বুধবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে ৭ ইউপি সদস্যের অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে ৭ ইউপি সদস্যের অভিযোগ

মোশাররফ হোসেন শুভ, ময়মনসিংহ থেকে: ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে ১১ নং ঘাগড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আবেদন আমলে না নিয়ে সমঝোতার প্রস্তাব করায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ সচিবালয়েল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ঢাকা বরাবরে ৭ জন ইউপি সদস্য মিলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ ১১ নং ঘাগড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এর দূর্নীতির বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বারাবর একটি আবেদন হাতে হাতে জমা দেন। পুনরায় ২৩ সেপ্টম্বর ২০১৯ইং তারিখ দ্বিতীয়বার আরও একটি আবেদন করা হয়। এই আবেদনটিতে উল্লেখ থাকে যে ১১ নং ঘাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ১০ টাকা কেজির চাউলের রেশম কার্ড ইউপি সদস্যদেরকে না দিয়ে তার নিজস্ব কর্মীদের দ্বারা কার্ড বিতরণ করেন। এখানে পরিলক্ষিত হয় যে, প্রকৃত গরীব ব্যক্তিবর্গ কার্ড না পাওয়ায় এলাকার ব্যাপক তোলপার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন ৩ নং ওয়ার্ডের অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচীর জব কার্ড চেয়ারম্যান প্রত্যেক লেবার প্রতি ৫শত টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় জব কার্ডগুলি আটকাইয়া দেন এমতাবস্থায় লেবারগণ মানব বন্ধন করতে প্রস্তুত। এই মর্মে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদনটি জমা দেন। আবেদনটি জমা দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, চেয়ারম্যানকে ডেকে এনে আলোচনা করে সমঝোতা করে দিব। নির্বাহী অফিসার আরো বলেন, ২৬ সেপ্টম্বর ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার সময় আমার অফিসে উপস্থিত থাকবেন। ধমকের সহিত বলেন যে, উপস্থিত না হইলে আপনাদের মেম্বার শিপ চলে যাবে, সেই ব্যবস্থা করে দিব। তিনি আরো বলেন, ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খেতে যাবেন না।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশ বার্তা পত্রিকায় চেয়ারম্যানের দুর্নীতির খরব প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। এই পত্রিকা নিয়ে নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের অফিসে গেলে তিনি পত্রিকা দেখে রাগান্বিত হয়ে যান এবং বলেন যে, পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন? যদি আমি আবেদন আমলে না নেই; তাহলে চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করে জেল হাজতে পাঠাবে বলে হুমকি দেন।
এ বিষয়টি উল্লেখ করে গত ০২ অক্টোবর ২০১৯ইং তারিখ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ সচিবালয়েল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ঢাকা বরাবরে ৭ জন ইউপি সদস্য যথাক্রমে, শফিকুল ইসলাম, মো: নজরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ, গিয়াস উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, আ: আজিজ, মোছা: ফরিদা ইয়াসমিন মিলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কথা মত ১১ নং ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান সরকার সাজু দিন রাত এক করে তথ্য অফিসে কাগজ পত্র ঠিক করছেন। প্রতিদিন চেয়ারম্যানের বাড়ীতে চেম্বারে এলাকাবাসীর লোকজন নিয়ে মিটিং করছেন। এতে কি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। স্থানীয় জনগণ বলেন, মাঠে আসুন দেখে যান কেমন কাজ হয়েছে। আপনাদের কাছে প্রকল্পের কাগজ পত্র আছে সব নিয়ে মাঠে আসুন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, এলজিএসপি’র ৩’র অর্থ বছর ২০১৬-২০১৭ এর বরাদ্ধের উপর ৩ নং ওয়ার্ডের চরঘাগড়ার মরহুম হাজী ইউনুছ আলী সরকারের বাড়ী হতে পূর্ব দিকে মড়াকুড়ি বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তার উপর ১০টি রিং কালবার্ট স্থাপন এবং চর ঘাগড়ার কদ্দুছ মন্ডলের বাড়ী হতে হাজী বাড়ী পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তার উপর ৮টি কালবার্ট সর্বমোট ১৮ কালবার্ট স্থাপন না করেই ভ’য়া বিল বাউচার করে বিল উত্তোলন করেছেন। এখানে এসে দেখলেইত। সব দুর্নীতির একাংশ বেড়িয়ে আসে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, অভিযোগ করেছে? কে করেছে মেম্বাররা। তাহলে খুজে দেখতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি এরিয়ে গিয়ে বলেন, অভিযোগ যে কেউ করতে পারে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com