বুধবার, ০৩ Jun ২০২০, ০৩:০২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে নতুন করে ১১৯ জনের টেস্ট করে ২২ জনের করোনায় পজেটিভ-সময়ের ধারা জালালপুর ইকো রিসোর্ট এ কম্ব্যাটিং কোভিট ১৯ এর উপর কর্মশালা হরিপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় আত্মহত্যা নিকলী হাওর আর জালালপুর ইকো রিসোর্ট এর ভ্রমণ গদ্য লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করলো সবুজ বাংলাদেশ ইনাফা-সময়ের ধারা কটিয়াদীতে ইসাহাক ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন ও জালালপুর ইকো রিসোর্টের উপহার সামগ্রী প্রদান ফরিদপুরে জেলার ভাংগায় সাংবাদিকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ পূন:মিলনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ নতুন ২৫২৩ জনের করোনা শনাক্ত-সময়ের ধারা একজন আর্দশ শিক্ষকের গল্প লক্ষীপুর রামগতিতে খালের পানিতে ভেসে উঠল কৃষকের লাশ-সময়ের ধারা
করোনাভাইরাস ও ইসলামের শিক্ষা

করোনাভাইরাস ও ইসলামের শিক্ষা

‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র’ ইহকাল ও পরকালে সফল হতে চাইলে জীবনের সব ক্ষেত্রে এ কথাটির বাস্তবায়ন জরুরি। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের বিস্তার থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। প্রতিটি দেশ, সমাজ ও ব্যক্তি নিজের মতো করে এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। কিন্তু একজন ইমানদার এর থেকে কী শিখতে পারে?

১. করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে জীবনের ক্ষুদ্রতা ও ক্ষয়িষ্ণুতা। করোনাভাইরাস আমাদের সামনে এই জীবন্ত সত্য তুলে ধরেছে যে এই জীবন ক্ষণস্থায়ী। পার্থিব জীবন দেখতে খুবই সুন্দর। দুনিয়াপ্রেমী সে সৌন্দর্য হৃদয় দিয়ে অবলোকন করে। ফলে সে এ জীবনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। মনে করে- সে নিজেই জীবনের মালিক! কিন্তু আকস্মিকভাবে সুন্দর জীবন তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তৈরি করা হয় তার ও জীবনের মাঝে সুবিশাল অভেদ্য প্রাচীর। মহান আল্লাহতায়ালা দুনিয়ার জীবনে ক্ষুদ্রতা তুলে ধরে বলেন, ‘পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত বৃষ্টির মতো, যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তা দিয়ে জমিনে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, আর মানুষ ও জীবজন্তু তা আহার করে থাকে। তারপর ভূমি যখন শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয় এবং এর (জমিনের) মালিকরা মনে করেএসব তাদের আয়ত্তাধীন, তখন রাতে বা দিনে আমার নির্দেশ এসে পড়ে। তারপর আমি তা এমনভাবে নির্মূল করে দিই, যেন গতকালও তার অস্তিত্ব ছিল না…।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ২৪)

২. করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে মানুষ শিল্পে, শিক্ষায়, শক্তিতে, সমরাস্ত্রে, বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে যতই উন্নতি লাভ করুক সবকিছু মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের সামনে তুচ্ছ, অতি নগণ্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সাত আকাশ এবং সেগুলোর অনুরূপ পৃথিবীও। এগুলোর মধ্যে নেমে আসে তার নির্দেশ, যাতে তারা বুঝতে পারে যে আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং জ্ঞানে আল্লাহ সব কিছু পরিবেষ্টন করে আছেন।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ১২)

৩. করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকার জন্য যেভাবে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে হয়, তেমনি সামাজিক অপরাধ যথা খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি এবং কুফর, শিরক, বেদআতসহ পাপের ভাইরাস থেকে নিজেকে বাঁচাতে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখতে হবে। অতীতে এর সর্বোত্তম নজির দেখা যায় আসহাবে কাহফের ঘটনায়। একদল যুবক নিজের ইমান ও বিশ্বাস টিকিয়ে রাখার জন্য গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে এক দীর্ঘ ঘুমে তারা ৩০৯ বছর পার করেছেন। বলা যায়, এটি ছিল দীর্ঘতম ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’। তাদের ঘটনা নিয়ে পবিত্র কোরআনে একটি সুরা নাজিল হয়েছে। নাম হলো সুরা কাহফ।

৪. মৃত্যু মানবজীবনের অনিবার্য নিয়তি ও পরিণতি। জীবমাত্র মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবেএ সত্য অস্বীকার করার সাধ্য কারও নেই। আর করোনাভাইরাস এই নির্মম সত্যকে আমাদের সামনে আরও জীবন্ত, আরও অনিবার্য করে তুলেছে যে যেকোনো সময় এর সংক্রমণে মৃত্যু হতে পারে। তাই মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকা উচিত। অসিয়তনামা লিখে রাখা সুন্নত। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে রাখা চাই। নিজের সব কাজ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘বলে দাও, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করো, সেই মৃত্যু তোমাদের সঙ্গে অবশ্যই সাক্ষাৎ করবে…।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত : ৮)

৫. করোনাভাইরাস মুসলমানদের অজুর ইহলৌকিক উপকার চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। অজু অন্যতম ইবাদত। পরকালে অজুর অঙ্গগুলো দীপ্তমান হয়ে উঠবেএ কথা হাদিসে আছে। কিন্তু এই ভাইরাসের সময় যেভাবে হাত ধোয়ার প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে তাতে অজুর ইহলৌকিক উপকারিতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার।

একজন মুসলমান প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচবার অজু করে। প্রতিবার অজুতে তিনবার করে হাত কবজি পর্যন্ত এবং তিনবার করে কনুই পর্যন্ত ধৌত করতে হয়। এতে প্রতি অজুতে ছয়বার হাত ধৌত করতে হয়। আর দিনে পাঁচবার অজু করা হলে মোট ৩০ বার হাত ধৌত করতে হয়। আর এভাবে হাত ধৌত করতে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ইসলামি শরিয়তের পক্ষ থেকে ‘বাধ্য’ করা হয়েছে।

আবার রাতে ঘুমানোর আগে অজু করার নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে ছয়বার হাত ধৌত করতে হয়। আর ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য অজু করতে হয়। সেখানে ছয়বার হাত ধৌত করতে হয়।

ফরজ ও নফল নামাজের বাইরে সব সময় অজুর সঙ্গে থাকা মুস্তাহাব। আর চিকিৎসা-গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষ প্রতিদিন কমপক্ষে চারবার প্রস্রাব করে এবং একবার টয়লেট করে। এ ছাড়া নানা কারণে অজু ভেঙে যেতে পারে। সব মিলিয়ে যদি আরও পাঁচবার অজু করা হয়, তাহলে কমপক্ষে ১২ বার অজু করা হয়। তাহলে একজন মুসলমান যথাযথভাবে ইসলামের বিধান মেনে চললে তাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭২ বার হাত ধৌত করতে হয়।

তা ছাড়া খাবার গ্রহণের আগে, মিসওয়াক করার আগে, ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ধৌত করা সুন্নত। যে ব্যক্তি এভাবে হাত ধৌত করে, সে আল্লাহর ইচ্ছায় বহু ভাইরাস ও জীবাণু থেকে বেঁচে থাকতে পারে।

৬. করোনাভাইরাস আমাদের পরকালের নির্মম বাস্তবতা শিখিয়েছে। পরকালে সন্তান তার মা-বাবাকে, বন্ধু তার বন্ধুকে ভুলে যাবে। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। আর এই ভাইরাসও দূরে যাওয়া ও দূরে থাকার সর্বাত্মক নির্দেশনা দেয়। এর সঙ্গে কোরআনের এই আয়াতগুলো মিলিয়ে দেখুন, ‘সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে, এবং তার মা-বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও সন্তান থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের হবে এমন গুরুতর অবস্থা, যা তাদের নিজেদের সম্পূূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে।’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ৩৪-৩৭)

৭. করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য মাস্ক ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়। এই মাস্ক থেকে মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য শিক্ষার উপাদান রয়েছে। নারীরা শিখতে পারে যে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য যেভাবে মাস্ক পরা হয়, ধর্ষণ, ব্যভিচার ও অশ্লীলতার মতো সামাজিক ভাইরাসরোধে পর্দা কাজে লাগে।

আর পুরুষরা এই মাস্ক থেকে এটা শিখতে পারে যে, যেখানে-সেখানে মুখের ব্যবহার করা যাবে না। মুখের লাগামহীন ব্যবহার ইসলামে নিষিদ্ধ।

৮. বর্তমানে কাশির শিষ্টাচার বলে একটা কথা প্রচলিত হয়েছে। ইউরোপ ও আধুনিক শিক্ষিত লোকেরা হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার বলতে ‘স্যরি’, ‘এক্সকিউজ মি’ ইত্যাদির সঙ্গে পরিচিত ছিল। কিন্তু মুখে হাত দেওয়ার বিষয় পনেরোশ বছর আগে মহানবী (সা.) শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হাই-হাঁচি দিলে মুখে হাত দেবে। পানি খাওয়ার সময় মুখ পানি থেকে দূরে সরিয়ে শ্বাস নেবে।

৯. করোনাভাইরাস মুসলমানদের মধ্যে নতুনভাবে এই চিন্তার জাগরণ করে যে, অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতার সময়কে

যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে নিয়ামতের বিষয়ে মানুষ ধোঁকার মধ্যে থাকে। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

১০. করোনাভাইরাসসহ সময়ে সময়ে যেসব বিপদ ও বিপর্যয় নেমে আসে, তা মুসলমানদের তাওবা করতে উদ্বুদ্ধ করে, নিজেকে শুধরে নিতে ও সতর্ক হতে নির্দেশ দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তারা কি দেখে না যে তাদের প্রতি বছর একবার বা দুইবার বিপর্যয় সৃষ্টি করা হয়? এরপরও তারা তাওবা করে না, উপদেশ গ্রহণ করে না!’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১২৬)

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com