শনিবার, ০৬ Jun ২০২০, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
করোনা উপসর্গ নিয়ে বড় ভাইয়ের ৯ ঘন্টা পর ছোট ভাইয়েরও মৃত্যু ! হাটহাজারী পৌরসভায় করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রবাসীর মৃত্যু! করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছাকাছি গেলেই সতর্ক করবে স্মার্টফো-সময়ের ধারা বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬৬ লাখ করোনায় রানা প্লাজার মালিকের মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে লিটন ট্রেডার্সের ১৩লক্ষ টাকা আত্মসাৎ-সময়ের ধারা স্মার্টফোন বলে দেবে আশপাশে কতজন করোনা রোগী, অপশনটি অ্যাপ চালু করুন হাঁটু পানিতে নেমে ধান কেটে দিল ছাত্রলীগ লক্ষীপুরে জোরপূর্বক পৈত্রিক সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ-সময়ের ধারা লক্ষ্মীপুরে নতুন করে ১১৯ জনের টেস্ট করে ২২ জনের করোনায় পজেটিভ-সময়ের ধারা
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মহামারী করোনা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুশিয়ারি

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মহামারী করোনা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুশিয়ারি

করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট মহামারী আরও বেগবান হয়ে বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে হুশিয়ার করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোভিড-১৯ রোগে এ পর্যন্ত তিন লাখের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছেন সাড়ে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। খবর বিবিসির।

প্রাণঘাতী এ আক্রান্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি থেকে শুরু করে এই সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ৬৭ দিন।

পরের মাত্র ১১ দিনে আরও এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হন এবং এর পরের এক লাখে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র চার দিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখনও এর গতিপথ পাল্টে দেয়া সম্ভব।

কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা ও আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কৌশলের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান বিশ্ববাসীকে।

তিনি বলেন, আমরা কী পদক্ষেপ নিই, সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে একটি ফুটবল ম্যাচ জেতা যায় না। প্রতিরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণও করতে হবে।

ফুটবল খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘কিক আউট করোনাভাইরাস’ বা করোনাভাইরাসকে দূর কর- এমন একটি কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিফার প্রেসিডেন্ট গিয়ান্নি ইনফানটিনোর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. টেড্রস বলেন, মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পদক্ষেপ ভাইরাসের সংক্রমণের গতি কমিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কিন্তু এগুলোকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি জিততে সাহায্য করবে না।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশগুলোকে আগ্রাসী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. টেড্রস।

জয় পেতে হলে আমাদের আগ্রাসী আর সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করতে হবে- প্রতিটি সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরীক্ষা করতে হবে, শনাক্ত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইসোলেশন ও যত্নে রাখতে হবে এবং আর তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।

তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে চিকিৎসা কর্মীদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ড. টেড্রস। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি বা পিপিই পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার কারণেই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন তারা।

তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা তখনই তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, যখন তারা নিজেরা নিরাপদে থাকতে পারবেন।

আমরা যদি অন্য সবকিছুই ঠিকঠাক করি; কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করি, তা হলে অনেক মানুষ মারা যাবে। কারণ যে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের সেবা দিতেন তারাই অসুস্থ।

তিনি বলেন, পিপিইকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং এর গুরুত্ব নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে এর সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে জি-২০ জোটভুক্ত নেতাদের তিনি আহ্বান জানাবেন, তারা যাতে সুরক্ষা সরঞ্জামাদি উৎপাদন বাড়ায় এবং সেগুলো রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সোমবার রাতে ঘোষণা দেন যে, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া হবে না।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা, প্রতিদিন এক ধরনের ব্যায়াম করা, যে কোনো চিকিৎসাসেবার জন্য এবং ঘরে থেকে কাজ করা সম্ভব না হলে কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষজন বের হতে পারবে।

বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৬০২ জন। সব মিলিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬০৭৭ জনে।

কিন্তু গত বৃহস্পতিবারের পর এই প্রথম একদিনে কমসংখ্যক মানুষ মারা গেল। ধারণা করা হচ্ছে যে, সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল তা কাজ করতে শুরু করেছে।

স্পেনে একদিনে মারা গেছে ৪৬২ জন, যা মিলিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮২ জনে।

ফ্রান্সে নতুন করে মারা যাওয়া ১৮৬ জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা ৮৬০ জন। সেখানে মঙ্গলবার থেকে লকডাউন কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শরীরচর্চার মতো কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে এবং খোলাবাজার বন্ধ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য ডিক পাউন্ড বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে টোকিও অলিম্পিক এক বছর পেছানো হতে পারে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি আইওসি।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com