রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মজলিসে সুরার বৈঠকে মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন, বাবুনগরী শিক্ষা সচিব মনোনীত ! মরহুম আহমদ শফীর জানাযা ও দাফন সম্পন্ন, জনসমূদ্রে পরিণত মাদ্রসা এলাকা ! মুহতামিমের পদ ছেড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে আহমদ শফী ,কাল শনিবার জানাযা ! সাংবাদিক মির্জা ইমতিয়াজের নানী নাজমা খায়েরের ইন্তেকাল ! হাটহাজারীতে স্বামী হত্যাকারী খুনী স্ত্রীর ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন! মুহতামিম পদ থেকে আহমদ শফির পদত্যাগ, ছাত্র আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষনা ! অবশেষে ছাত্র আন্দোলনের মুখে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা ! আবারও হাটহাজারী মাদরাসায় আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা : আহমদ শফী সহ শিক্ষকদের রুমের দরজা ভেঙ্গে লুটপাট ! ২৪ ঘন্টায় গ্রুপ বীমা দাবি পরিশোধ করলো মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স-সময়ের ধারা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা সচিব শফী পুত্র আনাস মাদানীকে অব্যাহতি !
লক্ষ্মীপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ-সময়ের ধারা

লক্ষ্মীপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ-সময়ের ধারা

কাজী নাঈম লক্ষীপুর প্রতিনিধি:- লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার ১৯ নং তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরমনসা কমিউনিটি ক্লিনিকে নানা দুর্নীতি ও অনিমের অভিযোগ উঠেছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদানে হয়রানি, দায়িত্বে অবহেলা সাংবাদিকদের কাছে এমন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন এলাকার স্থানীয় জনগন।

জনগনের কাছ থেকে অভিযোগ আসে, উল্লিখিত কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও অর্থ ব্যতীত কোন সেবাই প্রদান করা হয় না। এছাড়াও ক্লিনিকটি যথাসময়ে খোলা থাকে না এবং রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয় ।

সকাল ১১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কমিউনিটি ক্লিনিকটি বন্ধ রয়েছে।স্থানীয় জনসাধারণ জানায়, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মহসিন রাজু(সিএইচসিপি)প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের ২-৩ ঘন্টা পরে অফিসে এসে সামান্য সময়ের জন্য ক্লিনিক খোলা রেখে পুনরায় ফিরে যান।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ওই ক্লিনিকে প্রায় দুই শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসে। ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষ অসুস্থ হয়েও সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। রোগীরা সেবা নিতে এসে তালা বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন।বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ঠাণ্ডাজনিত রোগে চিকিৎসা না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে,কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি।

এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নামে মাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে কিন্তু সপ্তাহে দু-একদিন ছাড়া ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকে।
তারা আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে তার ১০ ভাগ ওষুধও গরিব-দুঃখী মানুষের ভাগ্যে জোটে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার ভুক্তভোগীরা।

সপ্তাহে দু-একদিন ক্লিনিক খুললেও দু-চারজনকে নামে মাত্র কিছু ওষুধ দিয়ে বিদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য রোগীদের ওষুধ নেই বলে বিদায় করা হচ্ছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে রয়েছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মহসিন রাজু(সিএইচসিপি)।কিন্তু তাকে অফিস চলাকলীন খুঁজেও পাচ্ছেন না সেবাপ্রত্যাশীরা। কারও সঙ্গে দেখা হলে বলে থাকেন ক্লিনিকের কাজে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম।কোনো তদারকি না থাকার কারণে স্বাস্থ্য সহকারী ও সুপারভাইজাররা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী ক্লিনিক খোলেন এবং বন্ধ করেন।

কমিউনিটি ক্লিনিকটির কার্যক্রম যেভাবে চলছে, তা সত্যিই হতাশাজনক।ফলে এলাকার বাসিন্দারা ঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। মনে প্রশ্ন জাগে, একটি উপজেলার এতগুলো কমিউনিটি ক্লিনিকের যদি এ রকম বেহাল পরিস্থিতি বিরাজ করে, তাহলে সে এলাকার সাধারণ মানুষ কী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে? এসব দেখার কি কেউ নেই?

আর্থিকভাবে স্বচ্ছলরা প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে পারলেও দরিদ্র ও অসহায় মানুষগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা পাওয়ার প্রত্যাশায় করছেন।
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মহসিন রাজুর সাথে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি নিয়মিত অফিস করি,নিয়মিত ক্লিনিকে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকি।কেউ যদি প্রতিহিংসা বশত আমার বদনাম করে তাতে আমার কি করার আছে।

আমি আমার দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথ ভাবে পালন করি।এ ব্যাপারে আমার উধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দীনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, সিসিতে দায়িত্বরত সিএইচসিপি নিয়মিত অফিস করে। এলাকার মানুষ সিসি থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে।

দেশের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। প্রতিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ছয় হাজার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অযত্ন, অবহেলা এবং কিছু মানুষের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে এর যে মূল উদ্দেশ্য, তা আজ ব্যাহত হচ্ছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

লক্ষ্মীপুর উপকূলীয় জেলা। বিশেষ করে জেলার রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উপকূলীয় ও চারাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com