শনিবার, ০৬ Jun ২০২০, ০১:১৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
গ্রামের বাড়ীতে জানাযা নামায শেষে, পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত নাছির করোনা উপসর্গ নিয়ে বড় ভাইয়ের ৯ ঘন্টা পর ছোট ভাইয়েরও মৃত্যু ! হাটহাজারী পৌরসভায় করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রবাসীর মৃত্যু! করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছাকাছি গেলেই সতর্ক করবে স্মার্টফো-সময়ের ধারা বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬৬ লাখ করোনায় রানা প্লাজার মালিকের মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে লিটন ট্রেডার্সের ১৩লক্ষ টাকা আত্মসাৎ-সময়ের ধারা স্মার্টফোন বলে দেবে আশপাশে কতজন করোনা রোগী, অপশনটি অ্যাপ চালু করুন হাঁটু পানিতে নেমে ধান কেটে দিল ছাত্রলীগ লক্ষীপুরে জোরপূর্বক পৈত্রিক সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ-সময়ের ধারা
আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এ প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

সোমবার দুপুরে তিনি জানান, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের চার জনকে আটক করা হয়েছে। আবরার হত্যায় জড়িতরা যে পরিচয়-ই বহন করুক না কেউ রেহাই বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

রোববার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আবরারকে। ওই হলে থাকতেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত। সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে শেরে বাংলা হলের ওই কক্ষ পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছি। এটি যে হত্যাকাণ্ড সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলের শিক্ষার্থী। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

আটক ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাউল ইসলাম জিওন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার। এছাড়া হলের অনেক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

ময়নাতদন্তে আবরারের দেহে জখমের অনেক চিহ্ন িপাওয়া গেছে বলে জানান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ।

রোববার দিনগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের সিঁড়ির পাশে ফাহাদের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ডাক্তারকে খবর দিলে তিনি এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি সম্পাদক ফুয়াদ হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চকবাজার থানায় নেয়া হয়েছে।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে।

রোববার দিনগত রাতে তাকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ভেতর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কক্ষটিতে ছাত্রলীগের নেতারা থাকতেন। তারা সবাই এখন পলাতক।

হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী একদল নেতাকর্মী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com