সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

বন্যার কোথাও উন্নতি কোথাও অবনতি

বন্যার কোথাও উন্নতি কোথাও অবনতি

নয় দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির এখনো উন্নতি হয়নি। ভারীবর্ষণ ও উজানের ঢল নেমে আসায় দেশের প্রধান নদ-নদী অববাহিকায় পানি বেড়েই চলেছে। ফলে দেশের ২৩টি জেলায় বন্যা ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্গত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫ লাখ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের কাছে দুর্গত মানুষের সঠিক হিসাবটি এখনো নেই। বন্যায় রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দি মানুষদের মধ্যে খাদ্যসংকটেরও খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সবশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশের ২৩টি পানি সমতল স্টেশনে ১৩টি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া ডয়চে ভেলে’কে বলছেন, সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেশ কিছু অঞ্চলে পানি নেমে গেছে। বেশকিছু জায়গায় পানি বেড়েছে। তবে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর মধ্যাঞ্চলে অবনতি হয়েছে।

আরিফুজ্জামান ভূঁইয়ার হিসেবে, সিলেট, সুনামঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল এই ১১টি জেলায় এখনো বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বাকি জেলাগুলোর অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পানিও দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তবে পানি বাড়ার প্রবণতা দু’একদিনের মধ্যে কমে আসবে। আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে।

বাংলাদেশ অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর এখনো সক্রিয়। উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। তাই দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. শামসুদ্দীন জানিয়েছেন, গত দশ দিনে বাংলাদেশ, নেপাল, আসাম, মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার ফলে নদীর পানি বেড়ে গেছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হয়েছে। তবে আসাম আর নেপালে বৃষ্টি বন্ধ হলে, নদীর পানি কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা সরকার প্রস্তুত আছে বলেও জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের উপ-সচিব কাজী তাসমীন আরা আজমিরী। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে তাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। জানমালের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও এই কর্মকর্তা।

তার দেওয়া হিসাব মতে, দেশের বন্যা উপদ্রুত ২৩টি জেলায় এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছে। আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে তিন কোটি ১৭ লাখ টাকা। শুকনো খাবারের ব্যাগ দেওয়া হয়েছে ৮৪ হাজার। বন্যার সঙ্গে যেহেতু অতিবর্ষণও আছে তাই, ১৫টি জেলায় সাড়ে সাত হাজার তাঁবু পাঠানো হয়েছে।

বন্যার জন্য প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মনুষ্য সৃষ্ট কারণও আছে বলে মনে করেন পরিবেশবিদ ড. আতিক রহমান।

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, আগের মতো নদীর বহমানতা বা নেভিগেশন থাকলে চট করে পানিটা চলে যেত। এখন যেটা হয়েছে, পলি মাটি আসায় নদীর তলানিটা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানিটাকে আর ধরে রাখা যায় না, সেটা ছড়িয়ে যায়। ফলে বন্যা বাড়তে থাকে। সমপরিমাণ বৃষ্টিতে আগের চেয়ে বেশি বন্যা হয়।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com