সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

হাটহাজারীতে স্কুল শিক্ষকের পেনশন আটকে রাখার অভিযোগ

হাটহাজারীতে স্কুল শিক্ষকের পেনশন আটকে রাখার অভিযোগ

মো.আলাউদ্দীনঃ
হাটহাাজারী উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নজির আহমদের পেনশনের টাকার কাগজপত্র আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমীন বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নজির আহমদ গত ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট সরকারি বিধি অনুযায়ী চাকরির বয়স শেষ করে অবসরে গ্রহন করেন। পরে শিক্ষক কল্যাণ ফান্ডসহ পেনশনের টাকা গ্রহনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে ওই বছরের ১৮ আগস্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরাবরে আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের প্রায় সাত মাস পার হলেও এখনও পেনশনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করেনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যালয়টির অডিট কমিটির সদস্য ছিলেন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নজির আহমদ। এ কমিটিতে ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদুল আলম। বিদ্যালয়টির বিভিন্ন আয়-ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অডিট কমিটির সদস্য হিসেবে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নজির আহমদ অনুমোদন প্রদান করেননি। এছাড়া ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি বাবদ নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুই দফা টাকা নেন প্রধান শিক্ষক। প্রথম দফায় ৪৫০ টাকা ও পরে আবারো ৪৫০ টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নজির আহমদ প্রতিবাদ জানায়। অডিট কমিটির সদস্য নজির আহমদ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রয় ও ব্যয় সংক্রান্ত রশিদে অসংগতি ও অনিয়ম থাকায় স্বাক্ষর করেননি। এসব কারণে প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদুল আলমের সঙ্গে নজির আহমদের দ্বন্দ্ব হয়। এ ক্ষোভ থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নজির আহমদের পেনশন সংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখেন।

এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক নজির আহমদ বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনার বিভিন্ন আয়-ব্যয়ে অসংগতি থাকায় আমি কিছু রশিদের স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকি। কারণ পরবর্তীতে এসব বিষয়ে সরকারিভাবে অডিট হলে আমি দোষী সাব্যস্ত হব। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক নিজেদের মত করে বিদ্যালয়ের নামে অর্থ খরচ করেছেন। অডিট কমিটির সদস্য হিসেবে আমার দায়িত্ব এসব খরচে কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা। তারা তাদের কোনো অন্যায়ের বৈধতা আমার কাছ থেকে আদায় করতে না পারায় গত সাত মাস ধরে আমার পেনশনের কাগজপত্র আটকে রেখেছে। তিনি আরো বলেন, গত ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই দফায় কেন্দ্র ফি নেওয়া নিয়েও আমি প্রতিবাদ করেছি। কারণ কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে বাধ্য করে দুই দফায় টাকা নেওয়া আইন পরিপন্থি। এসব বিষয়ে আমি হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষক সমিতি বরাবরে অভিযোগ প্রদান করেছি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজির আহমদ পেনশনের টাকা পাওয়ার জন্য কোন কাগজপত্র জমা দেননি। তাছাড়া এ সব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না বরং বেশি জানেন সভাপতি সাহেব। তিনি সভাপতির সাথে বসে কথা বললে হয়ে যাবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদুল আলম বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাই তার পেনশনের টাকার কাগজপত্র আটকে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, একজন শিক্ষক আমাকে পেনশনের কাগজপত্র অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগ দিয়েছেন। আমি অভিযোগটির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ করেছি।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com