বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

পরমাণু যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি এখন!

পরমাণু যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি এখন!

সারা বিশ্বে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। একের পর এক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাস। চীনের পর ইতালিতে এই ভাইরাস সবচেয়ে ভয়াল থাবা বসিয়েছে। ইতালিতে প্রায় পাঁচ হাজার চারশ ৭৬ জন মানুষ মারা গেছেন। আর সারা বিশ্বে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ হাজার সাতশ ৭৬ জন। বাড়ি-ঘর সব ঠিকই আছে শুধু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে এই মারণ ভাইরাস। এই ভাইরাসের আক্রমণকে অনেকেই পারমাণবিক বোমার আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের আর্মস-কন্ট্রোল এক্সপার্ট জেফরি লুইস বলেছেন, ভাইরাসের প্রভাব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লকডাউন প্রতিক্রিয়াটি ধীর গতিতে পারমাণবিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি। তিনি বলেন, আমি মনে করি পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিটের অভাব রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আমি মনে করি না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর কাছে এমন সরঞ্জাম রয়েছে যা সত্যিকার অর্থে করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম। তবে প্রাশাসন করোনা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বর্তমানে করোনা ইতালিতে ভয়াল তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রেও হানা দিয়েছে এই মারণ ভাইরাস। করোনার হানায় যুক্তরাষ্ট্রে চারশ ৫৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর ৩৫ হাজার ৭০ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সুস্থও হচ্ছেন। তার সংখ্যাটা অনেক কম। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাত্র একশ ৭৮ জন মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে, সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ ৪৩ হাজার চারশ ১৪ জন মানুষ। আর আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪ হাজার সাতশ ৭৬ জন মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৯ হাজার ৬৬ জন মানুষ। সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ইতালিতে। উহানে এই ভাইরাসের কালো থাবা শুরু হলেও এক মাসের ব্যবধানে ইতালি চীনকে ছড়িয়ে গেছে মৃত্যু ও আক্রান্তের দিক দিয়ে।

এই মারণ ভাইরাস করোনা কবে থামবে; তা নিয়ে কেউই কিছু বলতে পারছেন না। উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি টিকাও। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে ‘হাইড্রোক্সি-ক্লোরোকুইন’র ব্যবহার করে করোনার চিকিৎসা করা হচ্ছে। ম্যালেরিয়ার ওষুধও ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘ইন্টারফেরন আলফা টু-বি’ নামে পরিচিত কিউবার এক ওষুধ করোনার মুক্তিতে ব্যাপক কাজ করছেও বলে বলা হচ্ছে। চীনের চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে এই ওষুধটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com