বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

রাজধানী সুপার মার্কেটে পুড়ল অর্ধশত দোকান

রাজধানী সুপার মার্কেটে পুড়ল অর্ধশত দোকান

রাজধানীর টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে ৪০ থেকে ৪৫টি দোকান পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে ১৪-১৫টি দোকান পুড়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের সময় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী মমিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দোকান পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেকেই
মার্কেটের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, আমরা গত মাসের ১০ তারিখে দুর্যোগ প্রশমন দিবসে রাজধানী সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলাম। তাদের মার্কেটের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দুর্বল। কর্তৃপক্ষ দুই মাস সময় চেয়েছিল। এর মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটল। প্রাথমিকভাবে ১৪-১৫টি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে বলে দেখতে পেয়েছি আমরা। তদন্ত কমিটি করব। প্রতিবেদন হাতে পেলে ক্ষতির পরিমাণসহ বিস্তারিত জানাতে পারব।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, ঘটনার সময় মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি দোকানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সে সময় ওয়েল্ডিং মেশিন থেকে ফুলকি ছিটকে পাশের একটি দোকানের সামনে রাখা ফোমের ওপর পড়লে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় ফায়ার এক্সটিনগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারপরও আগুনে ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
১৯৯৫ সালে চালু হওয়া দোতলা এই বিপণিবিতানে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যের ১ হাজার ৭৮৮টি দোকান রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। আগুনে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটি জানাতে পারেননি তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্য ও ভলান্টিয়ার হিসেবে অনেকে কাজ করেছেন।
মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. বাছিত বলেন, মাগরিবের আজানের সময় হঠাৎ দেখলাম এক পাশে ধোঁয়া উড়ছে। এগিয়ে গিয়ে দেখি, আগুন জ্বলছে। তখন দ্রুত সবাইকে নিয়ে দোকান থেকে নেমে আসি। সঙ্গে কিছুই নিয়ে বের হতে পারিনি। কথা বলার সময়ও তার চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ।
আল মাহের জুয়েলার্সের মালিক আবু তাহের বলেন, নিচতলায় তার দোকানসহ ৪৩টি গহনার দোকান আছে। আগুন লাগার পর প্রাণ হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় শাটার নামানো হলেও অনেকে তালা মারতে পারেননি।
ফায়ার সার্ভিস ও মার্কেটের দোকানিরা ধারণা করছেন, মার্কেটের দোতলার মাঝ বরাবর আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে পোশাক, টেইলার্স, ফোম, কসমেটিকস, খেলনা ও খাবারের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের খাবার বাইরে থেকে রান্না করে আনা হয়। ফোম বা টেইলার্সের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com