শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে হাফেজদের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ করেন এ আ বিপ্লব-সময়ের ধারা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামীর জামিনের খবরে ফেইসবুকে নিন্দার ঝড় ! করোনা আক্রান্ত জেলা যুবলীগের সভাপতি টিপুর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় দিঘলী ইউনিয়ন যুবলীগ-সময়ের ধারা লক্ষ্মীপুর বাসীকে অগ্রিম ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী-সময়ের ধারা হক্কানি উলামায়ে কেরামের নামে মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে – বাবুনগরী বঙ্গবন্ধু কে কটূক্তি : চবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ! সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে ডিসেম্বরেই সমাপনী জঙ্গি হামলার আশঙ্কা, পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক করে চিঠি করোনায় দেশে নতুন মৃত্যু ৩৭ জনের ঈদের আসছে সরকার মিডিয়া ভিশনের প্রযোজনায় নাম বললে চাকরী থাকবেনা
কুকুরের লেহনে বিরল রোগে আক্রান্তে রোগীর মৃত্যু!

কুকুরের লেহনে বিরল রোগে আক্রান্তে রোগীর মৃত্যু!

সময়ের ধারা ডেস্ক: বর্তমানে পোষা প্রাণীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কুকুর ও বিড়াল। যারা এসব প্রাণী পোষেন তাদের কাছে বড়ই আদর ও ভালবাসার প্রাণী এরা। কিন্তু ভেটেরিনারিয়ান বা প্রাণী চিকিৎসকরা বরাবরই এদের পালনে কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে বলেন। অন্যথায় ঘটতে পারে মারাত্মক বিপদ। এমনকি ঘটতে পারে জীবনহানিও।

কুকুরের মাধ্যমে ছড়ানো ভয়ঙ্কর রোগ জলাতঙ্ক সম্পর্কে আমরা সকলেই অবহিত আছি। কিন্তু সম্প্রতি জার্মানিতে এক ব্যক্তি বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের নিকট গিয়েছিলেন। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও সুস্থ হয়ে বেঁচে ফিরতে পারেননি। কিন্তু লোকটির জলাতঙ্ক রোগ হয়নি।

জানা যায়, ৬৩ বছর বয়সী একজন রোগী জার্মানির ব্রেমেনে অবস্থিত রেডক্রস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রথমে রোগীর সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ ছিল। পরে লক্ষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। তার শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এ অবস্থায় রোগীটি হাসপাতালে ভর্তি হয়।

হাসপাতালে যেদিন ভর্তি হন তার আগের দিন রোগীর অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হতে থাকে। তার মুখে হঠাৎ ফুসকুড়ি ওঠে। এছাড়াও পায়ের স্নায়ু ও মাংসপেশিতে ব্যথা শুরু হয়। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় পায়ের ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

এছাড়াও কিডনি আক্রান্ত হয় এবং লিভার বিকল হতে থাকে। মাংসপেশিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস পায়। এগুলোর পাশাপাশি রোগীর প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।

এই রোগীর চিকিৎসার সময় চিকিৎসকরা গোলকধাঁধায় পড়ে যান। তারা মেনিনজাইটিস তথা মস্তিষ্কের ঝিল্লির প্রদাহ, মাথা ব্যথা হওয়া অথবা ঘাড় শক্ত হওয়ার মতো কোনো লক্ষণ আছে কিনা পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়াও তিনি এমন জায়গায় গিয়েছিলেন কি না যেখান থেকে সংক্রমিত হয়ে আসতে পারেন সেসব তথ্যও সংগ্রহ করেন।

যাই হোক, চিকিৎসক দল রোগীটির রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ খুঁজে পেতে সক্ষম হন। তার মধ্যে ইমিউনো রেসপন্স বা সেপসিস এবং পুরপুরা ফুলমিন্যান্স (Purpura fulminans) এর উপসর্গ পান। পুরপুরা ফুলমিন্যান্স হলে রক্ত জমাট বাঁধে ও ত্বকের বর্ণ পরিবর্তন হয়।

চিকিৎসকরা এসব বোঝার পর বেশ কয়েকটি এন্টিবায়োটিক একত্রিত করে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। যাতে ওষুধগুলো দিয়ে রক্তের সংক্রমণের জন্য দায়ী সম্ভাব্য সব অণুজীবকে মুক্ত করা যায়। কিন্তু রোগীর অবস্থার অবনতি হতেই থাকে। ধীরে ধীরে তার হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা নষ্ট হয়, শ্বাসকষ্ট এতটাই বাড়তে থাকে যে তাকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চারদিনের মাথায় চিকিৎসকরা আসল কারণ বের করতে সক্ষম হন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে রোগীটি Capnocytophaga canimorsus নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত। এই ব্যাকটেরিয়াটি কিন্তু নতুন নয়। প্রাণী চিকিৎসকদের কাছে পরিচিত একটি ব্যাকটেরিয়া।

গ্রাম নেগেটিভ, দণ্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়াটি স্বাভাবিকভাবেই কুকুর, বিড়ালের জিঞ্জিভায় থাকে। এটি ১৯৭৬ সালে প্রথম সনাক্ত করা হয়। কুকুর, বিড়ালের সমস্যা না করলেও মানুষের জন্য অনেক সময় মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে ব্যাকটেরিয়াটি। এরা মানব শরীরে কদাচিৎ প্রবেশ করে কিন্তু প্রবেশ করলেই জীবনঘাতী রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এই ব্যাকটেরিয়া কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে, কুকুর মানুষকে লেহন করলে, এমনকি কুকুরের কাছাকাছি থাকলেও মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অতঃপর উপযুক্ত পরিবেশ, যেমন– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম আছে এমন মানুষ, মদ্যপায়ীদের পেলে দ্রুত আক্রান্ত করে।

বর্তমানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীটিকে কিছুদিন পূর্বে তার পোষা কুকুর চেটেছিল। আর এই চাটার কারণেই রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়। অবশ্য এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার জন্য চাটাই যথেষ্ট।

যদিও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন তাকে সুস্থ করতে। তথাপিও রোগীর বিভিন্ন ধরনের অঙ্গের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসার ১৬ দিনের মাথায় রোগীটি নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হন ও মারা যান।

চিকিৎসাবিদদের মতে, C. canimorsus আক্রান্ত রোগীর শতকরা ২৫ ভাগের মৃত্যু হয়। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ অনেক সময় রোগী সর্দির মতো উপসর্গ থেকেই মারা গেছেন বলে মনে করেন। এ রোগে আক্রান্ত হলে পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায় বলে জানান চিকিৎসকরা।

যাই হোক, পোষা প্রাণী পালকদের সচেতন থাকতে হবে। সর্দির মতো উপসর্গ প্রকাশ পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘ওয়ান হেলথের’ মূলনীতি অনুসরণ করা উচিত। যেখানে যথাযথভাবে রোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য প্রাণী চিকিৎসক ও মানব চিকিৎসকদের একই ছাতার নিতে অবস্থান করতে হয়।

প্রাণীগুলোকে ভেটেরিনারিয়ান বা প্রাণী চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে পালন করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ভালো মানের ব্রাশ ও টুথপেস্ট দিয়ে নিয়মিত পোষা প্রাণীর দাঁত পরিষ্কার করতে হবে।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট, ইউরোপিয়ান জার্নাল অব কেস রিপোর্ট ইন ইন্টার্নাল মেডিসিন।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com