বুধবার, ০৩ Jun ২০২০, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে নতুন করে ১১৯ জনের টেস্ট করে ২২ জনের করোনায় পজেটিভ-সময়ের ধারা জালালপুর ইকো রিসোর্ট এ কম্ব্যাটিং কোভিট ১৯ এর উপর কর্মশালা হরিপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় আত্মহত্যা নিকলী হাওর আর জালালপুর ইকো রিসোর্ট এর ভ্রমণ গদ্য লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করলো সবুজ বাংলাদেশ ইনাফা-সময়ের ধারা কটিয়াদীতে ইসাহাক ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন ও জালালপুর ইকো রিসোর্টের উপহার সামগ্রী প্রদান ফরিদপুরে জেলার ভাংগায় সাংবাদিকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ পূন:মিলনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ নতুন ২৫২৩ জনের করোনা শনাক্ত-সময়ের ধারা একজন আর্দশ শিক্ষকের গল্প লক্ষীপুর রামগতিতে খালের পানিতে ভেসে উঠল কৃষকের লাশ-সময়ের ধারা
কাজে বাধাপ্রাপ্ত হতে হতে এক সময় মেয়েদের বাহিরে কাজ করার আগ্রহ কমে যায়ঃ লায়লা নাজনীন

কাজে বাধাপ্রাপ্ত হতে হতে এক সময় মেয়েদের বাহিরে কাজ করার আগ্রহ কমে যায়ঃ লায়লা নাজনীন

লায়লা নাজনীন বর্তমানে প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্টার সিনেপ্লেক্সে। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় একই পাতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।
তার অধীনে এখন স্টার সিনেপ্লেক্সের মানব সম্পদ বিভাগের চারটি শাখা। এ অবস্থানে আসতে কঠোর পরিশ্রম ও কৌশল অবলম্বন করেছেন৷ বর্তমানে তিনি করপোরেট জগতে তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কাজ করছেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে লেখালেখির পাশাপাশি রেডিও, টেলিভিশনে বিভিন্ন শোতে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাৎকারে তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, প্রয়োজনীয় দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শুরুতেই আমরা জানব আপনার ক্যারিয়ারের গল্প।
লায়লা নাজনীন: মাধ্যমিকে পড়ার সময়ই বেসরকারি চাকরির প্রতি আলাদা টান ছিল৷ চিন্তার এই ভিন্নতা আমার অবচেতনেই কাজের গতিধারা নিয়ন্ত্রণ করছিল। যেমন মাধ্যমিকের পর পরই ইংরেজি শেখা, বেসিক কম্পিউটার কোর্স করা। এছাড়া কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করা ইত্যাদি পরবর্তীতে আমার সাবলীল উপস্থাপনার কাজে সাহায্য করেছে। আবার উচ্চ মাধ্যমিকের পর সংবাদ পরিবেশনা কোর্স করা, বিভিন্ন করপোরেটভিত্তিক ট্রেইনিং এবং সেমিনারে যাওয়া শুরু করি।

একজন শিক্ষার্থী কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে?
লায়লা নাজনীন: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়া উচিত৷ সব বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান বা ধারণা পরিষ্কার থাকলে ক্যারিয়ার গ্রাফটা উর্ধ্বমুখী থাকে৷ তাছাড়া ক্লাব কার্যক্রম বা ক্রীড়া বিষয়ক সহ-কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়।

ভাল সিভি তৈরি করার জন্য আপনার পরামর্শ কী?
লায়লা নাজনীন: সিভি তৈরির সময় কঠিন শব্দের প্রয়োগ না করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু দিয়ে সিভি লম্বা করার ধারণা একদমই অমূলক। সিভি হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য সবার প্রথম পদক্ষেপ, তাই সিভি থাকতে হবে সরল ও প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু সম্পন্ন। এন্ট্রি লেভেলের জবগুলোর সিভির চাহিদা দেখে কোম্পানির জুনিয়র অফিসাররাই সিভি নির্বাচন করে থাকেন। কোম্পানির ডিরেক্টর বা ম্যানেজার লেভেলের কর্মকর্তাদের সময় হয় না সিভি নির্বাচনের। তাই যে সিভি পড়ছে তার কাছে সিভি যেন বোধগম্য হয় এবং কম সময়ে সিভি সিলেক্ট করা যায় সে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের করপোরেট গ্রুমিংয়ের সুযোগ নেই। এদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
লায়লা নাজনীন: ছুটির দিনগুলোতে করপোরেট গ্রুমিংয়ের অনেক সেমিনার ও ট্রেইনিং হয়ে থাকে৷ এসব প্রোগ্রামের ভিডিও ধারণ করে ইউটিউব বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেয়া হয়। সেখান থেকে তারা শিখতে পারে৷ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইংরেজি শেখার কোর্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে করপোরেটের প্রস্তুতি নেয়া যেতে পারে। তাছাড়া আত্ম-উন্নয়নমূলক বই পড়া এবং অনুশীলনের মধ্য দিয়ে নিজেকে করপোরেটের জন্য তৈরি করতে পারে।

এদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থলে নারীর অংশগ্রহণ প্রতিকূল অবস্থায় আছে বলে মনে করেন কী?
লায়লা নাজনীন: তুলনামূলকভাবে নারীদের জন্য কর্মস্থল আগের চেয়ে বেশি প্রতিকূলে আছে বলে মনে করি। নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও কাজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকরি ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সমাজে বদ্ধমূল অমূলক ধারণাকে পরিবর্তন করা সম্ভব৷ অনেক সময় সমস্যাটা বেশি কঠিন হলে বিকল্প পথে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে৷ যেমন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি করে ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করা যায় এবং তা কর্মসংস্থানে নারীদের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে৷

মেয়েদের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত নাকি মেয়েরা নিজেদের চাকরির যথাযথ প্রস্তুতিতে পিছিয়ে আছে?
লায়লা নাজনীন: আমার যা মনে হয় তাতে মেয়েরা কাজ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই বাধাপ্রাপ্ত হতে হতে এক সময় আগ্রহ কমে যায়। যার কারণে পরবর্তীতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মনোভাবটা কমে যেতে থাকে। নিজেকে শামুকের মত খোলসে আবদ্ধ রাখে। অথচ একটা মেয়ে ইচ্ছা করলেই, তার ধর্ম-কর্ম সব ঠিক রেখেই নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব এবং পরিবারে আর্থিক বা সবদিকেই অবদান রাখা সম্ভব।

চাপ মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে কিছু বলুন..
লায়লা নাজনীন: চাপ কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজ জমিয়ে না রাখা৷ আর ছুটির দিনগুলোতে পরিবারকে সময় দেয়া। কিছু কাজ সময়ের ওপর ছেড়ে দিতে সাময়িক ব্যর্থতার গ্লানিকে টানা যাবে না। সফল হতে ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রম করতে হবে হয়৷ সব সময় ইতিবাচক মনোভাব রাখার চেষ্টা করতে হবে।

তরুণদের নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী?
লায়লা নাজনীন: ক্যারিয়ার প্রো’র তৈরির মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য তাদেরকে যোগ্য করে তোলা। সবাই উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমি দেশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর কাজে আসতে চাই। কারণ সবাই দেশের বাইরে চলে গেলে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে কে? সে কারণে ক্যারিয়ার প্রো’র মাধ্যমে এমন কিছু করতে চাই, যা মানুষের কাজে আসবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com