শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫২ অপরাহ্ন

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ তেঁতুলিয়া ও রাজারহাটে

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ তেঁতুলিয়া ও রাজারহাটে

দেশে চলছে মাঝারি মানের শৈত্যপ্রবাহ। আজ রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায়। আজ এ দুই উপজেলায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার দেশের সর্বরিম্ন ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। আর তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড হয় ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ্ জানান, রোববার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী থেকে রহিদুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামে রাজারহাটে একই ৭ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার এই রাজারহাটেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা ছয় দিন ধরে ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী তেঁতুলিয়া জনজীবন। শীতের পারদে যেন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত অবশ হয়ে আসে পুরো শরীর। গতকাল থেকে সকালে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়লেও রোদে থাকছে না কোন উষ্ণতার পরশ। কনকনে শীত আর প্রবাহিত হিমেল হাওয়া বয়ে চলেছে। দিনভর গরম কাপড় পরে থাকলেও শরীর থেকে যেন নামছে না শীত। এতে করে হতদরিদ্র, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের প্রকোপে পোহাচ্ছে দূর্ভোগ।

এবার শীতের তীব্রতা থাকলেও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র মিলছে না এসব হতদরিদ্র, অসহায় ও নিম্ম আয়ের মানুষদের কপালে। উপজেলার দেড় লাখের বেশি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমান্ত জনপদ হিসেবে অসহায়, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। সে তুলনায় শীতবস্ত্র বিতরণের তেমন একটা উল্লেখযোগ্য চিত্র চোখে পড়েনি এখনো।

এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার প্রকোপের প্রথম দিকে লাগাতার চলা লকডাউনে ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে আসছিলেন খাদ্য সহযোগিতা। এ কারণে এ প্রবল শীতে গতবারের মতো তেমন একটা সীমান্ত এ জনপদে শীতবস্ত্র বিতরণ চোখে পড়েনি।

তবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শীতের গরম কাপড় দিলেও তা অপ্রতুল। হাঁড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে খড়খুটো জ্বালিয়ে শীত নির্বারণের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে শীতবস্ত্র বঞ্চিত অসহায় মানুষদের।

এদিকে, শীতের তীব্রতা থাকলেও জীবিকার তাগিদেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রার শীতকে গায়ে মেখেই কাজে বের হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও হাড়কাঁপা শীতের মধ্যেই কাজে যেতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোকে। তারা কেউ যাচ্ছেন পাথর তুলতে, কেউ চা বাগানে, কেউ দিনমজুর হয়ে ক্ষেতে আর কর্মজীবি নারীরাও ছুটছেন পাথরের কাজ করতে। পরিবারের কথা চিন্তা করেই জীবিকার তাগিদে শীতের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিদিন।

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com