শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

চিকিৎসকের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

চিকিৎসকের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

সাংবাদিক কন্যা শিশু রাইফার মৃত্যুতে দায়িত্বরত তিন চিকিৎসকের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাইফা খান যখন তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয় তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। ওই সময় সংশ্লিষ্ট নার্সদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার দক্ষতা বা জ্ঞান কোনোটাই তাদের ছিল না। শিশু রাইফাকে অসুস্থতার জন্য ম্যাক্স হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে শেষ চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অভিভাবকদের ভোগান্তি চরমে ছিল। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিধান রায় চৌধুরী শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি এবং ডাক্তার দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডাক্তার শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন সময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করেননি বলে শিশুর পিতা-মাতা অভিযোগ উত্থাপন করেছে, যা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

তদন্তে স্পষ্ট যে, হাসপাতালে রোগী ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি প্রকট। চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা প্রদানে সমন্বয়হীনতা ও চিকিৎসাকালীন মনিটরিংয়ের অভাব দেখা যায়। অদক্ষ নার্স ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল রয়েছে। বিশেষত, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি সংকট প্রবল। প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলো হলো- চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ম্যাক্স হাসপাতালের সার্বিক ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অতিদ্রুত সংশোধন করা অপরিহার্য। কর্তব্যরত নার্সরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপ্লোমাধারী থাকার নিয়ম থাকলেও উক্ত হাসপাতালে তা নেই। ডিপ্লোমা নার্স দ্বারা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে হবে এবং রোগীর অভিভাবককে যথাসময়ে রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসার ব্যাপারে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবগত করতে হবে। উল্লেখ্য, ২৯শে জুন রাত ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খানের একমাত্র কন্যা রাফিদা খান রাইফা মারা যায়। অভিযোগ উঠে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় মৃত্যু হয় রাইফার। রাইফার মৃত্যুর পর থেকে অভিযুক্ত ডাক্তার, ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধ বিএমএ’র চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবালের সনদ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সবগুলো সংগঠন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামল বলেন, যেহেতু সিভিল সার্জনের তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে রাইফার অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আর দেরি নয় দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা।
সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস বলেন, সময়ক্ষেপণ না করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। সিইউজের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন, রিপোর্টে রাইফার চিকিৎসায় গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। আমরা চাই এর দ্রুত বাস্তবায়ন।

সময়ের ধারা নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com