রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

‘তারকা না অভিনয়শিল্পীদের গুরুত্ব দিয়েছি’

‘তারকা না অভিনয়শিল্পীদের গুরুত্ব দিয়েছি’

বিনোদন প্রতিবেদক : সম্প্রতি শেষ হল সত্য ঘটনা অবলম্বনে আকাশকন্যা নানজীবা খানের রচনা ও পরিচালনায় পুর্ণদৈর্ঘ্যের ডকুফিল্ম ‘দি আনওয়ান্টেড টুইন’-এর শুটিং। এসএমসি নোরিক্স ওয়ান নিবেদিত এই প্রামাণ্যচিত্রটির কোস্পন্সর জীম’স কালেকশন। প্রযোজনা করেছেন ফয়সাল আনোয়ার। নির্মিত হচ্ছে দেশের স্বনামধন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টাইগার মিডিয়ার ব্যনারে।সিনেমেটোগ্রাফার আমির হামজা ও পাভেল মাহমুদ জয়। সম্পাদনা করেছেন খুরশিদ আলম।

প্রামাণ্যচিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিপা খন্দকার, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, ড. এনামুল হক, শামস সুমন, সোহেল খান, নওশাবা আহমেদ, শান্তা রহমান, ,অ্যানি খান, শিরিন আলম, রাজু আলীম, সাইফ সাইফুল সহ আরও অনেকে। এছাড়াও ৬ জেনারেশনের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যাবে আফসানা মিমি, দিলারা জামান, বন্যা মির্জা, চিত্রনায়িকা ববি হক, হোমায়রা হিমু ও আরজে ত্যাজ’কে।

কেন ছবিটি দেখবে এ প্রশ্নের উত্তরে নানজীবা বলেন, “আমি তারকা নয় অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে এই কাজটি করেছি। আমার এই প্রামাণ্যচিত্র’টি সকল দর্শকের জন্য না। কারণ যে দেশের হল মালিকরা এখনও কাটপিস চালিয়ে ব্যবসা করে, সামাজিক ছবি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় কিন্তু দেশে চলে না, যে দেশের মানুষ ছবি মানেই নায়িকার খোলামেশা পোষাক আর পোস্টারে রগরগে ছবি না দেখলে সেটিকে ছবি মনে করেনা সে দেশের দর্শকের রুচিবোধ নিয়ে আর যাই হোক আমার যথেষ্ট সন্দেহো আছে। দর্শক কি দেখবে না দেখবে সেটি তাদের ব্যাপার। আমি আমার শতভাগ দিয়েছি এবার দর্শকের পালা। তাদের ইচ্ছা হলে দেখবে না হলে দেখবে এখানে অনুরোধের কিছু নাই”।

এটি নির্মান করতে যেয়ে কোনো বাধা পেয়েছেন কিনা সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অধিকাংশ মানুষই বলেছে তুমি একজন মেয়ে তোমার বয়স কম এরকম একটি সেন্সেটিভ বিষয় নিয়ে কাজ করাটা তোমার জন্য হুমকী হতে পারে। আমি বলবো এটা আমার লাইফ, আমি একবেলা না খেয়ে থাকলে কেউ খবরও নিতে আসবে না তাই কে কি বললো সেটা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নাই। আর আমার বয়স ১৮ বছর হয়ে গেছে আমি এখন আর বাচ্চা না যে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবোনা”।

তিনি আরও জানান যে এটি যমজ পরিচয়হীন দুটি শিশু ও বয়সন্ধিকালে সচেতনতা নিয়ে গল্প । ছবিটির শেষটা তথাকথিত ছবির মত না। বরং পর্দায় বাস্তবতা কে ফুটিকে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি।১ বছরের গবেষনা ও ৬ মাসের প্রিপ্রোডাকশন শেষ করে পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়ে সে এই কাজটি করেছে তাই আশাও অনেক। যেজেতু এটি ডকুমেন্টারি “ইউনিসেফ বাংলাদেশ” কোন্টেন্ট সাপোর্ট পার্টনার হিসেবে আছে।
দুটি পরিচয়হীন যমজ শিশুর গল্প নিয়ে নির্মিত এ ডকুফিল্মটির শেষে বিষয়টি নিয়ে আসাদুজ্জামান নূর, শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি,আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার এবং আস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, নেপাল, ভূটান,শ্রীলংকাসহ মোট ১১ টি দেশের নাগরিকদের মতামত দেখা যাবে । খুব শীঘ্রই এটি হলে ও টেলিভিশনের পর্দায় দর্শক দেখতে পাবেন বলে জানিয়েছে নানজীবা খান।

উল্লেখ্য যে,বহুমাত্রিক এই অষ্টাদশী তরূনী একাধারে ট্রেইনি পাইলট,, সাংবাদিক,নির্মাতা, উপস্থাপিকা ,লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর, ইউনিসেফ-এর সাবেক তরুণ প্রতিনিধি এবং বিতার্কিক। এমনকি নির্মাতা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট ও সিটিএফবি’তে। শিশু নির্মাতা হিসেবে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে নিজের কাজগুলোতে প্রমিনেন্ট আর্টিস্টদের নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন নানজীবা।

প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘কেয়ারলেস’ নির্মাণ করেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে। প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘সাদা কালো’ পরিচালনার জন্য ‘ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। এরপর ‘গ্রো আপ’, ‘দি আনস্টিচ পেইন’ সহ পরিচালনা করেছেন আরো ৬টি শর্টফিল্ম ও প্রামাণ্যচিত্র।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com