সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী :

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন না পাওয়ায় ভবিষ্যত জীবন শঙ্কায় পড়েছে রাজশাহীর বেসরকারি শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। ফলে আজ রবিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে গতকাল শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সভা করেন ওই কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। গত সাত বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অব্যাহতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও এখন পর্যন্ত মেলেনি বিএমডিসি’র।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। তারা সকাল থেকে কলেজের মাঠে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা শিক্ষাজীবন হুমকির মধ্যে ফেলার প্রতিবাদে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

২০১৪ সালেও কলেজটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ ওঠে। মেডিক্যাল কলেজের অনুমতি না থাকার পরও ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে ওইসময় বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এরপর ২০১৫-১৬ শেসনে অনুমতি ছাড়ায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করায় পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ কলেজটি ওই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল।

শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, এই কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত বছর মাত্র চারজন এমবিবিএস পাশ করেন গত বছরের মার্চে। এঁরা হলেন মামুনুর রশিদ, রুমা খাতুন, জিন্নাহ ও মৌ খাতুন। কিন্তু এমবিবিএস পাশ করেও কলেজটির বিএমডিসি’র অনুমোদন না থাকায় ওই শিক্ষার্থীরা গত এক বছর ধরে ইন্টার্নশিপ করতে পারছেন না। এতে প্র্যাকটিস করারও অনুমতি পাচ্ছেন না তারা। এমনকি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসকও হতে পারছেন না।

সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত মোট সাতটি ব্যাচে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় কলেজটিতে। এর মধ্যে প্রথম ২ ব্যাচ ও চতুর্থ ব্যাচে ২৫ জন করে এবং পরবর্তীতে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন মেলে। তবে কলেজটিতে শুরু থেকেই অনুমোদন না থাকা, শিক্ষক সংকট এবং হাসপাতালে রোগী না থাকায় আসন ফাঁকা থেকে যায়। ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন কলেজটিতে।

কলেজের এমবিবিএস পাশ করা শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নানা সংকটের মধ্যেও আমি গত বছর ১২ মার্চ এমবিবিএস পাশ করেছি। কিন্তু কেন ইন্টার্নশিপ করতে পারছি না, সেটি জানতে বার বার মেডিক্যাল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে গেছি। কিন্তু তাঁরা আমাকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো আমাকেই নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যেন আমি বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করি।’

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘বিএমডিসির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তাঁরা পরিদর্শন করেছে। কিছু শর্ত দিয়েছে। সেগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে। হয়তো দ্রুত আমরা অনুমতি পেয়ে যাবো। তবে কিছু শিক্ষার্থী হয়তো কারো দ্বারা প্ররোচণায় আন্দোলনে যাচ্ছে। তারপরও তারা ন্যায্য দাবি উত্থাপন করতেই পারে।’

এর আগে কলেজটি পরিদর্শন শেষে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কিন্তু সেখানে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে এই অনিয়ম রাবি কলেজ পরিদর্শকের নজরে আসার পর ২০১৬ সালে সেই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু সদুত্তর না পাওয়ায় সেই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই শিক্ষার্থীরাও নানা ভোগান্তির শিকার হোন। তাঁরা ছয় মাস ধরে সেশনজটে পড়েন।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com