শনিবার, ১৩ Jul ২০১৯, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খামখেয়ালি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খামখেয়ালি

নিজেস্ব প্রতিবেদন :

আজ থেকে গুনে গুনে ১৬৩ দিন পর শুরু হবে চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। কিন্তু কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তহীনতায় পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খামখেয়ালিপনাই ফুটে উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের এমন খামখেয়ালির কারণে চরম উকণ্ঠায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবক মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ।

আগামী ১ নভেম্বর চলতি বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর জেএসসি ও জেডিসি মিলিয়ে ২০ লাখের মতো শিক্ষার্থী অংশ নেবে। গত মার্চ মাসেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করলেও শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত জানতে পারছে না কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যখন যা খুশি মনে হচ্ছে তাই করছে। আর মন্ত্রণালয়ের এমন অপরিপক্বতা চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অস্বস্তিতে রয়েছেন তাদের অভিভাবক ৪০ লাখ মা-বাবা। উৎকণ্ঠায় আছেন ২০ লাখ শিক্ষার্থীর কমপক্ষে ৭ জন করে ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষক।

যদিও গতকাল রোববার এক সভায় আগামী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা থেকে নম্বর ও বিষয় কমানোর বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার ২৭ মে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারপর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

সেই হিসাবে ১৬৩ দিন থেকে আরো ৭ দিন কমে পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫৬ দিন আগে জেএসসি ও জেডিসিতে কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে সেটির সিদ্ধান্ত জানাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষা থেকে সাতটি বিষয়ে মোট ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি বিষয়ে মোট ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। গত ৮ মে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা এই দুই পরীক্ষায় নম্বর ও বিষয় কমানোর প্রস্তাব করেছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনও বলেছেন, এনসিসির বৈঠক শেষেই সবকিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছর ২০০ নম্বরের পরীক্ষা কমে যাবে। কিন্তু এটা বছরের পাঁচ মাস যাওয়ার পর কেন জানাতে হবে? শিক্ষার্থীরা পুরো বছরের অর্ধেক সময় পড়ল এক সিলেবাসে আর বাকি অর্ধেকেরও কম সময়ে পড়বে আরেক সিলেবাসে।

রাগে-ক্ষোভে অভিভাবকরা বলছেন, বছরের এই সময়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমানোর জন্য যে পরিবর্তনের কথা বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাতে চাপ আরো বেড়ে যাবে, যার খেসারত দেবে শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে ভুগবে অভিভাবক। অভিভাবকরা পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, চাপ বাড়ানোর সময় কি শিক্ষার্থীদের কথা মনে ছিল না? কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বছরের মে মাসের শেষের দিকে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেএসসি ও জেডিসিতে পরীক্ষা কমানোর কথা বলে বাংলা ও ইংরেজির মতো বিষয়ে ১০০ নম্বর কমিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ গেল বছর পর্যন্ত বাংলায় ১৫০ এবং ইংরেজিতে ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা হতো। এ বছর পরীক্ষা হবে বাংলায় ১০০ এবং ইংরেজিতে ১০০ নম্বরের। এর মধ্যে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র নামে কিছু থাকছে না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা আগে দুটো পত্রে পরীক্ষা দিলেও এখন এক প্রশ্নে দুটো পত্রের পরীক্ষা দেবে। বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ এবং ইংরেজি সাহিত্য ও গ্রামার একই সঙ্গে পরীক্ষা দেবে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা কমলেও শিক্ষার্থীদের বিষয় কিংবা সিলেবাস কমেনি। এতে শিক্ষার্থীদের কষ্ট আরো বাড়বে। এ ছাড়াও চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে গণিত, ধর্ম, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা আগের মতো, আগের নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ২০১৮ সালে না করে ২০১৯ সালের জেএসসি পরীক্ষা থেকে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করলে সুফল পাওয়া যাবে।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com