সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব খাতে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।

আজ রবিবার (১ মার্চ) মাহফুজুর রহমান নামের এক আইনের শিক্ষার্থী রিটটি করেছেন। তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব খাতে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, লক্ষ করা গেছে যে বর্তমানে ব্যাংকের ঋণের উচ্চ সুদহার দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পসহ ব্যবসা ও সেবা খাতের বিকাশে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকের সুদহার উচ্চমাত্রায় হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প, ব্যবসা ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ঋণগ্রহীতারা যথাসময়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলে। ফলে ব্যাংকিং খাতে ঋণ শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত অন্যান্য সব খাতে অশ্রেণীকৃত ঋণের ওপর সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

সার্কুলারে আরো বলা হয়, কোনো ঋণের ওপর ৯ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করার পরও যদি সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়, সে ক্ষেত্রে যে সময়কালের জন্য খেলাপি হবে অর্থাৎ মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি কিস্তি এবং চলতি মূলধন ঋণের ক্ষেত্রে মোট খেলাপিঋণের ওপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ আরোপ করা যাবে। চলতি বছর থেকে ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতির মধ্যে এসএমইর ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ শিল্প খাতে দেওয়া সব ঋণ স্থিতি পূর্ববর্তী তিন বছরের চেয়ে কম হতে পারবে না।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৩০ ডিসেম্বর জানিয়েছিলেন, এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত সব ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ এবং আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদহার কার্যকর করা হবে। ব্যাংক মালিকরা নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন ২০১৮ সালের জুনে। কিন্তু সরকারি ব্যাংক এবং কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলো ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামায়নি। অথচ ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকের মালিকরা সরকারের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি সুবিধা আদায় করেন। এর মধ্যে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থা রেপোর সুদহার কমানো হয়। কিন্তু এসব সুবিধা নিয়েও তারা সুদহার এক অঙ্কে নামায়নি।

এরপর গত বছরের ১ ডিসেম্বরে কমিটি গঠন করে শুধু উৎপাদনশীল খাতের ঋণের সুদহার এক অঙ্কে বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১ জানুয়ারি থেকে সেটি বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু শেষ সময় এসে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার এবং ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com