোমবার যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এ সংসদ সদস্যকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১৯ জুন হাইকোর্ট এ মামলায় রানাকে স্থায়ী জামিন দেন। জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন।

পরে রানার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। সোমবার আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হয়। এ সময় রানার পক্ষে আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো বশিরউল্লাহ শুনানি করেন।

২০১২ সালের ১৬ জুলাই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

ওই ঘটনায় ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত করে একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে পুলিশ। পরে মামলায় গ্রেপ্তার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরন মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যার ঘটনায় আমানুর রহমান খান রানার নাম উঠে আসে।

গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, রানার নির্দেশেই যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে তাঁর আইনজীবীরা হাইকোর্টে যান। হাইকোর্ট ৬ মার্চ এ মামলায় সাবেক এমপি রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করেছিলেন।

এদিকে গত ১৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক এই এমপিকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ২৫ মার্চ জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ আবেদনটির শুনানি নিয়ে ১ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি খারিজ করে দিলে মামলায় রানার জামিন বহাল থাকে।

২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ হত্যা মামলায় রানা আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠায়।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এ মামলায় সাবেক এমপি রানা ছাড়াও তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ আসামি রয়েছেন।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com