সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতেই হত্যাকাণ্ড

পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতেই হত্যাকাণ্ড

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় গলা কেটে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে বলে দাবি করেছে বগুড়া পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদেরও গ্রেপ্তার করেছে তারা। শনিবার দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। দুপুরেই সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতেই হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নেন প্রেমিকা রূপালী। হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলেন তাঁরা। হত্যাকাণ্ডের পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহত সেলিম প্রামাণিক (৩২) দুপচাঁচিয়ার খিদিরপাড়া গ্রামের কফির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বাবা ও মেয়েকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন আব্দুর রহমান ও তাঁর মেয়ে রূপালী বেগম।

পুলিশ সুপার জানান, রূপালীর স্বামী দেড় বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। বিয়ের আগে সেলিম ও রূপালীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের দুজনের বিয়ে অন্যত্র হলেও মোবাইলে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। রূপালীর স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর সেই প্রেম আরো গভীর হয়। বিভিন্ন সময় একান্তে মিলিত হন তাঁরা। কিন্তু সেলিম রূপালীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি নাকচ করেন। সেলিম তাঁদের একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্যগুলো গোপনে ভিডিও করে রাখেন। রূপালী সেলিমকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ক্ষুব্ধ হন তিনি। পরে ইমোর মাধ্যমে একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্য সৌদিতে অবস্থানরত রূপালীর স্বামীর কাছে পাঠান। তিনি বিষয়টি রূপালীকে জানান। সেলিম রূপালীকে হুমকি দেন, তাঁকে বিয়ে না করলে তাঁর কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজগুলো ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন। এসব বিষয়ে রূপালী তাঁর বাবা আব্দুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রূপালী সেলিমকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন। পরে রূপালীর বাবা ও তাঁর তিন সহযোগী সেলিমকে বেঁধে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর লাশ যেন কেউ চিনতে না পারে সে জন্য সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ তাঁর পরনের অন্য জিনিসপত্র তাঁর বুকের ওপর রেখে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com