মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে সেনানিবাসে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে সেনানিবাসে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদন :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে বলেছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন রয়েছে, তাঁর দুই ভাই শহীদ শেখ কামাল এবং শহীদ শেখ জামাল সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, তাঁর ছোট ভাই শেখ রাসেল পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিল। কাজেই পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের উপযোগী করে সেনাবাহিনীকে গড়ে তোলাকে আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলেই মনে করি। দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা সতর্ক থেকে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক হুমকি মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গতকাল রবিবার সকালে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। ঢাকা সেনানিবাস থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

 

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা সেনানিবাসে ক্যান্সার সেন্টার, ফার্টিলিটি সেন্টার, এডিবল ওয়েল মিল এবং বিভিন্ন সেনানিবাসে সেনা সদস্যদের জন্য ব্যারাক, সেনা ছাউনি, প্রশিক্ষণ এবং আবাসন প্রকল্পসমূহ। সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যগণ, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা, মিরপুর ও পোস্তগোলা সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাগণ এবং সকল পদবির সেনাসদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বৈদেশিক বাহ্যিক যে কোন হুমকি মোকাবেলায় সদা সতর্ক থাকতে হবে।’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘দেশের সম্পদ’ এবং মানুষের ‘ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই পেশাদারিত্বের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্ এবং কল্যাণময় জীবনের অধিকারী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের কর্তব্য সম্পাদনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি’। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সেনা সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর সরকার সর্বদাই জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়, শাসক হিসেবে নয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সেবা করার জন্য আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা আমরা পেয়েছি। তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনাকালীন যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। তাঁর নির্দেশেই ১৯৭২ সালে কুমিল্লায় গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী অপারেশন উত্তরণ-এর আওতায় সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছে। গত বছরের জুন মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে সমগ্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দ্রুত পুনরুদ্ধার অভিযান ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য, পানি ও চিকিত্সা সেবা দিয়ে জনগণের সেবায় আপনারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় রাঙ্গামাটিতে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন দুইজন সেনা কর্মকর্তাসহ পাঁচজন সহকর্মীকে হারানোর দুঃখজনক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

 

সেনাবাহিনী তার মূল কার্যক্রমের পাশাপাশি সবসময়ই জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত করেছে একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের পেশাগত দক্ষতার কারণে দীর্ঘ প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ তদারকিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যেমন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্প, হাতিরঝিল সমম্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণ, মহিপাল ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং থানচী-আলীকদম সড়ক নির্মাণ দায়িত্ব আপনাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com