বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

সিলেট বিভাগরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সাবেক অর্ধশতাদিক নেতাকর্মী যুক্তরাজ্যে বসে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে মরিয়া

সিলেট বিভাগরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সাবেক অর্ধশতাদিক নেতাকর্মী যুক্তরাজ্যে বসে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে মরিয়া

ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে এনে বিচারের সম্মুখীন করার আহ্বান

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
এক দিকে বিএনপি’র ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেকের নেতৃত্বে বিএনপি এবং অন্যদিকে জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিষ্টার আবু বক্কর মোল্লা ও ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরে সাবেক নেতাকর্মীরা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ওরা দেশে থাকাবস্থায় সরকারের উন্নয়ন মূলক প্রতিটি কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতো। আন্দোলনের নামে শহর ও গ্রামগঞ্জে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে মরিয়া ছিল। টানা তিন বারের ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ সরকারকে বেকায়দায় পালানোর জন্য সর্বদা লিপ্ত ছিলো। তাদের সহযোগীদের সাথে নিয়ে রাস্তা অবরোধ, মিছিল, মিটিং ও হরতালের মতো দেশ বিরোধী কাজ করতো প্রতিনিয়ত। এক পর্যায়ে তাদের উপর পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বাদী হয়ে একাধিক মামলা দায়ের করেন। মামলার গ্লানি মাথায় নিয়ে গ্রেফতার এড়াতে কিংবা নিজের আত্মরক্ষার্থে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় তারা। আর লন্ডনে গিয়ে এখন সরকারের সমস্ত উন্নয়নের তারা নেতিবাচক মন্তব্য করেই যাচ্ছেন লাগামহীন ভাবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনার ও সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সরকারী কাজে যুক্তরাজ্যে গেলে তাদেরকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে পঁচা ডিম নিক্ষেপ ও জুতা প্রদর্শন করেন তারা। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন, ডঃ শামসুদ্দিন আহমেদ, মুসলিম খান, করিম মিয়া, আহমেদ আলী, জহিরুল ইসলাম, ইশতিয়াক হোসাইন, আশিকুর রহমান আশিক, বুরহান উদ্দিন চৌধুরী, শামীমুল হক, মানিকুজ্জামান খন্দকার, মাজেদুল ইসলাম খান, মোঃ বেলাল আহমেদ, ইমরান আহমেদ, কাজী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আব্দুল বাছিত, আব্দুল ওয়াহাব, সাইফুর রহমান পারভেজ, দেলোয়ার হুসেন, জয়নাল আবেদিন, আবু সালেহ মোঃ ইয়াহয়া, জাকির হোসেন মিল্লাত, জাকির আহমেদ চৌধুরী, লায়েক আহমদ, রাজু আহমেদ, মিফতা উদদীন, শাহান বিন নিজাম, সাহেল আহমদ হুশিয়ার, সালেক উদ্দিন, আলী হোসাইন, মোজাক্কির আহমদ ও লিয়াকত আলী প্রমুখ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশ ত্যাগ করেও তারা সরকারের সমালোচনা থেকে বিরত থাকেনি। যে কোনো কর্মকান্ডে সরকারকে বেকায়দায় পালানোর জন্য তারা উঠেপড়ে লেগে যায়। সরকারের বিরোধীতা করাকে তারা নিজেদের রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদেরকে লন্ডনের উয়েষ্ট মিনিষ্টার পার্লামেন্ট হাউসের সামনে, ইষ্ট লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক, কমনওয়েলথ অফিসের সামনে ও ইস্ট লন্ডনের বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে মিটিং ও সমাবেশ, মিছিল করতে দেখা যায়। তারা সরকারের বিরুদ্ধে যে কোন ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন ব্যানারে সমাবেশ করে। তাদেরকে সেইভ বাংলাদেশ, সিটিজেন মুভমেন্ট, ওয়ার্কার এলাইন্স, জাস্টিস ফর ভিকটিম, ইউনিবার্সেল ভয়েজ ফর হিউম্যান রাইটস, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই ইউকে, পিস ফর বাংলাদেশ, স্টেন্ড ফর বাংলাদেশ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ভয়েস ফর বাংলাদেশ, অনলাইন এক্টিভিটিস ফোরাম, পাবলিক ফোরাম, শিবির, বিএনপি, যুবদল ইউকে সহ আরো বিভিন্ন ব্যানারে এসব সমাবেশ করতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেকায়দায় পালানোর জন্য কুরুচিপূর্ণ নানা বক্তব্য দেয়। এসময় তাদেরকে বিভিন্ন সরকার বিরোধী শ্লোগান ও বক্তব্য দিতে শোনা যায়। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সহ জায়াতের কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি সংবলিত ছবি নিয়ে এসব প্রোগ্রামে আসতে দেখা যায়।
আওয়ামীলীগ নেতারা প্রতিবেদককে বলেন, সরকারের উচিত এ সকল জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দেশে এনে আইনের আওতায় আনা। দ্রুত এদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় না করালে এরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লন্ডনে অবস্থান করে তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারেক রহমান প্রতিটি প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে বেপরোয়া বক্তব্য দেন। ইউরোপ জামায়াতের মুখপাত্র ব্যারিষ্টার আবু বক্কর মোল্লা ও ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাদের সামনে উস্কানিমুলক বক্তব্য দিতে দেখা যায়। শিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সবাই মিলিত হন। তারা ম্যানচেস্টারের ওলডহাম ও বার্মিংহামে দুটি প্রোগাম করে তাদের অবস্থান জানান দেন। ঐক্যবদ্ধভাবে তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরা প্রতিনিয়ত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ সকল নেতাকর্মীরা নিয়মীত তাদের ফেইসবুক আইডিতে সরকারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করেন ও প্রধান মন্ত্রীর ব্যাঙাত্তক কার্টুন, করুচিপূর্ণ লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র পক্ষে নানা ধরনের পোষ্টও দিচ্ছেন।
এরা এমন সময় বিরোধিতা করছেন যখন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কে রূপান্তরিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে। বেকারত্ব দূর হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এরা সবাই সাবেক বিএনপি জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মী।
এবিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেদককে বলেন, অনতিবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে এনে ওদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা উচিত।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com