বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২০, ১০:৪০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ

হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ

হাটহাজারী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীর হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। প্রতিবছরের মতো এবারও হালদা নদীতে উৎসবের আমেজে ডিম সংগ্রহ করছেন স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা। শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৭টা থেকে মা মাছ হালদা নদীতে পরিপূর্ণভাবে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে আছে হালদা নদী। দুই উপজেলায় হালদা নদীর সত্তার ঘাট, অংকুরী ঘোনা, মদুনাঘাট, গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, নাপিতের ঘোনা ও মার্দাশা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছ ডিম ছেড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আর ডিম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে হালদা পাড়ে বসেছে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা। ডিম আহরণকারীরা দুপুরের পর থেকে ডিম সংগ্রহ করে তীরে আসতে শুরু করবেন। তখন কি পরিমাণ নৌকায় কত ডিম সংগ্রহ হয়েছে সেটা জানা যাবে। তবে সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০০ নৌকায় দেড় হাজার মৎস্যজীবী ডিম সংগ্রহ করছেন। মনে হচ্ছে এবার ভালো পরিমাণে ডিম সংগ্রহ হচ্ছে।

প্রতিবছরের চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা-অমাবস্যার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নামে হালদা নদীতে। আর তখনই তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মাছ। মধ্য এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। তবে এবার অমাবস্যা তিথি থাকলেও বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢল ছাড়াই মা মাছ ডিম ছেড়ে দিয়েছে। প্রথমে বৃহস্পতিবার (২১ মে) গভীর রাতে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। সকালে পূর্ণমাত্রায় ছেড়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘সাধারণত পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথিতে ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢল নামলেই মা মাছ ডিম ছাড়ে। তবে ব্যতিক্রমও হয়। সাধারণত নদীর পরিবেশ ডিম ছাড়ার উপযুক্ত হলেই মা মাছ ডিম ছেড়ে দেয়। আর পরিবেশ উপযুক্ত কি না, সেটা দেখতে প্রথমে অল্প পরিমাণে ছাড়ে। সেটাকে স্থানীয়রা নমুনা ডিম বলে থাকেন। সংগ্রহ করা ডিম থেকে রেণু ফোটানো হবে। পরিচর্যার মধ্য দিয়ে সেই ডিম থেকে পোনা হবে। ডিম ফোটানোর জন্য তিনটি হ্যাচারি ও ৬০টি কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরও কুয়া প্রস্তুত আছে।’

উল্লেখ্য, গত বছর প্রায় সাত হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল হালদা থেকে। ২০১৮ সালে স্থানীয়রা ডিম সংগ্রহ করেছিলেন ২২ হাজার ৬৮০ কেজি। এর আগে ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com