বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১০:৫২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
একজন আর্দশ শিক্ষকের গল্প লক্ষীপুর রামগতিতে খালের পানিতে ভেসে উঠল কৃষকের লাশ-সময়ের ধারা লক্ষ্মীপুর” লোকে লোকারন্য মতির হাট মেঘনা নদীর পাড়-সময়ের ধারা হাটহাজারীর উদালিয়াতে সন্ত্রাসীর রাজত্ব কায়েম করতে যুবককে রক্তাক্ত জখম লক্ষীপুর বাসীকে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুঃ পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা লক্ষীপুর বাসীকে জেলা মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা-সময়ের ধারা লক্ষীপুর বাসীকে কাজী নাঈমের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা-সময়ের ধারা লক্ষ্মীপুরে’পত্রিকা হকারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন জেলা মানবাধিকার সংস্থা-সময়ের ধারা ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম-সময়ের ধারা লক্ষ্মীপুরে এ বি এম গোফরান হোসেন বাবুর ঈদ উপহার-সময়ের ধারা
“একজন আর্দশ শিক্ষক এর গল্প” মোঃ সাদ্দাম হোসাইন

“একজন আর্দশ শিক্ষক এর গল্প” মোঃ সাদ্দাম হোসাইন

একজন আদর্শ শিক্ষককে এক বাক্যে সংজ্ঞায়িত করা খুবুই কঠিন, তবে সাধারণভাবে আদর্শ শিক্ষক হলো উনিই যাঁকে তাঁর শিক্ষার্থীরা চিরকালের জন্য স্বরণ রাখে। আদর্শ শিক্ষকের তাঁর ছাত্র-ছাত্রীর জীবনের উপর প্রভাব হলো অতি দীর্ঘ। ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মহিমা তৈরি ও একজন আদর্শ মানুষ হতে তাদের অনুপ্রাণিত করেন।
আমাদের রাজাপুর ইয়াছিন ইনস্টিটিউশন এর শ্রদ্ধেয় সুব্রত কুমার দাস স্যার ঐ রকমই একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। একজন সাধারণ শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে চিন্তা করেন কিন্তু সুব্রত কুমার দাস স্যার ছিলেন এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি ছিলেন সর্বদা “ Out of the box thinker”.। ক্লাসরুমে আদর্শ শিক্ষকগণ অন্যদের তুলনায় আলাদা থাকেন। শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ, পাঠ্যবইই নয় কিন্তু তার সাথে বাস্তবতার সম্মিলন ঘটিয়ে প্রকৃত জ্ঞান প্রদান করাই হচ্ছে আদর্শ শিক্ষকের কাজ। আমাদের অঞ্চলের অধিকাংশ পিতা-মাতা অসচেতন থাকার কারণে আমাদের সুব্রত কুমার দাস স্যার নিজেই তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের অভিবাবকের ভূমিকা পালন করতেন।
তিনি শুধু অভিবাবকই ছিলেন না তিনি ছিলেন তার চেয়েও বেশি, শিক্ষার্থীদের পড়ানোর পাশাপাশি তাদের সাথে তাঁর ছিল এক অন্যরকম সখ্যতা। নিজের জীবন ও পরিবারের চেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর গুরুত্ব ছিল অসীম। শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রেরণা যোগানোই ছিল তাঁর কাজ শিক্ষা ছাড়া যে সমাজ পরিবর্তন করা যায়না তা ভালোভাবে বুঝে ছিলেন আমাদের সুব্রত কুমার দাস স্যার। তাঁর কাছে শিক্ষার্থীরা ছিল শুকনো কাঠের মতো, আর শুকনো কাঠ হচ্ছে আগুন কিন্তু শুকনো কাঠ নিজে নিজে জ্বলেনা কেউ না কেউ তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিতে হয়। আর একবার আগুন জ্বালালে তা জ্বলতে থাকে, নেভেনা। আমাদের সুব্রত কুমার দাস স্যার রাজবাড়ী জেলার বসন্তপুর ইউনিয়ন ও সুলতানপুর ইউনিয়নের অসংখ্য শুকনো কাঠে আগুন জ্বালিয়েছেন, তার ছাত্র-ছাত্রীরা জ্বলে ওঠেছে।
স্যার যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন তা আজ আলো ছড়াচ্ছে। কারণ শিক্ষার আলোই হচ্ছে পৃথীবির সবচেয়ে শক্তিশালী আলো। স্যার যখন ক্লাস নিতেন, শিক্ষার্থীরা সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনত। শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ নয়, মন-মগজ ও আকর্ষণ করার এক অভিনব ক্ষমতা ছিল তার। স্যারের আরেকটি গুণ হচ্ছে, তিনি কোনো সময় রাগ করতেন না। ভালোবাসা দিয়ে জয় করে নিতেন সব ভুল। অনেক স্যার আছেন অকারনে তাদের কাছে কোন কিছুর জন্য গেলে রেগে যেতেন,কিন্তু স্যারের কাছে ছিল সেটি উল্টো কোন দিন কোন কারণে বিরক্ত হন নি। স্যারকে দেখেছি সবার আগে স্কুলে পৌছোছেন আবার সবার শেষে স্কুল থেকে ফিরেছেন।স্যার যদি সবার শেষে আসেন আর সবার আগে যান তাহলে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরা কীভাবে নিয়মানুবর্তী হবেন? আর শিক্ষার্থীরা এতে করে কি শিখবে।
বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য
যুবকদের নিয়ে তিনি উন্নয়ন কমিটি প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। এ জন্য তিনি যেমন বাহবা পেয়েছেন এবং হয়ে উঠেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সমাজ হিতোষীদের নয়নের মণি।রাজাপুর ইয়াছিন ইনস্টিটিউশন এর এসএসসি ২০০৭ ব্যাচের পক্ষথেকে আমরা স্যারের সুস্থ ও সুন্দর জীবন কামনা করি

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com