বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুকে দ্রুত মুক্তির দাবী পরিবারসহ এলাকাবাসীর

বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুকে দ্রুত মুক্তির দাবী পরিবারসহ এলাকাবাসীর

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক- জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাভাজন

বিশেষ প্রতিনিধি: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৯ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর ময়নুল হক ওরফে মনজু একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক তিনি কখনো সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ হতে পারে না বলে জানিয়েছেন মনজুর আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী ও এলাকাবাসী। গতকাল কাউন্সিলর মনজুর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাকার সাধারণ জনগনের সাথে কথা বলে জানা গেছে,ছোটবেলা থেকেই কাউন্সিলর ময়নুল হক ওরফে মনজু একজন সহজ-সরল মানুষ এবং জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন যার ফলে এলাকাবাসী তাকে ভোট দিয়ে ২০১৫ সালে ডিএসসিসি নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত করেছেন। কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তিনি আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী-পুত্র সন্তানের কথা ভূলে নিজের আরাম-আয়েশের কথা চিন্তা না করে এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হন এবং কোন ধরণের অন্যায় অত্যাচারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন না। এলাকার সাধারণ মানুষের সেবা করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কাউন্সিলর মনজুর আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী আরো বলেন,আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, গত ৩১ শে অক্টোবর ২০১৯ ইং তারিখে ঢাকার ৩৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুকে নিজ কার্য্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ধারাবাহিকভাকে মিথ্যা ও কাল্পনিক খবর প্রচার করা হয় যাহা এখনো অব্যাহত আছে। এত মিথ্যাচার আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা যেই মনজুকে চিনি বা জানি, এ সেই মনজু নয়। হঠাৎ নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া অন্য এক মনজু। সারা জীবনের জানা দেখা মনজুর সাথে এর কোনও মিল নেই। যাহা প্রচার হচ্ছে তা- কি আদৌ সত্যি নাকি প্রকৃত ঘটনা না অন্যকিছু?


মনজুর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক মল্লিক, বয়স-৯২ পার হয়ে গেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুণীজন হিসেবে স্পিকার ড.শিরিন শারমিন চৌধুরী কর্তৃক পদকপ্রাপ্ত এবং শরীয়তপুর জেলার কৃতি সন্তান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। ১৯৭০ ও ১৯৭৩ নির্বাচনে ঢাকা সূত্রাপুর সংসদীয় আসনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “কনজিউমার্স কো-অপারেটিভ হোলসেল সোসাইটি লিমিটেড” এর পরিচালক নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার চেয়েও বড় পরিচয় বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া কর্মী ও আজন্ম সৎ লোক হিসেবে জেলার সর্বত্র তার বিশাল পরিচিতি আছে। মনজুর মৃত: মাতা বিয়ের গহনা দিয়ে মেডেল বানিয়ে বঙ্গবন্ধুকে উপহার দিয়েছিলেন। মনজুর পরিবার ঢাকায় বসবাস ১৯৬০ সাল থেকে।


জানা গেছে,বাবার দেখানো পথে শৈশব থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন ময়নুল হক মনজু। দায়িত্ব পালন করেন নারিন্দা-গোপীবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে। ১৯৮৫ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিসেবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কমিশনার নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, গঠনমূলক সামাজিক কার্যক্রম,জঙ্গিবাদ দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচীর মাধ্যমে এলাকায় অধিকতর জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। ১৯৯৫ সালে ময়নুল হক মনজুর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় ক্রীড়া সংগঠন শেখ রসেল ক্রীড়া চক্র। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মনজুই প্রথম ব্যক্তি নিনি দেশরত্ন শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে শ্রদ্ধেয় মতিয়া চৌধুরী, ডাঃ দিপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে লিলি গার্ডেনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও ইফতার পার্টিও আয়োজন করেন। এবং জনপ্রিয়তা বজায় রেখে ২০১৫ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও ৩৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।


কাউন্সিলর মনজুর পরিবারের সূত্রে আরো জানা গেছে,যেই রাজধানী মার্কেট নিয়ে এত বড় ঘটনা, সেটি প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপির শাসন আমলে ১৯৯২-৯৩ সালে। ক্ষমতার প্রভাবে বিএনপি ঘরনার রাজাকার বাবুল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের জমির উপর নির্মিত মার্কেটে একাই হাতিয়ে নেয় প্রায় ২৫০ টি দোকান। তাছাড়াও তার সঙ্গী-সাথীরও রয়েছে অনেক দোকান। উপরন্ত বাবুল বিভিন্ন অজুহাতে জোর-জুলুম করে এবং সু-কৌশলে দখল করে আরও কয়েকটি দোকান। মূলতঃ মার্কেটের প্রায় অর্ধেক দোকানই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজাকার বাবুল বা আওয়ামী বিরোধী শক্তির নিয়ন্ত্রণে। ২০১০ সালে তৎকালীন সাংসদ প্রয়াত দিপু খানের নির্দেশেই মনজু রাজধানী মার্কেটের নেতৃত্বে আসেন। প্রথমে সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি নিযুক্ত হন। এখানেই ঘটে বিপত্তি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মনজুকে কোন ভাবেই গ্রহন করতে পারেনি রাজাকার বাবুল গং। শুরু হয় একের পর এক ষড়যন্ত্র পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ধারাবাহিক মিথ্যাচার। কালো টাকার প্রভাব খাঁটিয়ে মঞ্চস্থ করা হয় গ্রেফতারের নাটক, চুরমার হলো একটি পরিবারের মান-সম্মান, ইজজত এবং ঐতিহ্য। কাউন্সিলর মনজুর পরিবারের সূত্রে আরো জানা গেছে,বিষয়টি যে অতি পরিকল্পিত তাহা পরিষ্কার কারণ, আগের দিন মামলা হলো আর পরের দিনই মহাআয়োজনে গ্রেফতার হলো জনপ্রিয় কাউন্সিলর মনজু। যে মনজু কোন দিন কাউকে ১টা থাপ্পর পর্যন্ত দেননি তার পকেটে পাওয়া গেল দুটি অবৈধ অগ্নেয়াস্ত্র। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ? এ প্রশ্ন মনজুর পরিবারের। মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে মনজু কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে আয় করেছে, অথচ অফিস-বাসায় কয়েক ঘন্টা তল্লাশি চালিয়েও পাওয়া গেলা না কোন টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, ব্যাংক ব্যালেন্স কিংবা এফডিআর। মনজুর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে আমেরিকার পাসপোর্টধারী প্রবাসী। তারা সবাই ভালমানের চাকুরী করে । আমেরিকার বাড়ি ৪০ বৎসরের মর্টগেজে ক্রয় করা যার কিস্তি ছেলে মেয়েদের বেতন থেকে কেটে নেয়া হয়। আমেরিকায় টাকা পাঠানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সবশেষে কাউন্সিলর মনজুর পরিবারের সদস্যদের দাবী, (ডিএসসিসি) ৩৯ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর ময়নুল হক ওরফে মনজু একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থেকে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি কখনো সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ হতে পারে না। মনজুর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিশ্ব মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির উপর আস্থা রেখে ৩৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ জনগন কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুকে দ্রুত মুক্তির জন্য জোড়দাবী করেছেন। কারণ,কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজু একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া সৈনিক,জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির উপর বিশ্বাসী। তাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা,কাল্পনিক,বানুয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com