সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

মাদ্রাসা অধ্যক্ষ জানালেন ” আমি কিছুই জানি না, সবই জানেন সভাপতি সাহেব”

মাদ্রাসা অধ্যক্ষ জানালেন ” আমি কিছুই জানি না, সবই জানেন সভাপতি সাহেব”

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
হাটহাজারী পৌরসদরস্থ জামেয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মীর আবুল বশর সিদ্দিকীর কাছে মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, ” আমি কিছুই জানি না, সবই জানেন সভাপতি সাহেব ” প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, সেচ্চাসারিতা এবং শিক্ষক নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, সভাপতির নিষেধ থাকায় তিনি মাদ্রাসার কোন কাগজপত্র দেখাতে বা কোনো তথ্য জানাতে পারবেন না। যে সভাপতির নিষেধ আছে সে সভাপতির গভর্নিং বডির কোন অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও কমিটির অনুমোদন আসেনি। সূত্রে জানা গেছে বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কমিটির কোন অনুমোদন আসেনি। এ থেকে বুঝা যায় তিনি নামমাত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, আসল অধ্যক্ষ কথিত সভাপতি!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার একাধিক শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানান, ” অনিয়ম,দুর্নীতিতে ভরে গেছে এ মাদরাসাটি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আর সভাপতি মিলে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলেই তারা ২জন মিলে মামলা আর বহিস্কার করে। এ ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদও করে না। তারা কোনো আইন কানুনও মানেন না। তারা মাদরাসাটিকে তাদের নিজস্ব সম্পত্তি মনে করেন। উপজেলা প্রশাসন, কোর্ট এবং মন্ত্রাণালয়ের আদেশ কেও তারা মানে না ? সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম আর দুর্নীতির অনেক নিউজও বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় হয়েছিল। অধ্যক্ষ আবুল বশর বার বার দেশের বাইরে গিয়ে মোটা অংকের চাঁদার টাকা তোলে নিয়ে আসেন, যার কোনো হিসাবও নেই। আর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষেরতো আগে কিছুই ছিল না। অথচ এখন হাটহাজারী পৌরসদরস্থ আলিফ হসপিটালের পেছনে তিনি আলিশান বহুতল ভবন করেছেন।”
চাঁদা তোলার জন্য কত বার বিদেশে গেছেন এমন প্রশ্ন করা হলে উত্তরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ৮ বার বিদেশে গিয়েছেন বলে জানান। এভাবে রশিদ বই নিয়ে বিদেশে গিয়ে চাঁদা তোলার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তা নিয়মে নাই বলে স্বীকার করেন। তাহলে আপনি (অধ্যক্ষ) কিভাবে টাকা তোললেন আর সেই টাকা কোথায় গেল ? এমন প্রশ্ন করা হলে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল বশর সিদ্দিকী কোনো উত্তর না দিয়ে হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে তাড়াহুড়া করে অফিস থেকে বের হয়ে যান।
এ ব্যাপারে জানতে মাদরাসা পরিচালনার কমিটির (অধ্যক্ষের তথ্য মতে) সভাপতি আহমদ হোসেনের মোবাইল ফোনে বার বার রিং দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com