বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মুজিব-রশিদকে ‘বোতলবন্দী’ করা গেলেই মিলবে সাফল্য

মুজিব-রশিদকে ‘বোতলবন্দী’ করা গেলেই মিলবে সাফল্য

সবার জানা, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওয়ানডের মত ভাল দল নয় বাংলাদেশ। ঘুরিয়ে বললে টাইগাররা ৫০ ওভারের ফরম্যাটে যতটা ভাল খেলে, ২০ ওভারের খেলায় তত ভাল খেলে না। ক্রিকেটের ক্ষুদ্র ফরম্যাটের সঙ্গে নিজেদের এখনও মানিয়ে নিতে পারেনি টাইগাররা। যতটা মানিয়ে নিয়েছে ৫০ ওভারের ম্যাচে।

ওয়ানডেতে কখন কার সঙ্গে কোন পরিবেশে কী করণীয় এবং সময়ের দাবি মেটানোর পাশাপাশি জিততে কী কী করতে হয়? তা মোটামুটি জানা সাকিব, মুশফিক, রিয়াদদের। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সে করণীয়গুলো এখনও পুরোপুরি আত্মস্থ করা সম্ভব হয়নি। তাই গেমপ্ল্যান, লক্ষ্য-পরিকল্পনা এবং অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশনে ত্রুটি থেকেই যাচ্ছে।

তারপরও যেদিন ব্যাটিং ও বোলিংয়ে শুরু ভাল হয়, সেদিন পারফরমেন্সের গ্রাফটা ওপরের দিকেই থাকে। যেমন ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এবারের তিন জাতি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তুলনামূলক ভাল ক্রিকেট খেলেছে সাকিবের দল। ব্যাটিং ও বোলিং পারফরমেন্সটাও ছিল আগের দুই ম্যাচের তুলনায় উজ্জ্বল। যার ফলস্বরুপ ৩৯ রানের বড় জয়ে মাঠ ছাড়ে সাকিবের দল।

এখন প্রশ্ন হলো আজ (শনিবার) রশিদ খানের আফগান বাহিনীর বিপক্ষে কী করবে টাইগাররা? আগের রাতে (শুক্রবার) মাসাকাদজার জিম্বাবুইয়ান বাহিনী চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন আফগানরা দুর্দমনীয় নয়। তারা ভারত, ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়া মানের দল নয়।

দলটির বোলিং মূলত দুই স্পিনার তথা দুই তুরুপের তাস মুজিব উর রহমান এবং রশিদ খান নির্ভর। ব্যাটিংয়ে একজন বিশ্বমানের পারফরমারও নেই। টেকনিক, স্কিল, মেধা, প্রজ্ঞা ও মননে যাকে বিশ্বমানে রাখা যায়- এমন একজন উইলোবাজও নেই। অন্তত জন চারেক মাঝারি মানের ব্যাটসম্যান আছেন। যারা প্রত্যেকে পাওয়ার হিটিং করতে পারেন। উইকেটে ধাতস্ত হলে তারপর শরীরের শক্তি, সাহস আর টাইমিংয়ের মিশেলে বড় শট খেলার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু চাপের মুখে তারা কেউই খুব দক্ষ, পরীক্ষিত নন।

এ দলকে বধ করার কৌশল ও কার্যকর অস্ত্র মূলত দুটি। এক, বুদ্ধি খাটিয়ে দুই স্পিন ট্রাম্পকার্ড মুজিব উর রহমান ও রশিদ খানকে খেলে ফেলা। তাদের বিপক্ষে মাথা ঠান্ডা রেখে অযথা ও অপ্রয়োজনীয় শট খেলা বাদ দিয়ে যতটা সম্ভব কম উইকেট দেয়া। তাহলেই আফগান বোলিংয়ের ‘জারি জুরি’ শেষ হয়ে যায়। তারপর আসগর আফগান, নাজিবউল্লাহ জাদরান আর মোহাম্মদ নবীদের উইকেটে সেট হতে না দিয়ে চাপে রাখতে পারলে বিপাকে পড়ে যায় তারা। স্বচ্ছন্দে রান করতে না পারলে এবং বড় শটস খেলতে না পারলে তারা ছটফট করে উইকেট দিয়ে আসে। শুক্রবার রাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও এ সত্যের দেখা মিলেছে ।

অর্থাৎ আফগান বধে আগে করণীয় কাজ হলো মুজিব উর রহমানের রহস্য ঘেরা স্পিন জাল ছিন্ন করা। তাকে প্রথম স্পেলে উইকেট না দেয়া এবং অধিনায়ক রশিদ খানের আক্রমণাত্নক লেগস্পিনকে যতটা সম্ভব নিবৃত্ত রাখা- এই দুটি করণীয় কাজ ঠিকমত করতে পারলে আফগান বোলিংয়ের বিপক্ষে সফল হওয়া যায়। জিম্বাবুয়ান অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা তা করে দেখিয়েছেন শুক্রবার।

সে ম্যাচে আফগান রহস্য অফস্পিনার মুজিব ৩ ওভারের প্রথম স্পেল উইকেট পেয়েছেন মোটে একটি, তাও শেষ বলে। তার ৪ ওভারের স্পেলে রান ওঠে ২৮ (উইকেট ২টি)। অন্যদিকে অধিনায়ক রশিদ খান ৪ ওভারে ছিলেন উইকেটশুন্য (২৯ রানে)। অর্থাৎ মুজিব আর রশিদ খানের ৮ ওভারে জিম্বাবুয়ানরা তুলে নিয়েছে ৫৭ রান। উইকেট খুইয়েছে ২টি। এই দুই স্ট্রাইকবোলার অকার্যকার হওয়াতেই ম্যাচে আফগানরা হেরেছে ৭ উইকেটে।

ইতিহাস-পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আফগানিস্তানের সঙ্গে পেরে ওঠে না মূলত ঐ দুই অতি কার্যকর স্পিনারের ঘুর্ণির কারণেই। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ৫ বারের সাক্ষাতে আফগানদের কাছে চারবার হেরেছে টাইগাররা, জিতেছে মোটে একবার। আর যখন জিতেছিল, সেই ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে লেগি রশিদ ও রহস্যময় বোলিং করা মুজিব উর রহমানের কেউই ছিলেন না।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানদের সাফল্যের রুপকার রশিদ খানের পরিসংখ্যান হলো ৪ খেলায় (৩/১৩, ৪/১২, ১/২৪, ২/২৩) ১০ উইকেট। আর মুজিব উর রহমান পেয়েছেন ৪ খেলায় (১/২০, ০/১৫, ১/২৫, ৪/১৫) ৬ উইকেট।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর শেরে বাংলায় আফগানদের বিপক্ষে ১৩৯ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের ৬ উইকেট জমা পড়েছিল ঐ দুই স্পিনারের ঝুলিতে। মুজিব ১৫ রানে ৪ এবং রশিদ খান ২৩ রানে ২ উইকেট দখল করেন। মুজিবের তিন ওভারের প্রথম স্পেলেই টাইগারদের বারোটা বেজে যায়। সেই তিন ওভারেই ওপেনার লিটন দাস (০), অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (১৫) এবং মিডল অর্ডারে নামা সৌম্য সরকার (০) সরকার ফিরে যান। মূলত মুজিব ৩ ওভারে প্রথম স্পেলে ১২ রানে ঐ তিন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েই বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। শুরুর সেই বিপর্যয় কাটিয়ে আর সামনে আগানো সম্ভব হয়নি।

এরপর দ্বিতীয় স্পেলে সাব্বিরের উইকেটও নেন মুজিব। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপদ কাঁটিয়ে ওঠার পথ বন্ধ হয় আফগান অধিনায়ক রশিদ খানের স্পিন ভেলকিতে। চার ওভারের প্রথম তিন ওভারে উইকেটশুন্য থাকা রশিদ শেষ ওভারে মোসাদ্দেক আর সাইফউদ্দিনকে আট করে বাংলাদেশের ইনিংসের লেজ মুড়িয়ে দেন।

কাজেই আজ লিটন আর নাজমুল শান্ত যদি মুজিবের প্রথম স্পেলটা ভালমত খেলে ফেলতে পারেন এবং অন্য ব্যাটসম্যানরা যদি রশিদ খানের ৪ ওভার সতর্কতার সঙ্গে কাটিয়ে দিতে পারেন- তাহলেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্র যাবে পাল্টে। আহামরি কিছু করার প্রয়োজন নেই। মুুজিব আর রশিদের ৮ ওভারে তেড়েফুঁড়ে মেরে ৮০ রানও দরকার নেই। তাদের বিপক্ষে গড়পড়তা ৬/৭ রান করে নিয়েও যদি উইকেট বাঁচিয়ে খেলা যায়, তাহলেই চলবে। এভাবে আফগানদের দুই মূল বোলিং অস্ত্রের বিপক্ষে আগে কিংবা পরে যখনই হোক, ঠিক ১৬০ রান করা সম্ভব। এই কাজটি খুব হিসেব কষে খেলে করতে হবে। আফগানদের হারানোর এটাই যে সেরা মন্ত্র।

একইভাবে বোলাররা শুরু থেকে টাইট লাইন ও লেন্থে বল করে আফগান ব্যাটসম্যানদের ফ্রি খেলতে না দিলেই চলবে। তখন আফগানরাা আপনা আপনি উইকেট দিয়ে আসে। দেখা যাক, এই দরকারি কাজ দুটি হয় কি-না? ব্যাটসম্যানরা জিম্বাবুয়ের মাসাকাদজা আর চাকাভার পথে হেঁটে মুজিব আর রশিদ খানকে নিবৃত্ত রাখেতে পারেন কি-না? আর সাথে পেসারদের কেউ পফুর মত শিশির ভেজা পিচে বল স্কিড করাতে পারলেই চলবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com