মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি অনিশ্চিত সুবর্ণার

অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি অনিশ্চিত সুবর্ণার

 

মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুল:

প্রতিভা কিংবা মেধার বিকাশ কখনো আটকে রাখা যায়না। কিন্তু কখনো কখনো অর্থাভাব সেই বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনই এক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থী সুবর্ণা খাতুন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় ৯২৭ তম হয়েছেন কুষ্টিয়ার মেয়ে সুবর্ণা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকায় স্থান পেয়েও ঢাবিতে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সুবর্ণার। কারণ মেধাবী এই শিক্ষার্থীর পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ শাখায় ভর্তি হতে ১৩ হাজার টাকা প্রয়োজন যা সুবর্ণার পরিবার এখনো জোগাড় করতে পারেনি।

কুষ্টিয়া মিলপাড়ার তুলাশ্রমিক আরজিনা বেগমের মেয়ে সুবর্ণা খাতুন। তাঁর বাবা বাবুল হোসেন রিকশা চালিয়ে পরিবারের হাল টানতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সুবর্ণার জন্মের পরের বছরই তাঁর বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তাদের আশ্রয় জোটে মামার বাড়িতে। কিন্তু একটা সময় পর সুবর্নার পড়ালেখাসহ যাবতীয় সকল খরচ এবং তাঁর নানুর দেখভালের দায়িত্বও এসে পড়ে সুবর্ণার মা আরজিনা বেগমের কাঁধে। তুলাশ্রমিক হিসেবে দৈনিক দুইশ টাকা পারিশ্রমিক আর স্থানীয় খাবার হোটেলে কাজ করে সংসারের হাল ও সুবর্নার পড়ালেখা চালিয়ে যান তাঁর মা।

ভর্তি অনিশ্চয়তার বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলার সময় সুবর্ণা জানান, মায়ের পক্ষে ভর্তির এতগুলো টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। নিজে টিউশনি করে যা জুগিয়েছিলাম, তা তো ভর্তি পরীক্ষার ফরম আর ঢাকা আসা-যাওয়ার খরচ মেটাতেই শেষ। মাকে নিয়ে কাল পৌরসভা চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি দরখাস্ত করতে বলেছেন। হয়তো কিছু ম্যানেজ হবে। না হলে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজেই পড়ব।

নিজের সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আম্মু আর আমার ইচ্ছা, এর সঙ্গে শিক্ষকদের সহযোগিতাতেই এত দূর আসতে পেরেছি। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে বইয়ের সৌজন্য কপি চেয়ে নিতাম। পরীক্ষার আগে দুয়েকমাস পড়াতেন বিনা পয়সায়। পরীক্ষায় সবসময় প্রথম না হয়, দ্বিতীয় হতাম। তাই শিক্ষকরা খুব স্নেহ করতেন। সহযোগিতা করতেন। এভাবেই এসএসসি আর এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি।

সুবর্ণা আরো জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু ঢাকায় তাদের পরিচিত বা আত্মীয় কেউ নেই। আম্মু তাই যেতে দিতে চাচ্ছেন না। আবার ভর্তি যে হবো, সেই টাকাও নেই। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে। কিন্তু আমি পড়বই—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না পারি, কুষ্টিয়ার কলেজে পড়ব। টিউশনি করে হলেও পড়ালেখা চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মেধাবী এই শিক্ষার্থী।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com