বুধবার, ০৩ Jun ২০২০, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে নতুন করে ১১৯ জনের টেস্ট করে ২২ জনের করোনায় পজেটিভ-সময়ের ধারা জালালপুর ইকো রিসোর্ট এ কম্ব্যাটিং কোভিট ১৯ এর উপর কর্মশালা হরিপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় আত্মহত্যা নিকলী হাওর আর জালালপুর ইকো রিসোর্ট এর ভ্রমণ গদ্য লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করলো সবুজ বাংলাদেশ ইনাফা-সময়ের ধারা কটিয়াদীতে ইসাহাক ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন ও জালালপুর ইকো রিসোর্টের উপহার সামগ্রী প্রদান ফরিদপুরে জেলার ভাংগায় সাংবাদিকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ পূন:মিলনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ নতুন ২৫২৩ জনের করোনা শনাক্ত-সময়ের ধারা একজন আর্দশ শিক্ষকের গল্প লক্ষীপুর রামগতিতে খালের পানিতে ভেসে উঠল কৃষকের লাশ-সময়ের ধারা
করোনা যুদ্ধের এক কন্ঠ যোদ্ধার গল্প

করোনা যুদ্ধের এক কন্ঠ যোদ্ধার গল্প

বিনোদন ডেস্কঃ সারা বাংলাদেশ এই মূহুর্তে যার কন্ঠ সবচেয়ে বেশি শুনছে তার নামটি হয়তো অনেকেরই অজানা। জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩, স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ অথবা আইই ডিসিআরের ১০৬৫৫ নাম্বারে কল করলেই নির্দেশনামূলক বার্তা দিচ্ছেন মিষ্টি কন্ঠের একজন নারী। কখনো অন্য কোন নামে কখনো বা নামহীন ভাবে প্রতিদিনই নতুন করে রেকর্ডকৃত কোন না কোন নির্দেশনামূলক তথ্যে কন্ঠ দিলেও তার আসল নামটি হল সুমাইয়া জামান।
করোনার ঝুঁকি নিয়েই সরকার নির্ধারিত স্টুডিওতে গিয়ে জাতীয় হেল্পলাইন ছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ডেন্গু হেল্পলাইন, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের শিক্ষা বাতায়ন, খাদ্য মন্ত্রনালয়ের খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনা- ই সিসটেম, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন সহ অন্যান্য মন্ত্রনালয়ের করনা মোকাবেলায় ও করোনা পরবর্তি বিভিন্ন সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র ও কলসেন্টারের রেকর্ডকৃত নির্দেশনামূলক বার্তায় কন্ঠ দিয়ে আসছেন নিয়মিতভাবে।
সেই নব্বইয়ের দশকে কারী বেলালীর উপস্থাপনায় বিটিভির কুরআন শিক্ষার আসর ‘আলোর দিশারী’তে মাত্র তিন বছর বয়সে ছোট্টবন্ধু হিসেবে আত্মপ্রকাশ সুমাইয়ার। পাশাপাশি শিশু শিল্পী হিসেবে কুরআন তেলাওয়াত চালিয়ে গেছেন কারী ওবায়দুল্লার উপস্থাপনায় বাংলাদেশ বেতারের কুরআন শিক্ষার আরো একটি অনুষ্ঠানেও। বাবা-মায়ের আগ্রহহের কারনেই টিভি আর রেডিওতে আসা হয়েছে বলে জানালেন বৈশাখি টেলিভিশনের ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে জনপ্রিয় টকশো ‘বিজনেস বাংলাদেশের’ উপস্থাপিকা সুমাইয়া।
জরুরি সেবায় কন্ঠদেয়া ও টকশোর পাশাপাশি করনার এই সময়েও ঘরে থেকে পরিচালনা করছেন অনলাইন টকশো ‘স্ট্রি মিং ইউথ সুমাইয়া জামান’ যেখানে সমসাময়িক আলোচনার বিষয় নিয়ে যুক্ত হচ্ছেন দেশ ও দেশের বাইরের বিশেষ ব্যাক্তিত্বরা। ব্যক্তিগত জীবনে শিক্ষার প্রতি অনুরাগী, তাই লেখাপরাটাও করেছেন বিভিন্ন বিষয়ে। ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে আরেকটি স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেলিভিশন এন্ড ফিল্ম স্টাডিজ থেকে এমএসএস করেছেন, ইচ্ছা আছে বার এট ল’ কিংবা পিএইচ ডি করবেন ভবিষ্যতে।
ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে সমপ্রচার সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও একে একে সময় টিভি, রেডিও ধ্বনির মত প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেন দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। সাফল্যের শিখরে যুক্ত হয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কনফারেন্স এমনকি পাশের দেশ ভারতে একটি সুন্দরি প্রতিযোগীতায় সব কটি পর্বে বিচারক হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনেন সন্মান।
দেশেও বিভিন্ন সময় তাকে দেখা গেছে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের ভুমিকায়। এসব কাজের পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসার সুবাদে সুমাইয়া জড়িত হয়েছেন ওয়েব, রোটারী ও এনবিএর মত ব্যাবসায়ীক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনগুলোর সাথে। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে সংগঠন গুলোর কাজ করতে তিনি বেশি আগ্রহী সেগুলোর একটি হচ্ছে উদ্যোক্তা নিয়ে কাজ করা ‘এসআইওয়াইবি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ যেখানে ইন্টারন্যশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের সার্টিফাইড ট্রেইনার হিসেবে পরিচ্ছন্নতা কর্মী কিংবা কর্মজীবি নারী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদেরকে উদ্যোক্তা হবার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন পর্দার পেছনের জীবনে । তবে তার নিজের হাত ধরে বেড়ে ওঠা আরেকটি সংগঠন হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবন পরিবর্তনে কাজ করা ‘বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ উইমেন্স সোসাইটি’।
একই সংগঠনটি থেকে নারীদের দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে ‘উন্মুক্ত পাঠশালা’ নামের একটি স্কুল। যেখানে প্রায় অর্ধশত শিশু-কিশোর লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারসহ পাচ্ছে অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগীতা যার ফলাফল সরুপ এখন আর তাদের পারিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে স্কুল বাদ দিয়ে বাইরের কোন কাজ করতে হচ্ছেনা। সংগঠনটি তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা পরিবর্তনের জন্যও কাজ করে যাচ্ছে।
সুমাইয়া স্বপ্ন দেখেন যে, একদিন এই শিশুগুলোর পাশে তার মত অনেকেই দাড়াবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। সবার কাছে আবেদন জানান, কেউ যদি তাদের স্কুলের একটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুরও দায়িত্ব নেন তাহলে হয়তো এদের মত আরো অনেকেরই ভাগ্য বদলে যাবে। অন্ধকারে পরে থাকা মুখগুলো দেখতে পারবে জীবনে আলোর রেখা।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com