বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০১৯, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

হাটহাজারীর মনাই ত্রিপুরাপল্লী সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা ! 

হাটহাজারীর মনাই ত্রিপুরাপল্লী সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা ! 

মো.আলাউদ্দীন,হাটহাজারীঃ
হাটহাজারীর মনাই ত্রিপুরা পল্লীর ৫৫ পরিবারের বেশিরভাগই পাহাড়ের চুড়ায় ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।  মঙ্গলবার(৯ জুলাই)উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড় উদালিয়া গ্রামের হতদরিদ্র মনাই ত্রিপুরাপল্লী পরিদর্শনে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করার বিষয়টি দেখা যায়।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ত্রিপুরাপল্লী বেশিরভাগ বাসিন্ধারা জীবনের ঝূঁকি নিয়ে পাহাড়ের নিচে বসতঘরে বসবাস করছেন। কয়েকটি ঘর খুব বেশি ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় আছে। তার মধ্যে পদ্ম কুমার ত্রিপুরা, জনি ত্রিপুরা, বিষু ত্রিপুরা, লক্ষী ধন ত্রিপুরা, নিশু কুমার ত্রিপুরা, নিকন্দ্র কুমার ত্রিপুরা, সম্ব ত্রিপুরা, সিগচন্দ্র ত্রিপুরার পরিবার উল্লেখযোগ্য।
ফুল চান ত্রিপুরা, নির্মল ত্রিপুরা, বিমল ত্রিপুরাসহ অনেক শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের পুর্ব পুরুষরা পাহাড়ের ঢালু জায়গায় বসবাস করত এবং জুম চাষ হল আমাদের প্রধান অায়ের উৎস বা চাষ। তাই পাহাড়ের পাদদেশ বসবাস করাটাই আমাদের একটি শিক্ষা। আমাদের বেশিরভাগ কাজ করতে হয় পাহাড়ে। চাকরি করার প্রবনতা তেমন নেই। থাকলেও সে সুযোগ হয় না আর্থিক অভাব অনটনের কারনে। এখন আমাদের এ মনাই ত্রিপুরা পাড়ায় প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু কারো সরকারী বইপত্র ছাড়া আর কিছুই নেই। নেই কোন গ্রামার বই কিংবা সহায়ক শিক্ষার বই, খাতা, কলম এবং শিক্ষার অন্যান্য উপকরণও । যার কারনে প্রাথমকি শিক্ষা শেষ করেই টাকার অভাবে দিনমজুরের কাজ করে অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তাই এ পল্লীর অন্তত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করা যায় কিনা সরকারকে একটু ভেবে দেখার অনুরোও করেন তারা। সরকার আমাদের মনাই পাড়ার রাস্তা, সৌরবিদ্যুৎ গণশিক্ষার স্কুল করে দিয়েছেন তাই আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
জানা গেছে, মনাই ত্রিপুরা ছাড়াও উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পাহাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত পরিবারেরর হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের শাহা আমানত কলোনি, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, ফতেয়াবাদের পশ্চিমে সন্দ্বীপ কলোনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে, মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাটবাজারের পশ্চিমে, চারিয়া নয়াহাট বাজারের পশ্চিমে, কাটিরহাট এলাকার পশ্চিমে কাঞ্চনপুর এবং উদালিয়াসহ ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিমে পাহাড়ে ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে।
পাহাড়ে বসবাসরত মানুষদের মধ্যে পাহাড় ধসে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও ভূমিহীন মানুষগুলো  পাহাড়ের ঘর-বাড়ি ছেড়ে সহজে যেতে চায় না বলে একাধীক সূত্রে জানা যায়।
তাই যথাযত কর্তৃপক্ষের নিকট পহাড়ের চূড়ায় ও পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও সচেতন মহল।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com